October 5, 2022
আলমগীর মিয়া.

আলমগীর মিয়া.

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : দৈনিক নবীগঞ্জের ডাক।

নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শী ইউনিয়নের রাইয়াপুর গ্রামে তাহিরপুর মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র রবিউল আহমেদ (১৩) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন বাড়ির উত্তর পাশে মসজিদ সংলগ্ন একটি গাছে রবিউল আহমেদকে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ডালিম আহমদের নির্দেশনায় একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে থানায় নিয়ে আসেন। রবিউল আহমেদ উপজেলার কুর্শী ইউনিয়নের রাইয়াপুর গ্রামের মৃত ছালিক মিয়ার পুত্র। রবিউল আহমেদ তাহিরপুর মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ডালিম আহমদ।

নবীগঞ্জ উপজেলার ১২নং কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীমতপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক শেখ মোস্তফা কামাল আবু তালিবের উদ্যোগে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা, কলম, স্কেল শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জানা যায়- নবীগঞ্জ উপজেলার পৌরসভায় অবস্থিত পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের দারুল হিকমাহ জামেয়া ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসা ও উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত হযরত শাহজালাল লতিফিয়া মাদ্রাসায় গতকাল সোমবার দুপুরে ও বিকেলে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা, কলম, স্কেল শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দারুল হিকমাহ জামেয়া ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল আহাদ ও আলী বাহার, আব্দুল মোছাব্বির, শেখ সফিকুর রহমান মিন্টু, শেখ মনিরুল ইসলাম, শেখ জুবায়েদ আহমেদ, শেখ মঈনুল ইসলাম, শেখ সালাউদ্দিন ইসলাম, মোঃ করছু মিয়া প্রমুখ। আউশকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত হযরত শাহজালাল লতিফিয়া মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি মুজিবুর রহমান, মোঃ রখি মিয়া, মোঃ মিরাস উদ্দিন, শেখ সফিকুর রহমান মিন্টু, শেখ জুবায়েদ আহমেদ, শেখ মঈনুল ইসলাম, শেখ সালাউদ্দিন ইসলাম প্রমুখ। এ সময় শেখ মোস্তফা কামাল আবু তালিব মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন- শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড শিক্ষার্থীদের দেশ সেবারলক্ষ্য নিয়ে মানব কল্যানে লেখা পড়ার বিকল্প নেই। তাই সকল শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করার আহবান জানান।

নবীগঞ্জে কুর্শি ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদের বিরোদ্ধে একটি প্রাইভেট গাড়ি চালককে মারধর করার অভিযোগ উঠৈছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে  মুর্হত্বে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমের  সারা জেলাসহ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা নবীগঞ্জ থানাকে অবগত করে আজকে রাতে প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার বিকেলে । শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এনিয়ে উপজেলা  জুড়ে তোলপাড় হচ্ছে। জানাযায়, বাহুবল উপজেলার ¯œানঘাট ইউনিয়নের অমৃর্তা গ্রামের প্রাইভেট কার চালক আব্দুর জব্বার খান (৩০) গত রবিবার বিকেলে কুর্শি ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্টানে আসেন। এসময় কুর্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমানের এনাতাবাদ গ্রামের বাড়ি সামনে ড্রাইভার আব্দুর জব্বার তার গাড়িটি সাইট করে রাখেন। কিছুক্ষন পর চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদ গাড়ি নিয়ে তার বাড়িতে ডুকতে চেষ্টা করেন গাড়ির জন্য টুকতে না পেরে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওই চালককে বেধরক মারপিট করেন। এসময়ে চেয়ারম্যানের থাব্বরে তার কান দিয়ে রক্ত আসে। এসময় তিনি ওই চালকের শোর চিৎকারে তার মালিক তোফাজ্জুল হোসেন এসে চেয়ারম্যানকে থামানো চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষিপ্ত চেয়ারম্যান এসময় তার লোকজন ডেকে এনে গাড়িটি ভাংচুর করার জন  বলেন। পরে গাড়ির মালিক তোফাজ্জল হোসেন লোকজনের সহায়তায় গাড়িটি ও আহত শ্রমিক জব্বার খান কে নিয়ে বাহুবল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তাকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত আব্দুর জব্বারের গাড়িতে থাকা লোকজন স্থানীয় নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরীকে বিষয়টি জানান, চেয়ারম্যানের সাথে কথা হলে তিনি এবিষয়ে কোন কোন মন্তব্য করতে চাননি। কোন সমাধান দিতে পারেননি।এবিষয়ে কোন সমধান না পেয়ে গাড়িরর ড্রাইভার নবীগঞ্জ, বাহুবল ও হবিগঞ্জ  শ্রমিক  ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি জানালে মুহুর্তে প্রশাসনিক লোকজন ও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমের দেশ বিদেশের লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করতে দেখা গেছে। চেয়াম্যানের হাতে শ্রমিক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় শ্রমিক নেতাদের মােেঝ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারের  দাবিতে শ্রমিক নেতারা মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসুচির নিয়ে আজ সোমবার রাতে পরামর্শ সভা । ঘটনাটি সমধান করার জন্য চেয়ারম্যান খালেদের দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এবিষয়ে নবীগঞ্জে কুর্শি ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষযটির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত নয় কেবা কারা করছে আমি জানি না। নবীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম সুমন, বলেন নবীগঞ্জে কুর্শি ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদ সকাল থেকে তিনি কয়েকবার আমার সাথে যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি আপোষে মীমাংসা করা জন্য বলেছেন। আমি গাড়ির মালিকের সাথে কনফারেন্সে কথা বলে দিয়েছি। শ্রমিক নেতা অনু আহমদ বলেন, চেয়ারম্যান খালেদ আমার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে বলেছেন, তিনি বিষয়টি আপোষে মীমাংসা করতে রাজি। আমরা কোন আন্দোলন না করার জন্য। আমরা আজকে সন্ধ্যায় এবিষয়ে পরামর্শ সভায় বসবো। বাহুবল উপজেলার ¯œানঘাট ইউনিয়নের অমৃর্তা গ্রামের প্রাইভেট কার চালক আব্দুর জব্বার খান বলেন,আমি গাড়ির সরাতে সামান্য বিলম্ভ হওয়ার জন্য চেয়ারম্যান সাব আমাকে মারপিট করেছেন। আমার কান দিয়ে রক্ত আসছে। আমি এবিষয়ে কোন আপোষ করবো না। কালকে মামলা করবো।  নবীগঞ্জ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোফায়েল আহমদ বলেন, নবীগঞ্জে কুর্শি ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদ আমাদের শ্রমিককে অন্যায় ভাবে মারপিট করে আহত করেছেন। তিনি আবার তার লোকজন দিয়ে ফেসবুকে উল্টাপাল্টা লেখালেখি করাচ্ছেন। আমরা এসঠিক বিচার না পেলে দুই একদিনের মধ্যে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করবো। আজকে  সোমবার রাতে কর্মসুচী নিয়ে পরামর্শ সভা করবো।  এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমদ বলেন আমি ঘটনাটি শোনেছি এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি।অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

আগামী আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আলহাজ্ব ডাঃ মোঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে গণভবনে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় জেলা পরিষদের দলীয় প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আমির হোসেন আমু, শেখ সেলিম, কাজী জাফরুল্লাহ, কর্নেল ফারুক খান, ড. আব্দুল রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, মাহবুব উল আলম হানিফ।
তফসিল অনুযায়ী-মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর। গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম ছিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডঃ মোঃ আব্দুল হামিদ এর আদেশক্রমে আলহাজ্ব ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। এর আগে ২০১১ সনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আলহাজ্ব ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে প্রথম হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। তখন তিনি ৫ বছর সততা ও নিষ্টার সাথে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে প্রজাতন্ত্রের আদেশ অনুযায়ী প্রশাসক পদ বিলুপ্ত করেন জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ, পৌর পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, মেয়র ও কাউন্সিলরগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সে অনুযায়ী ২০১৬ সনের ডিসেম্বর মাসে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আলহাজ্ব ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি সকলের সহযোগিতায় দক্ষতার সাথে জেলা পরিষদের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। গত ১৭ এপ্রিল জেলা পরিষদ ভেঙ্গে দেয়ার পর জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পাবার জন্য অনেকেই লবিং শুরু করেন। কিন্তু ১০ দিনের মাথায় পুনরায় ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরীকেই হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে জেলা পরিষদের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলায় শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন, মসজিদ, মন্দির, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে মেজর জেনারেল এম এ রব বীরউত্তম স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণ, ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এম এ রব বীরউত্তম স্মরনে হবিগঞ্জ জেলা সদরের প্রবেশ মুখে দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ, প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ আসন বিশিষ্ট জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম নির্মাণ, প্রায় ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ উন্নয়ন, সাড়ে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নবীগঞ্জের বাউসা ইউনিয়নের শাখা বরাক নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণ, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘নাট মন্দির’ এর উন্নয়ন, ১ কোটি টাকা ব্যয়ে শায়েস্তাগঞ্জে অবস্থিত রাধা কৃষ্ণ মন্দির আধুনিকায়ন, ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আলেয়া জাহির কলেজের একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ, ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কুতুবের চক ঈদগাহ উন্নয়ন, প্রায় ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার জরাজীর্ণ বাস ভবন উন্নয়ন, প্রায় সাড়ে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে লাখাই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের মসজিদের সামনের খালের উপর একটি ফুট ব্রীজ নির্মাণ, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাহুবল উপজেলার করাঙ্গী নদীর ধলিয়া ছড়ার উপর একটি ফুট ব্রীজ নির্মাণ, প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সার্কিট হাউজের পাশে জেলা পরিষদের মালিকানাধিন পুরোনো জড়াজীর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে ৪তলা বিশিষ্ট ‘আধুনিক সদর ডাক বাংলো’ নির্মাণ কাজ চলছে। ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজার রাস্তাটি আরসিসি করণ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ধরে রাখতে জেলা পরিষদ অফিস চত্ত্বরে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল নির্মাণ ও এর চতুর পার্শ্বে সৌন্দর্য বর্ধন, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ অফিস ভবনে মুজিব কর্ণার স্থাপন, ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এম রব গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে মুজিব গ্যালারী স্থাপন করা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিন, ব্রীজ, কালভার্ট, রাস্তার উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী মৌলভীবাজার সরকারী হাই স্কুল থেকে এসএসসি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইএসসি, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বে সাথে এমবিবিএস পাশ করেন। এর পর তিনি ঢাকা বারডেম থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ইংল্যান্ড থেকে ডিপ্লোমা ইন এনড্রোক্রাইনজি সমাপ্ত করেন। ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী ১৯৭৬ থেকে ৭৮ সন পর্যন্ত ছাত্রলীগ সিলেট মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ থেকে ৭৯ সাল পর্যন্ত সিলেট মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও ১৯৮০ সনে ইন্টার্ণি ডক্টারস এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ২ মেয়াদ হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী দীর্ঘ বছর হবিগঞ্জ জেলা বিএমএ, স্বাচিপ, হবিগঞ্জ জেলা ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে হবিগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাইমুদ্দিন এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য।

জ্বালানি তেল, পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ও নারায়নগঞ্জ, ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গুলিতে বিএনপি’র ৩ কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়- বৃহস্পতিবার ( ৮ই সেপ্টেম্বর) বিকেলে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য বিএনপির বিবদমান দু’গ্রুপ ভিন্ন স্থানে সমবেত হয়। সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার নেতৃত্বে শহরের গোল্ডেন প্লাজায় ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সরফরাজ চৌধুরীর নেতৃত্বে অপর পক্ষ শেরপুর রোডস্থ বাংলা টাউনের সামনে অবস্থান নেয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব জিকে গউছসহ জেলা উপজেলার নেতৃবৃন্দ। বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিকাল ৩ টা থেকে গোল্ডেন প্লাজা ও বাংলা টাউনে অবস্থানরত বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় মিছিল নিয়ে বের হতে চাইলে পুলিশের বাধাঁয় আটকা পড়ে। এক পর্যায়ে বিকাল সোয়া ৪ টায় কেন্দ্রীয় নেতা জিকে গউছ বাংলা টাউনে পৌছলে নেতাকর্মীরা শ্লোগান দিতে থাকে। এদিকে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা গোল্ডেন প্লাজা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এ সময় পৌর মেয়র বিএনপি নেতা ছাবির আহমদ চৌধুরী ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া পুলিশের দায়িত্বরত ওসি (অপারেশন) আব্দুল কাইয়ুম ও এসআই স্বপন সরকারের সাথে কথা বলেন। এ সময় বিক্ষোদ্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পুলিশ গোল্ডেন প্লাজার প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রাখেন। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীদের অবরোদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে গোল্ডেন প্লাজার পিছনের ফটক দিয়ে বের হয়ে নেতাকর্মীরা মধ্যবাজারে হোটেল এলাহিবাগ এর সামনে  অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে। এ সময় পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলাকালে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাঠ বন্ধ করে দেয় এবং সাধারণ মানুষ দিকবেদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এদিকে বাংলা টাউনের  সামনে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সরফরাজ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির অপর পক্ষ বিক্ষোভ মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ কঠোরভাবে বাঁধা দেয়। এতে বিক্ষোভ মিছিল করতে না পেরে সেখানেই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব জিকে গউছ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনরি আহ্বায়ক সরফরাজ চৌধুরী। যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব চৌধুরীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন  যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান শেফ,ু জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক জালাল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক কাউন্সিলর সফিকুর রহমান সিতুসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। অপর দিকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ন সমাবেশে বিনা উস্কানিতে পুলিশ নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে এতে আমাদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমেদ বলেন, পুলিশের সাথে বিএনপির কোনো সংঘর্ষ হয়নি, বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছুড়াছুড়ি হয়েছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে ছিল। আমাদের কেউ আহত হয়নি। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জিকে গউছ বলেছেন, বিএনপির দুর্বল নেতৃত্বের কারনে নবীগঞ্জে আজ এই অবস্থা। নবীগঞ্জ বিএনপিকে  ঢেলে সাজাঁতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই। তিনি বলেন, পুলিশ আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। আওয়ামীলীগ আমাদের প্রতিপক্ষ। তাই দলকে তৃর্ণমুল পর্যায়ে সুসংঘটিত করে সরকার পতন আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। তিনি বলেন দ্রব্য মুল্যের আগুন নিভানোর জন্যই আজকের এই কর্মসুচী ছিল, সরকার পতনের সভা এটা নয়। সরকার পতনের জন্য ডাক যখন আসবে, কোন ব্যরিকেডই তখন আমাদের রুখতে পারবে না।

নবীগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পৌর সভাকক্ষে রিক্সা, অটোরিক্সা, মিশুক টমটম ভাড়া নির্ধারণ করণের লক্ষ্যে শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিক প্রতিনিধি ও এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিগণের
উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময়
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রিক্সা, অটোরিক্সা, মিশুক টমটম উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর ফজল আহমেদ চৌধুরী। এতে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন নবীগঞ্জ উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং ৩৪/২১ এর (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) সন্জব আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি রোস্তম আলী , সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম মিয়া, রিক্সা অটো রিক্সা মিশুক টমটম শ্রমিক সমিতি নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আহমদ ঠাকুর রানা, প্যানেল মেয়র-২ আব্দুস সোবহান, কাউন্সিল যুবরাজ গোপ, মহিলা কাউন্সিলর পূর্ণিমা রাণী দাশ, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিগণের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বশীর আহমেদ চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিল রুহুল আমিন রফু, সাবেক মেম্বার রফিক মিয়া, নবীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দাল করিম, নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক খয়রুল বশর চৌধুরী, অটো রিক্সা মিশুক টমটম শ্রমিক সমিতির (পূর্ব তিমিরপুর পয়েন্ট) কমিটির সভাপতি মোঃ হিলাল মিয়া ও সহ-সভাপতি মোঃ গাজী মিয়া, নবীগঞ্জ উপজেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রশিদ, ইনাতগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সভাপতি জালাল আহমেদ, শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা সাজন মিয়া, আব্দুর রউফ, রাশিদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, আব্দুল কাদির, নুর ইসলাম প্রমুখ। নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বলেন নবীগঞ্জ পৌরসভা আপনাদের সকলের তাই যানজট মুক্ত শহর ও পরিছন্ন শহর গড়তে আপনাদের সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

 

মহান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি, কীর্তিনারায়ণ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, দৈনিক মাতৃভূমি পত্রিকার প্রতিষ্টাতা সম্পাদক ও প্রকাশক এবং নবীগঞ্জের কৃতি সন্তান মেজর অব. সুরঞ্জন দাশ ও তাঁর সহধর্মিণী কীর্তিনারায়ণ কলেজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুপর্না দাশের আকষ্মিক মৃত্যুতে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদও উদ্দ্যেগে শোক বই উদ্বোধন করা হয়েছে। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ)সুরঞ্জন দাশের আতœার শান্তি কামনায় ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্টানে উপস্থিত সকলে কালো ব্যাজ পরিধান করেন। সোমবার (০৮ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদের শোক বইয়ের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম, করগাও ইউপি চেয়ারম্যান নির্মেলেন্দু দাশ রানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয় ভূষন রায়, জালাল সিদ্দিকী, মোর্শেদুজ্জামান রশিদ, তাজ উদ্দিন, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিঠু, উত্তম কুমার পাল, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক লোকমান আহমদ খান, হাজ্বি খয়রুল বসর চৌধুরী, অধক্ষ্য তনুজ রায়, টিটু দাশ, বিপুল দেব, হরিপদ দাশ, মোঃ আলমগীর মিয়া, রতœদীপ দাশ রাজু,ফাহিমা আক্তার নিশা মলয় দাশ প্রমুখ। এসময় চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম সপ্তাহ ব্যাপি শোক বইতে শুভানুধ্যায়ী ও বিশিষ্টজনের মেজর অব. সুরঞ্জন দাশকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্তব্য ও স্বাক্ষর প্রদান করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে যেতে হলে সৌদি দূতাবাসে গিয়ে দিতে হবে আঙ্গুলের চাপ। শনিবার আঙ্গুলের চাপ দেয়ার শেষদিন তাই সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ২০-২৫ জন মহিলা আঙ্গুলের চাপ দিতে আসছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন পরিষদে। ফরম ফিলআপের পর অধিকাংশ মহিলা দিয়েছেন আঙ্গুলের চাপও। এভাবেই অভিনব প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সৌদি যেতে আগ্রহী নারীদের কাছ থেকে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। শনিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের ফাঁকে এমন প্রতারণা করতে গিয়ে আটক করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অপারেটরসহ ৩ জন। জব্দ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের আঙ্গুলের চাপ গ্রহণ পরবর্তী নতুন ভোটার হওয়ার ৬৫টি স্লিপসহ বিভিন্ন জাতীয় পরিচয় পত্র। 
আটককৃতরা হলেন- নির্বাচন কমিশনের ভোটার হালনাগাদের প্রজেক্টের কম্পিউটার অপারেটর বানিয়াচং উপজেলার জমশেদ মিয়া (৩০), সুনামগঞ্জ পৌরসভার ইকড়ছই গ্রামের আবু সুফিয়ান (৩৫), মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফাহিম চৌধুরী (২৮)। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানায়- গত (৪ আগস্ট) থেকে নবীগঞ্জের বাউসা ইউনিয়নে চলছিল নতুন ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম।  শনিবার (৬ আগস্ট) শেষদিনে অন্যান্য দিনের ন্যায় নতুন ভোটার হওয়ার ফরমে ঠিকানা জন্মনিবন্ধন নাম্বারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার পর আঙ্গুলের চাপ দিচ্ছিলেন ওই ইউনিয়নের নতুন ভোটাররা। এ সময় নির্বাচন কমিশনের ভোটার হালনাগাদের প্রজেক্টের কম্পিউটার অপারেটর জমশেদ মিয়া নতুন ভোটার হওয়ার ফরমে ঠিকানা, জন্ম নিবন্ধন নাম্বারের তথ্য অপূরণ রেখেই সুনামগঞ্জের সুলতানা আক্তার সুমীকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের নতুন ভোটার  করার জন্য আঙ্গুলের চাপ গ্রহণ করেন।এরপর নেত্রকোনার ফাহিমা ও বিশ্বনাথের রিমা বেগমের আঙ্গুলের চাপ দেয়ার সময় অপরিচিত দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে আবু সুফিয়ান, ফাহিম চৌধুরী ও ৩ মহিলাকে আটক করা হয়। এ সময় মোফাজ্জল নামে এক ব্যক্তি ২২জন নারীসহ পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমেদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জমশেদ মিয়া (৩০), সুনামগঞ্জ পৌরসভার ইকড়ছই গ্রামের আবু সুফিয়ান (৩৫), মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফাহিম চৌধুরী (২৮)কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।সুনামগঞ্জের সুলতানা আক্তার সুমী জানান- আমি ৩ বছর সৌদি আরবে ছিলাম, ১ বছর পূর্বে দেশে এসেছি। আবার আমাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আবু সুফিয়ান নামে এক দালাল ১৫ হাজার টাকাসহ পাসপোর্ট নেয়, সুফিয়ান জানায় সৌদি যেতে হলে অ্যাম্বেসিতে আঙ্গুলের চাপ দিতে হবে। তাই সুফিয়ান তার সহযোগী মোফাজ্জল মিয়া ও ফাহিম চৌধুরীর মাধ্যমে সৌদি আরবে যেতে ইচ্ছুক আমিসহ সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫জন নারীকে আঙ্গুলের চাপ দেয়ার জন্য সৌদি অ্যাম্বেসিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুটি মাইক্রোবাসে করে এখানে নিয়ে এসেছে, আমি আঙ্গুলের চাপও দিয়েছি। নেত্রকোনার ফাহিমা আক্তার বলেন- আমি চট্টগ্রামে একটি গামেন্টেমে চাকুরী করি, সৌদি আরবে নেয়ার নাম করে সুফিয়ান নামে এক দালাল আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেয়। শনিবার সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য আঙ্গুলের চাপ দেয়ার শেষদিন এমন কথা বলে চট্টগ্রাম থেকে আমাকে এখানে আঙ্গুলের চাপ দেয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। ঝামেলার জন্য আমি আঙ্গুলের চাপ দেইনি।রিমা বেগম বলেন- সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আমিসহ ২৫ জন মহিলা সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ৪০-৫০ হাজার টাকা করে কয়েক লাখ টাকা সুফিয়ান তার সহযোগী মোফাজ্জল মিয়া ও ফাহিম চৌধুরীর কাছে দিয়েছি। আজ ফিঙ্গার দেয়ার জন্য এখানে নিয়ে এসেছে। আমরা গ্রামের মানুষ আমরা তো আর বুঝিনি যে বিদেশের জন্য ফিঙ্গার দিতে এনে এখানে আমাদের নতুন ভোটার করাচ্ছে।আজিজুর রহমান নামে স্থানীয় এক যুবক জানান- ৩ দিন ধরে চলছে নতুন ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম, আজকে শেষদিনে অন্যান্য জেলার বাসিন্দাদের বাউসা ইউনিয়নের ভোটার করার জন্য নিয়ে আসা হলে প্রতারণার এক পর্যায়ে ধরা পড়ে। বাহিরের জেলার কতজন আঙ্গুলের চাপ দিয়ে বাউসা ইউনিয়নের নতুন ভোটার হিসেবে সার্ভারের তথ্য গিয়েছে তা কিভাবে নির্ণয় করবে নির্বাচন কমিশন। এঘটনায় তিনি জড়িতদের শাস্তির দাবী জানান। বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান শিশু মিয়া বলেন- বিভিন্ন জেলা থেকে  তথ্য গোপন করে বাউসা ইউনিয়নে ভোটার করার জন্য কয়েকজন দালাল ও নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে আমার ইউনিয়নে নিয়ে আসা হয়, আঙ্গুলের চাপ দেয়ার সময় গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় মানুষ অপরিচিত দেখে তাদেরকে আটক করে। 
এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন- ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের ফাঁকে অন্যান্য উপজেলার নাগরিকদের নবীগঞ্জের বাউসা ইউনিয়নে নাগরিক করার জন্য ভোট তোলা হচ্ছে এমন সংবাদে ঘটনাস্থলে এসে এর প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি, বাউসা কেন্দ্রের টিম লিডার মতিউর রহমান বাদী হয়ে আটককৃত দালাল চক্র ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে, আমাদের কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন- যারা আজকে ভোটার হয়েছেন তাদের তথ্য অফলাইনে রয়েছে, উদ্ধার হওয়া স্লিপ এর সিরিয়াল নাম্বার অনুযায়ী তথ্য যাচাই-বাছাই করে এগুলো বাদ দেয়া হবে, দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ডালিম আহমেদ বলেন- সৌদি যাওয়ার জন্য অ্যাম্বাসিতে আঙ্গুলের চাপ দেয়ার নাম করে একটি চক্র বিভিন্ন জেলা থেকে মহিলাদের বাউসা ইউনিয়ন অফিসের চলমান নতুন ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে নিয়ে আসে। এখানে নতুন ভোটার হওয়ার ফরমে পর্যাপ্ত পরিমান প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়েই অন্যান্য জেলার মহিলাদের আঙ্গুলের চাপ গ্রহণ করা হয়। এ ঘটনায় কম্পিউটার অপারেটরসহ ৩জন প্রতারককে আটক করা হয়েছে, মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
 
 
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular