Shamim Chowdhury

Shamim Chowdhury

সম্পাদক : দৈনিক নবীগঞ্জের ডাক। 

তিন বারের প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতিবাজ হিসাবে জনগণের কাছে প্রমান করানোর জন্য বর্তমান সরকার 'কাট এন্ড পেস্ট' আর কম্পিউটারের মাধ্যমে ভয়েজ সৃষ্টির এই ভিডিও ক্লিপটি তৈরী করে।আলজাজিরার লগোর সাথে 'দি ন্যাশনাল' এবং 'জি.আই.এন' নাম দুটো মনগড়া চ্যানেলের নামে ঢুকিয়ে এই ভিডিও ক্লিপটি তৈরী করে। যদিও এই দুই নাম বিশ্বের কোথাও কোন টিভি চ্যানেল নাই এবং এই ভিডিও ক্লিপটি বিশ্বের কোন টেলিভিশন চ্যানেলে চলেনি ।

 

 

 

 

 

 

কানেকটিকাটে ডাঃ উমা রানী মধুসূদনা কোরুনা মহামারীর ফ্রন্টলাইনের যুদ্ধা। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাকে সম্মান জানিয়ে পুলিশ, ফায়ার ফাইটার, সর্স্তরের জনতা বাড়ির সম্মুখে ধন্যবাদ সাইন প্রোথিত করে, এবং পুলিশ, ফায়ার ফাইটার সাইরেন বাজিয়ে তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে!!

ডাঃ উমা মাদুসুদানা নিউইয়র্কে একটি হসপিটালের কাজ করেন। উনার নিরলস প্রচেষ্টায় অনেক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রুগী সুস্থ হয়েছে। তার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কমিউনিটি কর্মী আর সুস্থ হওয়া রুগী ও তাদের স্বজনদের মোটর শোভাযাত্রা ডাক্তারের বাড়ির সামনে।

অথচ বাংলাদেশের ডাক্তারর মঈন, রুগীর সেবা দিতে গিয়ে নিজে কোরুনা রোগাক্রান্ত হলে নিজের কর্মস্থলে সিলেট ওসমানী ম্যাডিকেলে চিকিৎসা সেবা পান নাই। চেয়েও পাননি এয়ার এম্বুলেন্স সাপোর্ট , এমনকি নিজের টাকায়ও।
ড: মইনের জীবন চলে গেলো নির্ভয় বিভাগের হেলাফেলায়।
তাই বাংলাদেশে ডাক্তার না হয়ে বিসিএস দিয়ে একজন এসিল্যান্ড হওয়াও যুক্তিযুক্ত। একজন এসিল্যান্ড চাইলে এয়ার এম্বুলেন্স পায় অথচ ডাঃ মঈন পায়নি , যে কিনা মেডিক্যাল কলেজের এসিসেন্ট প্রফেসর, এসিল্যান্ডের চেয়ে অনেক উপরে তার রেঙ্ক।
ভালো ছাত্রের বাবা মা তার সন্তানদের ডাক্তার -ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্ন দেখেন। প্রতিটি ক্লাসে প্রথম দিকের সেরা ছাত্ররাই বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে , এখন সময় এসেছে , চিন্তা করার : আপনার মেধাবী সন্তানকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানিয়ে লাস্ট বেঞ্চের বখাটেদের হাতে তুলে দেবেন কিনা। এরাই বেশির ভাগ রাজনীতিবিদ আর প্রভাবশালী চাকুরে।

ময়মনসিংহে সেবা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ১২ চিকিৎসক-নার্সসহ ১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত চিকিৎসকেরা বলছেন, সরবরাহ করা নিম্নমানের পিপিই ও মাস্কের কারণেই আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।

সম্প্রতি এ হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসকসহ করোনা পজিটিভ হয়েছেন ১৯ জন। আরও অনেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ল্যাবে। আক্রান্তদের সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন চিকিৎসক নার্সসহ ৬৯ জন আছেন কোয়ারেন্টাইনে। একসাথে এতো স্বাস্থ্যসেবী আক্রান্ত ও কোয়ারেন্টাইনে চলে যাওয়ায় মেডিসিন ও শিশু বিভাগের দুটি ওর্য়াড, ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

আক্রান্ত চিকিৎসকেরা বলছেন, সরবরাহ করা নিম্নমানের পিপিই ও মাস্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। আর জীবনবাজি রেখে যারা কাজ করছেন তারাও রয়েছেন ঝুঁকিতে।

করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকরা বলেন, যে গাইডলাইন অনুযায়ী পিপিই বানানোর কথা তা বানানো হয়নি। মাস্কও এন-৯৫ না। 
এদিকে দ্রুত চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক নেতারা। বিএমএর সভাপতি ডা. মো. মতিউর রহমান ভূঞা বলেন,  মান সম্মত পিপিই এবং মাস্ক সরবরাহ করা উচিত।

তথ্য গোপন করে করোনা আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সংক্রমিত হচ্ছেন সেবা সংশ্লিষ্টরা। এভাবে চিকিৎসকরা আক্রান্ত হলে চিকিৎসা সেবা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা হাসপাতালের পরিচালকের।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে চিকিৎসা দেয়ার মতো ডাক্তার ১৫-২০ দিন পর আর পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। 
ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২০ জন চিকিৎসক, ১৪ জন নার্সসহ চিকিৎসা সেবা সংশ্লিষ্ট ৭৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।

বাংলাদেশকে মাস খানেক আগেও যারা সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর বলে জুর গলায় আওয়াজ দিতো এখন তাদের গলার আওয়াজ বসে গেছে।কোরুনা জনগণের সম্মুখে তাদের উলঙ্গ করে দিয়েছে। দেশ ও জাতির সম্মুখে এটি পরিষ্কার হয়েছে যে নেতা/নেত্রী নামক গলাবাজরা সিঁদেল চোর , চাল চোর আর ত্রাণ মারা ডাকাত।
এখন জনগণের সহানুভূতি আদাতের জন্য তাদের হৃদয়ে স্থান পাওয়ার জন্য নানা ধরনের সাহায্যের নাম ফটো সেশন শুরু করে দিয়েছে। ভুরি ভুরি ফোরসেশনের মধ্যে দুএকটির কথাই যথেষ্ট।
"কৃষকের সাহায্যে এম.পি. শামিমা শাহরিয়ারের ধান কাটার" খবর মেইন কয়েকটি স্ট্রিম মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয়। ফটোতে দেখা গেলো এম.পি সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা পাকা জমির মধ্যে নানান স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অঙ্গভঙ্গি করছেন। কারো হাতে কাস্তে নেই , নেই ধানের আটি ।
বাংলাদেশে অনাদিকাল থেকে চলে আসা সনাতন পদ্মতিতেই ধান কাটা হচ্ছে, এক হাতে ধানের গোছা ধরে আরেক হাতে কাস্তের পুছ দিয়ে ধান কাটা হয়। পরে জমায়িত ধান দিয়ে আটি বাধা হয়। এক পাশ থেকে ধান কাটা শুরু হয় আরেক পাশে গিয়ে শেষ হয়।
পাকা ধানের উপর শিলা বৃষ্টি হলেই ধান ঝরে যায়,
ঝড়ো হাওয়া হলেও ক্ষতি হয়। পাকা ধানের উপর হাটা চলা করতো রীতিমত দুশমনি , ধান ঝরে যাবে। পাকা ধানের উপর ফটোসেশনের নামে নেতা নেত্রীরা যদি হাঁটাচলা করেন তবে কৃষকের সব ধান ঝরে যাবে।
দয়া করে, মাথা খাটান, মানুষ হন , ফটোসেশনের নামে পাকা ধানে মই দিয়ে কৃষকের পেটে লাথি দেবেন না।

 

বাংলাদেশের সনাতন পদ্ধতিতে ধান কাটার দৃশ্য। 

 

Cab driver. Harvard dad. Covid-19 victim.

নিউ ইয়র্ক এখন ভৌতিক নগরী। রাস্তাঘাটে মানুষ নেই। আছে ভীতি। অদৃশ্য এক ভাইরাস নিয়ে ভয়াবহ আতঙ্ক। রাস্তাঘাট ফাঁকা। ফুটপাত খাঁ খাঁ করছে। সড়কগুলো দেখলে মনে হয়, মৃত্যুদূত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পর শোনা যায় সাইরেনের শব্দ।

যখন এই মহামারির শেষ হবে, তখন হয়তো কিছু চেনা মানুষ বেরিয়ে আসবেন, দেখা হবে আবার। আবার অনেক মানুষ আছেন, যাদেরকে আর কখনো দেখতে পাবেন না পরিচিতজন। শুধু নিউ ইয়র্কেই একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ মারা গেছেন। ২০০১ সালের ৯/১১ এর সন্ত্রাসী হামলায় এই শহর যে পরিমাণ মানুষকে হারিয়েছে তার কমপক্ষে চারগুন মানুষ মারা গেছেন এরই মধ্যে। তবে এবার যেসব মানুষ মারা গেছেন তাদেরকে শনাক্ত করা গেছে। এসব মৃত্যু পরিবারগুলোকে শোকসাগরে ভাসিয়ে গেছে। তাদের কাহিনী মানুষের কাছে জানানোর এক দায়িত্ব সাংবাদিকদের ওপর এসে বর্তায়।

এমন কাহিনীর একটি নাম মোহাম্মদ জাফর।
তিনি একজন বাংলাদেশি অভিবাসী। একজন পিতা। সন্তানদের সর্বোচ্চ শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি চালাতেন একটি হলুদ ক্যাব। মার্কিন স্বপ্ন পূরণের জন্য সব কিছু করার চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু গত ১লা এপ্রিল মারা যান জাফর। ব্রোঙ্কসের গান হিল রোডের কাছে একটি এপার্টমেন্টে তিন সন্তানকে করে গেছেন এতিম। তার চলে যাওয়া শুধুই একটি ট্রাজেডি। আপনি যদি নিউ ইয়র্কে গিয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো তার ক্যাবে চড়ে থাকবেন। কিন্তু কখনো ভাবেননি গাড়ির ভিতরে সামনের দিকের গ্লাসে যে মানুষটিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি কেমন। তিনি একজন দয়ালু মানুষ। মেয়ে ছাবিহা দ্বিতীয় গ্রেডে পড়ে। তাকে তিনি ম্যানহাটানের আপার ওয়েস্ট সাইডে অবস্থিত অভিজাত ট্রিনিটি স্কুলে নামিয়ে দিয়ে তবেই নিজের দিনের কাজ শুরু করতেন। তারপর সারাদিন গাড়ি চালাতেন। যখন মেয়ের ছুটি হতো, তাকে নিয়ে বাসায় ফিরতেন।

তার কঠোর কাজের এই ধারা প্রবাহিত হয়েছিল পরিবারের মধ্যে। তার ছেলে মাহতাব এখন অভিজাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি ও ইতিহাসের মতো ডাবল সাবজেক্টে পড়াশোনা করছেন। ভাই মাহতাবের পথ অনুসরণ করছিল ছাবিহা। পিতার সম্পর্কে মাহতাব শিহাব বলেছেন, তিনি সারাটা জীবন কাজ করেছেন। সবকিছু ত্যাগ করেছেন। তার কোনো চাকরি ছিল না। তিনি ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করেছেন। ডেলিভারিম্যান হিসেবে খাবার সরবরাহ দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি একজন ক্যাব চালক ছিলেন। কিন্তু সব সময়ই চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাংলাদেশে তার পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন মেটাতে। সবাই যেন সবকিছু ঠিকঠাক মতো পায়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতেন তিনি। এ জন্য তিনি বার বার নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিজন অভিবাসীর কাহিনী এই একই রকম। তাদের জীবনের পরিবর্তন একই রকম। তারা সবাই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উন্নত জীবন গড়ে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ভাবেন, তাদের সন্তানরা উন্নত জীবন পাবে। মোহাম্মদ জাফরের আমেরিকা কাহিনী শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই সময় তিনি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা পাড়ি জমান। কুইন্সে জ্যাকসন হাইটসে অন্য অভিবাসীদের সঙ্গে ঠাসাঠাসি করে একটি এপার্টমেন্টে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই অর্থ জমা করতে থাকেন। দেশে পিতামাতার কাছে পাঠাতে থাকেন তা। এরপর ফিরে যান বাংলাদেশে। বিয়ে করেন মাহমুদা খাতুনকে। নিউ ইয়র্কে ফেরার আগেই তাদের প্রথম সন্তান মাহবুব রবিনের জন্ম হয়। ২০০০ সালে এলমহার্স্ট হাসপাতালে জন্ম হয় মাহতাব শিহাবের। এখন করোনা ভাইরাসের গ্রাউন্ড জিরো হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এই হাসপাতাল। মাহতাব বলেন, বাবা সব সময় এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতেন যে, আমরা কেন যুক্তরাষ্ট্রে। এখানকার সুযোগ সুবিধাটুকু নিয়ে আমাদেরকে বড় মানুষ হতে হবে। আমাদের এ দেশটার প্রতি কতটুকু কৃতজ্ঞ হতে হবে।  

মোহাম্মদ জাফরের সন্তানরা তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করেন ব্রোঙ্কসে পিএস ৯৫ থেকে। তবে তিনি শুনতে পান ‘প্রিপ ফর প্রিপ’ নামে একটি অলাভজনক রিক্রুটমেন্ট চলছে। এর অধীনে নিউ ইয়র্ক সিটির কম আয়ের শিশুদের চমৎকার দক্ষতা অর্জনের জন্য কাজ করে, প্রস্তুত করে ব্যয়বহুল প্রাইভেট স্কুলের জন্য। তারপর ট্রিনিটি স্কুলে ৭ম গ্রেডে পড়াশোনা শুরু করেন মাহতাব। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন সহপাঠী উইল ক্রামার। একই সঙ্গে তার সঙ্গে ডিবেট ক্লাবের একজন পার্টনার হয়ে ওঠেন ক্রামার। ক্রামারের কন্ঠে তাই শোনা যায়, মাহতাব একজন চমৎকার, সবার প্রতি দয়ালু মানুষ।

এই পরিবারটিতে প্রথম ট্রাজেডি আঘাত করে ২০১৬ সালে। ওই বছর ক্যান্সারে মাহতাব, ছাবিহার মা মাহমুদা মারা যান। পরের বছরই জীবনের সরল দোলক দুলতে দুলতে অন্যপ্রান্তে চলে যায়। ওই বছর হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পান মাহতাব আর তার ছোট্ট বোনটি ট্রিনিটির মতো অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সুযোগ পায়। তাদের এই গর্বের যেন শেষ ছিল না। তাদের ভবিষ্যত যেন আলোকিত হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই আলো বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। আবার ট্রাজেডি আঘাত করে এই পরিবারে।

এই মার্চে বন্ধ হয়ে যায় হার্ভার্ড। মাহতাব ফিরে আসেন ঘরে। ততক্ষণে তার পিতা মোহাম্মদ জাফর সেলফ- কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন। শুধু একবার এপার্টমেন্ট থেকে বের হতেন এ জন্য যে, তার ট্যাক্সি চালানোর কাজটা যাতে টিকে থাকে। কয়েক দিন পরে তিনি হাল্কা জ¦র নিয়ে ফিরে যান বাসায়। তারপর শুরু হয় মারাত্মক শ^াসকষ্ট। তার ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা তাকে নিয়ে যান মন্টিফিওরে মেডিকেল সেন্টারে। মাহতাব বলেন, সেখানে এক সপ্তাহ তাকে রাখা হয় ভেন্টিলেটরে। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু তারপর হঠাৎ করে মারা যান মোহাম্মদ জাফর। এ সময় তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৬ বছর।

এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যখন তা শুনতে পেলেন তার বন্ধুমহল তারা দ্রুত ছুটে এলেন পরিবারটির পাশে। মাহতাবের বন্ধু উইল ক্রামার ‘গো ফান্ড মি’ প্রচারণায় সহায়তা করলেন। তাতে সব সম্প্রদায়ের মানুষ কম-বেশী যে যা পারেন জমা দিয়েছেন। মাহতাব বলেন, প্রিপ ফর প্রিপ থেকে ট্রিনিটি এবং হার্ভাড সব জায়গা থেকে সহায়তা এসেছে। তারা বুঝতে পেরেছে আমরা কি কঠিন আর্থিক সঙ্কটের মুখে। পিতামাতা ছাড়া কি করে আমরা এই যুক্তরাষ্ট্রের মতো জায়গায় লড়াইয়ে টিকে থাকবো! ভয় হয় সামনে তাকালে! কার মুখের দিকে তাকাবো! মা চলে গেলেন! বাবা ছিলেন বটগাছ হয়ে। তিনিও চলে গেলেন। এখন আমাদের মাথার ওপর খোলা আকাশ। বলতে বলতে চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে মাহতাবের।

কয়েকদিনের মধ্যেই ওই তহবিলে সংগ্রহ হয়েছে আড়াই লাখ ডলার। এ সম্পর্কে মাহতাব বলেন, এই কঠিন সময়ে এটা আমাদের কাছে আশীর্বাদ। এটা আমাদের প্রাণশক্তি। এর মধ্য দিয়ে আন্তঃসম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থাটা আরো বেড়ে গেল। এটাই প্রমাণ হলো, সঙ্কটের সময় আমরা সবাই সর্বোচ্চ দিয়ে একত্রিত হই। সামনের দিনগুলো আরো কঠিন হবে। একজন পিতা বা মাতার অভাব তো অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ হয় না।

তবে এখন একটি সত্যকে অস্বীকার করা যাবে না। তা হলো, যেহেতু মোহাম্মদ জাফরের সন্তানরা এতিম, তাই তারা একা নন। তাদের পাশে সবাইকে দাঁড়াতে হবে। তার পিতা নিউ ইয়র্কে হলুদ ক্যাব ঠেলে যে সুযোগ, সুনাম কামিয়েছেন, তাই হয়তো সামনের দিনে তাদের জন্য সহায়ক হবে। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে মাহতাব বলেন, বাবা নিজে এতটা পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু তার একটুও সুফল তিনি ভোগ করেননি। আমি আর আমার ভাই আমাদের নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার দিকে মন দিয়েছি। আমরা জীবন গড়ার স্বাধীন পথ পেয়েছি। এই পথ নির্মাণ করে দিয়েছেন আমাদের পিতা, গর্বিত পিতা মোহাম্মদ জাফর।

প্রখ্যাত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের উপন্যাসের কাল্পনিক চরিত্র জেমস বন্ড। তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য চলচ্চিত্র ও কমিকস। বাংলাদেশে জেমস বন্ড না থাকলেও একজন নয়ন বন্ড আছেন। তিনি নিজেই এই উপাধি নিয়েছেন। তাঁর শক্তির উৎস মাদক ও ক্ষমতার রাজনীতি।

গত বৃহস্পতিবার যখন প্রথম আলোর বরগুনা প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিককে টেলিফোন করি, তখন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডের আংশিক পরিচয় পাই। তিনি এলাকায় মাস্তান হিসেবে পরিচিত ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিজেও মাদক সেবন করেন। কিন্তু গতকাল বরগুনার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরোনো পত্রিকা ঘেঁটে আমরা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়টিও পেয়ে যাই। নয়ন বন্ড কোনো পদে না থাকলেও আত্মীয়তা ও ‘বড় ভাই’ সূত্রে ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১১ সালে এসএসসি পাস করে নয়ন আর পড়াশোনা করেননি। তাঁর বন্ধু রিফাত ফরাজী ও তাঁর ছোট ভাই রিশান ফরাজী সাবেক সাংসদ ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে।

বরগুনার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন সাংসদ ও সাবেক উপমন্ত্রী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। গত সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দখলবাজি, মাস্তানি, মাদক ব্যবসা, বিএনপি-জামায়াত তোষণের অভিযোগ আনেন। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ী নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলেননি। বরং উভয় পক্ষ তাঁদের হাতে রাখার চেষ্টা করেছেন। এটি তাঁদের ও সহযোগীদের বক্তৃতা-বিবৃতি ও ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে স্পষ্ট।

 

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল বরগুনা প্রেসক্লাবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান ও সাধারণ সম্পাদক তানবীর হোসাইন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ‘আমরা আগে শুনেছি কাজের বিনিময়ে খাদ্য, মানে কাবিখা। কাজের বিনিময়ে টাকা, মানে কাবিটা। অপ্রিয় হলেও সত্য, এখন সেখানে শুনতে হচ্ছে ‘মাবিরা’ (মাদকের বিনিময়ে রাজনীতি)।’ তাঁদের অভিযোগ, সুনাম দেবনাথ (সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে) বরগুনার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।...সুনামের আরেক সহযোগীর নাম নয়ন বন্ড। প্রায় ১২ লাখ টাকার হেরোইন, ফেনসিডিল, দেশি অস্ত্রসহ ধরা পড়েন পুলিশের হাতে। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাল পে-অর্ডার করে আলোচনায় আসেন বরগুনার তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইস্রাফিল। তিনি ছিলেন সুনামের ফেনসিডিল ব্যবসার অংশীদার। (কালের কণ্ঠ, ২৯ এপ্রিল ২০১৮)

অথচ রিফাত শরীফ হত্যার পর ফেসবুকে সুনাম দেবনাথ লিখেছেন, ‘হত্যাকারীদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে নয়ন এবং তার সহযোগীরা হচ্ছে রিফাত ফরাজী, পিতা দুলাল ফরাজী, সাং বরগুনা ধানসিঁড়ি রোড। এবং রিফাতের ছোট ভাই রিশান ফরাজী, পিতা: ও সাং ঐ।’

সুনামের অভিযোগ, রিফাত ও নয়নদের আরও একটি পরিচয় আছে, তাঁরা অত্র এলাকায় এমন কোনো ছাত্রাবাস নেই, যেখান থেকে ছাত্রদের ল্যাপটপ, মুঠোফোন, টাকা ইত্যাদি ছিনতাই এবং চুরি করে নিয়ে আসেননি। এ নিয়ে বহুবার মামলা হয়েছে, বহুবার জেল খেটেছেন, কিছুদিন পর আবার ছাড়াও পেয়েছেন। তাঁদের নামে কতগুলো মামলা রয়েছে, তা থানা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।

নিহত রিফাতের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সুনাম আরও লিখেছেন, ‘রিফাত শরীফ আমাদের খুব কাছের ছোট ভাই ও কর্মী ছিল, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা করেছে। নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছে রিফাতের মৃত্যুসংবাদে। তবে এ খুনের পেছনে আরও অনেক রহস্য আছে।’

২০১৭ সালের ৫ মার্চ রাত ১১টার দিকে নয়ন বন্ডের বাসায় অভিযান চালায় বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় ৩০০ ইয়াবা, ১২ বোতল ফেনসিডিল, ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক হন নয়ন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে নয়ন বন্ড ও তাঁর সহযোগী ইমামের বিরুদ্ধে। সে সময় আওয়ামী লীগের কোনো পক্ষ নয়ন সম্পর্কে মুখ খোলেনি। এমনকি ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের নেতারা যখন মাদক ব্যবসায়ী নয়ন বন্ডকে সাংসদ পুত্রের সহযোগী হিসেবে শনাক্ত করেন, তখন তিনি একে প্রতিপক্ষের অপপ্রচার বলে চালিয়েছিলেন। এখন বলছেন নয়ন মাদকসন্ত্রাসী ছিলেন।

বরগুনায় রিফাত হত্যার ঘটনা গোটা বাংলাদেশের এক খণ্ডচিত্র তুলে ধরেছে মাত্র। প্রায় সব অপরাধের পেছনে কাজ করে মাদক ও ক্ষমতা। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা প্রায়ই বলেন, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অথচ তারা যে পদে পদে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। পুলিশ চুনোপুঁটিদের পাকড়াও করলেও রাঘববোয়ালেরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, বিচার হয় না। পুলিশের দাবি, ‘আমরা তো ধরছি, কিন্তু আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এলে কী করার আছে।’ আদালত বলছেন, মামলার দুর্বলতার কারণেই আসামিরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। মানুষ কার কথা বিশ্বাস করবে?

এই যে সারা দেশে খুনখারাবি বাড়ছে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার পেছনে রয়েছে মাদক ও ক্ষমতার রাজনীতি। অনেক ক্ষেত্রে তারা হাত ধরাধরি করে চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিফাত হত্যার ছবি ছড়িয়ে পড়ায় দেশবাসী দ্রুত এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। অনেকে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধন্যবাদ পেতে পারেন। কিন্তু যে নারী তাঁর স্বামীকে বাঁচাতে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে একা লড়াই করলেন, তাঁকে নিয়ে মহল বিশেষের কুৎসা রটনার কারণ ঘাতকদের রক্ষা করা। এই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ঘাতক-দুর্বৃত্তদের চাপাতি-রামদার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে হবে, ‘রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ।’

সোহরাব হাসান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি
sohrabhassan55@gmail. com

২৯ জুন ২০১৯, ১৫:০৮ 

 " আমার সন্তান হত্যার বিচার চাইনা"  দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক সাহেবের কান্না যে দিন সংবাদ পত্রে  পড়েছিলাম  ঠিক সেদিনই সংবাদ পত্রে আরেকটা খবর  পড়েছিলাম, গ্যালাপ জরিফের ফলাফলে" বাংলাদেশের আইন শৃখলা পরিস্তিতি আমেরিকা অষ্ট্রেলিয়ার চেয়ে উন্নত"।   ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিনাভোটে নির্বাচিত এম.পি.রা যেভাবে গলাফাটিয়ে বলে থাকেন " আমরা ৫ বছরের জন্য জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি " গ্যালাপ জরিফটাকেও আমার কাছে তেমনি এক সস্তা বিনোদন ছাড়া অন্য কিছু মনে হয়নি!

     বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ঢাকা এবং চিটাগাংয়ের বেশ কিছু সেন্টারে ১০০% ও তার উপরে  ভোট কাস্ট হতে দেখেছি ।( যদিও  কিছু সেন্টারে যেখানে ভোট দিতে আইডি লাগে  সেখানে  ৪% থেকে ৮% ভোট কাস্ট হয়েছে।) ঠিক গ্যালাপের   জরীপটায়ও ঢাকা আর  চিটাগাংয়ের নির্বাচনী সেন্টারের হাওয়া লেগেছে বলে আমার মনে হয়েছে।

   যে জরীপের ফলাফল   বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার মত  ন্যুনতম কোন ভিত্তি নাই,    তার দিকে এক মুহুরতের জন্য কর্নপাত করা
আমার কাছে অবান্তর   বলে  মনে হয়েছে,  কিন্তু জরীপের এই ফলাফল নিয়ে প্রথম আলোতে আনিসুল হক সাহেবের কলাম "অরন্যে রোদন:  বাংলাদেশ যেখানে ভালো আমেরিকা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে" পড়ে আমি টাস্কি খেয়ে গেলাম।  যে মানুষটাকে  আমি বিশ্বমানের মানুষ   মনে করতাম, যার নখদর্পনে আমি মনে করতাম  ইউরুপ,  আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়ার  সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অবস্তা। মনে করতাম যে মানুষটার  লিখনী বাংগালীকে বিশ্বমানবতার সহিত পরিচিয় করিয়ে দেবে,  সেই মানুষটার  আমেরিকা- অষ্ট্রেলিয়ার আইন শৃঙ্খলার পরিস্তিতি  সম্পর্কে  জানাশোনা  এত কম দেখে অবাক হয়ে গেলাম। যে আনিসুল হক সাহেবকে  নতুন  প্রজন্মের কোটি কোটি  বাংগালীর বাতি ঘর বলে মনে করা হয়ে থাকে সেই বাতি ঘরের নিজেই যখন আলোক হারা -দিশে হারা তখন নতুন প্রজন্মের বাংগালীর  কপালে যে খারাপি আছে এটা নিশ্চিন্তে বলা যায়।

   আর যদি আনিসুল হক সাহেব   প্রথম আলো -ডেইলী ষ্টারেরে বিজ্ঞাপন আর জ্ঞাত- অজ্ঞাত সরকারী নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি লাভের আশায় জেনেশুনে এমন মিথ্যে  লিখে থাকেন তার জন্য আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। নিজের জীবন বাঁচানো যেমন ফরজ তেমনি হাজার হাজার মানুষের জীবন-জিবীকার স্রোতধারা রক্ষা করা তারচেয়ে বড় ফরজ,  যুগের প্রেক্ষাপটে এটা বলা যায়। এই কর্তব্য কর্মটাই আনিসুল হক সাহেব পালন করেছেন, এমনটাই  আমরা বিশ্বাস করতে চাই।

      এই কলামের পাঠক পতিক্রিয়ায় দেখা যায়,  যারা আমেরিকা,  অষ্ট্রেলিয়া বা জাপানে থাকেন অথবা যারা দুনিয়া সম্পরকে সামান্য খোঁজ খবর রাখেন তারা  এই জরীপটাকে ভুয়া,  মিথ্যা আর হাস্যকরে বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 * অষ্ট্রেলিয়া থেকে জনৈক পাঠক লিখেছেন"
"আমি খুশি যে বাংলাদেশ নিরাপদতর দেশ । কিন্তু আমি গত ১৩ বসরের অভিগগতায় দেখেচি অস্ট্রেলিয়া তে একজন মহিলা একা রাত ২ টার সময় বের হয়ে হাটলে বা কাজে গেলে সমসা হয় না । অস্ট্রেলিয়া তে অনেক সময় অনেকে বাসার দরজা ভুলে খুলা রেখে সারাদিন অফিস করে বাসায় ফেরে কে।ন চুরি দেখে নি। আমার নিজের গাড়ি আনলক অবসতায় বাসার সামনে সারা রাত থাকে। এখানের সব ভাল তা বলচি না তবে আললার কাচে শুকরিা অস্ট্রেলিয়ার মত .. .। .। .। বাংলাদেশ আগায় যাক .।"

 * জাপান থেকে আরেক  পাঠক লিখেছেন
   "পুরাই .,.,.,.,., জরিপ। বাংলাদেশ আর জাপান একই লেভেলে???? আমরা বাংলাদেশী যারা জাপানে আছি তাদের ১০০ জনকে প্রশ্ন করলে ৯৯.৯ জনই নিরাপত্তায় জাপানকে ১০০ তে ৯৫ দিলে বাংলাদেশকে ৪৫ ও দিবে না। দেশকে অবশ্যই ভালবাসি, কিন্তু সত্য কথা না বললে, সত্য সমালোচনা না করলে দেশ কখনই এগুতে পারবে না।"
  *জনৈক  পাঠক জরীপকারির মেন্টাল সিচুয়েশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
    "সরি স্যার। এইটা বিশ্বাস করতে পারলাম না বাংলাদেশের নাগরিকেরা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের চেয়েও পুলিশের ওপর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বেশি আস্থা রেখেছেন। আমার মনে হয় এই জরিপটা যারা করেছে তাদের হয় মাথার ঠিক ছিল না, নাহলে তারা ইচ্ছা করে আবোল তাবোল তথ্য দিচ্ছে।"
  * আরেক পাঠকের প্রতিক্রিয়া
"প্রলাপেরও একটা সীমা থাকে। কিন্তু ওই জরিপের তাও নেই।"
     সর্বোপরি  সীমানহীন হাস্যকর এই জরীপটা পাগল, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অথবা সরকারী দলের মন্ত্রী -প্রতিমন্ত্রী, এম.পি আর লিডারদের উপর করা হয়েছে বলে অনেক পাঠক তাদের প্রতিক্রিয়ায় এমন  ধারনাই ব্যাক্ত করেছেন।

      গ্যালাপের বাংলাদেশ চাপ্টারের দায়িত্বে কারা আছে আমরা তা জানিনা এবং  কিভাবে জরীপ করা হয়েছে তাও জানিনা। এরা যদি অলস,  দুর্নীতিবাজ অথবা সরকারকে  সাপোর্ট করতে গিয়ে ঘরে বসে জরীপের কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন  তাহলে আমাদের চিন্তার কোন কারন  নাই আর যদি এই চাপ্টারের মানুষগুলো সৎ,  কর্মপটু ওজনদার হয় এবং জরীপটা যদি পাড়া-মহল্লা,  রাস্তায়-ঘাঠ থেকে নেয়া, সাধারন খেটে খাওয়া  মানুষের হয়ে থাকে তাহলে এই রিজাল্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কারন আছে!

   ২০১৪ সালের নির্বাচনে   কিম জন উন  ১০০% ভোট পেয়ে নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মানে কি প্রতিটি মানুষ তাকে সাপোর্ট করেছে ? প্রকৃত কথা হলো  এক্সিকিউসনের  ভয়ে কেউ না ভোটে সিল দেয়নি।  যে কিম জন উন তার আপন চাচাকে বাঘের খাঁচায় ছুড়ে মারল তাকে সাপোর্ট না করে বড় ভাইকে চীন থেকে নিয়ে এসে প্রেসিডেন্ট বানানোর ষড়যন্ত্র করায়,  যে আপন স্ব্রাষ্ট্র মন্ত্রীকে কামানের গোলায় উড়িয়ে দিল তার বক্তৃতার সময় ঘুম ঘুম চোখে ঝিমানোর জন্য তার ১০০% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার মানে হলো সে দেশের জনগনকে ১০০% টেরোরাইজড করে রাখা।
  উত্তর কোরিয়ার মত বাংলাদেশের  মানুষের বাক সাধীনতা স্তব্ধ করে দিলে, সদা সর্বদা  লাঠিপেটা, জেল, জুলুম, গুম, গুলি, আর ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে  মানুষকে তটস্ত করে রাখলে মানুষ স্বাধীন ভাবে মনোভাব প্রকাশ করতে পারবেনা।  এমন অবস্তায় মানুষ চিন্তা করতে থাকে কি করলে সরকারের  নির্যাতন হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
     বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলার অবস্তা আমেরিকা-অষ্ট্রেলিয়ার চেয়ে উন্নত হয়ে যাওয়ার  কারন  হলো মানুষ ভয়ে সত্যি কথা বলতে পারতেছেনা। মানুষের বাক স্বাধীনতা নাই।  মানুষ জীবন্মৃত,  মানুষ নির্বাক। আইন শৃখলার প্রতি আস্তার এই পার্সেন্টিজ দেখে বুঝা যায় এই সরকার দেশের  মানুষকে কত  পার্সেন্ট  টেরোরাইজড করে রেখেছে।

    আমার যৌবনের অনেকটা বছর দেশে কেটেছে আর বিগত ১৭ বছর থেকে আমেরিকায় আছি।  দুইটা দেশের সামাজিক,  সাংস্কৃতিক এবং আইন শৃংখলা পরিস্তিতি একেবারে ভেতর থেকে দেখার আমার সুযোগ হয়েছে।
       প্রতিরাত দেড়টায় কাজ শেষ করে সেন্ট্রাল পার্কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ফিফ্থ  এভিনিউ ধরে  বাতাস খেতে খেতে ৭ব্লক দুরের সাবওয়ে ষ্টেশনে যাই। অজস্র মেয়ে ছেলে যুবক বুড়ো  স্নিকার আর  টি শার্ট পড়ে   সেন্ট্রাল পার্কে জগিং করতে ঢুকে। দুচারজনের সাথে  কুকুরও থাকে, নিরাপত্তার জন্য নয়, কুকুরকে  নিয়মিত হাটাতে  হয় বলে   কেউ নিজে হাটায়  অথবা অন্য কাউকে $৩০ ঘন্টায় পরিশ্রমিক দিয়ে হাটাতে পাটায়।
       বাংলাদেশের পার্কে চোর,  ডাকাত,  পতিতা আর মাদকের আড্ডা। দিন দুপুরে যেখানে পুরুষ  ঢুকতে ভয় পায় সেখানে রাতে মেয়েদের পার্কে যাওয়ার চিন্তা করা দুরে থাক  পার্কের কাছে ভিড়া মানেই নিজের  সর্বনাশ নিজেই ডেকে আনা।
       বাংলায় একটা কথা আছে বাঘে ছুঁইলে এক ঘা আর পুলিশে ছুঁইলে আটারো ঘা। বাংলাদেশের  মোরব্বীরা তাদের সন্তান সন্ততিকে একটা কথা স্মরন করিয়ে দেন কোন অবস্তায়ই পুলিশের কাছে যাওয়া যাবেনা।
        এই ধারনাটা বাংগালীর মননে এবং মগজে  এমন ভাবে পাকাপোক্ত হয়ে বসে আছে যে এই সুদুর আমেরিকা-লণ্ডনে চোর-ডাকাতের পাল্লায় পড়েও বাংগালী  পুলিশ কল করেনা। চোর ডাকাতরাও জেনে গেছে বাংগালী পুলিশ কল করেনা তাই বেছে বেছে বাংগালী ফ্যামেলি দেখে চোরি-ডাকাতি করে। অথচ কথা না বলে শুধু  ৯১১ কল দিলেই মুহুর্তের মধ্যে পুলিশ এসে উপস্তিত হয়।

  দেশে যদি এতই শান্তির নুহর প্রবাহিত  তবে কেন মানব জমিন রিপোর্ট করেছে শধু মাত্র  গুলশান থানায়ই নাকি নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে  কয়েক হাজার জিডি করা হয়েছে।  জিডি করার পরও ঘাতকের ছুরির আঘাতে লাশ বনতে হচ্ছে নিরাপত্তা চাওয়া লোকদের। এক মাত্র ঢাকা ইউনিভারসিটির ভিসি আর নামকরা দু-একজন ছাড়া আর কারো নিরাপত্তা নিয়ে  পুলিশের মাথা ব্যাথা নেই।

      গ্যালাপের যে জরীপ নেয়া হয়েছে তা যদি গান ম্যান নিয়ে চলাফেরা করা বিশিষ্ট জন,  আওয়ামিলীগের মন্ত্রি -এম.পি অথবা আওয়ামিলীগ ও তার অংগ সংঘটনের নেতাকর্মী আর ক্যাডারদের  কাছে থেকে নেয়া হয়ে থাকে তাহলে রিজাল্ট ঠিকই আছে। পুলিশ,চোর ডাকাত এদের কোন কিছু করা দুরের কথা, উল্টো  এরা র‍্যাব,পুলিশকে ধরে বাদর পিটুনি পিটায়।

    মাতৃগর্ভ সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ যায়গা - এই চিরন্তন সত্যটাও সরকার দলীয় ক্যাডারের হাতে  আজ ভুলুন্টিত হয়েছে।  মাতৃগর্ভের সন্তানও আজ তাদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়, তাদের লাথি গুতোয়  এই সেই দিনও এক  নিরপরাধ হিন্দু রমনী মৃত সন্তান প্রসব করেছে। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেন " কারো বেডরুমের  নিরাপত্তা তিনি দিতে পারবেন না"  সেই দেশের  মানুষেরা দোকান-পাটে ,  রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে  নিরাপদ থাকার প্রশ্নই আসেনা।
    চাঁদাবাজির কারনে ফুটপাতের দোকানদার থেকে সুপারমার্কেটের মালিক, পত্রিকার হকার থেকে গরুর পাইকার কারো রেহাই নেই।  যায়গা দখল,  টেন্ডারবাজী,  ইভটিজিং, নারী ধর্ষন আর নারী নির্যাতন যেখানে পান্তাভাত সেখানে মানুষ এত নিরাপদ অনুভব করে কেমন করে হয়?
  হয় মানুষ গুলো মরে গেছে তার যাওয়ার আর কিছু বাকি নাই নতুবা তারা ভয়ে মিথ্যা বলছে।  রাস্তাঘাটে গাড়ী-ঘোড়া চলতে পারেনা পুলিশের বখরা আর চাদাবাজের দৌরাত্ম্যে। টাকার জন্য কিডন্যাপ আর হত্যা করা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিডন্যাপ কে করেনা আজ :
র‍্যাব কিডন্যাপ করে,পুলিশ কিডন্যাপ করে,  মাস্তান  কিডন্যাপ করে,  কিডন্যাপে জড়িত সরকারী দলের ছোট বড় ক্যাডাররা। আইন -শৃঙ্খলা বাহিনীর নামে ঘর, অফিস, বাস, ট্রেন  থেকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোষাক ধারী বিশেষ  বাহিনীর লোকজন,  দুদিন পর লাশ পাওয়া যায় খাল বিল নদী নালা বা ধানী জমিতে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানো  উপুর হয়ে পরা।

     এই জরীপের রিজাল্ট যারা বিশ্বাস করে তারা  কুয়োর ব্যাংয়ের মত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন,  তাদের বাস অজো পাড়াগাঁয়ে অথবা রিমোট কোন দ্বীপের। তাদের দেখা দেশের সবচেয়ে বড় নেতা ইউনিয়নের চেয়ার ম্যান  আর বড় সরকারী কর্মকর্তা হলেন ইউনিয়ন অফিসের সেক্রেটারি। আমেরিকায়ও এদের মত বিচ্ছিন্ন কিছু পোলাপান  আছে যারা গরীব বলতে এমন মানুষকে বুঝে যাদের  রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়ার সামর্থ্য নাই তবে এরা ঘরে রান্না করে দুবেলা চিকেন আর পটেটো খাওয়ার সামর্থ্য রাখে।
    এক সময়  মরুর লোকেরা পানি বলতে বুঝতো  লবনাক্ত পানীয়কে। জীবনে এরা সুস্বাদু  মিঠা পানির  স্বাধ কোন দিন পায়নি বলে তাদের একজন  দুদিন আগের পচা-বাসি বৃষ্টির পানিকে অমৃত মনে করে বাদশাহ হারুনুর রশিদের দরবারে তুহ্ফা হিসাবে নিয়ে উপস্তিত হয়েছিল।
    যে সব সময় আগুনের ভিতর থাকে,  আগুনটাকেই তার শান্তির নীড় মনে করে।   কারোব ধ্যান ধারনা  চিন্তা চেতনা যদি কোয়োর  ব্যাংগের মত সামান্য  গন্ডির মধ্যে  সীমাব্ধ থাকে তার পক্ষ্যে সংকীর্নতার কারাগার থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব।

  কবি লিখেছেন
  "চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন - ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে।
   কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে - কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে।"

  কবির এই কথাটিকে ঘুরিয়ে বলা যায়
  "চির দুঃখীজন ভ্রমে কি কখন - সুখ কারে কয় বুঝিতে পারে।"

  চীরকাল  খারাপ ব্যাবহার পেয়ে আসা লোকজন ভালো ব্যাবহারটা যে কি জিনিস  তা কল্পনাই করতে পারেনা।

    বাংলাদেশের র‍্যাব  পুলিশের উপর মানুষের আস্তা হঠাত করে এতো বেড়ে গেলো কেনো বুঝে উটতে পারলাম না। মোল্লা নজরুল ইসলাম ও তার টিম ব্যাবসায়ীকে  ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৫কোটি টাকার ঘুষ আদায় করেছিল। সংসদেও এ নিয়ে আলাপ হয়েছে।  বিচারে তার কি শাস্তি হয়েছে কভু কি শুনেছেন : ঘুরার ডিম। লিমনকে পংগু করে দেওয়া, নারায়ন গঞ্জের সাত খুন,  রাজন হত্যাকারীকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া,  রাজনের বাবাকে হয়রানী করা,  ধর্ষনের মামলা করতে থানায় গিয়ে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত হওয়া,চুরি ডাকাতি রাহাজানি ছিনতাই থেকে নিয়ে এমন কি নেই যে তার সহিত পুলিশ জড়িত থাকার পরমান নাই!
    সাগর রুনীর হত্যাকারী পুলিশ খোঁজে বের করাতো দুরের কথা উল্টো ডি.এন.এর সিম্বল,  ফিংগার প্রিন্ট কোন কিছুই তারা সংগ্রহ করে রাখেনি যাতে হত্যাকারীকে খোজে পাওয়া যেতে পারে।
     অথচ আমেরিকার পুলিশ তাদের পুরোপুরি  বিপরিত কাজ করে। ১৯৯১এ হাইওয়ের পাশে  ঝুপের  মধ্যে পড়ে থাকা  নাম পরিচয়হীন পচে যাওয়া  বিকৃত  লাশকে  আরটিস্ট দিয়ে কাল্পনিক ড্র করে, নাম- পরিচয় খোঁজতে তৎপরতা শুরু করে ।তাদের সংকল্প  ছিল  যতক্ষন পর্যন্ত না লাশের   প্রকৃত পরিচিয় পাওয়া যাবে ততোদিন পর্যন্ত এই মৃতের নাম থাকবে   "Baby Hope"  । ২৩ বছর পর কোন এক মহিলার ডি.এন.এর সহিত  এই "Baby Hope"-এর ডি.এন.এর   মিল খোঁজে পেয়ে, মহিলার কাছ থেকে কৌশলে   নিহত শিশুরটির নাম  পরিচয় বাহির করে। পরিশেষে ২৩ বছর পর তার ঘাতককে  বিচারের সম্মুখীন  করতে সমর্থ হয়।
      ফেইসবুকে একটা কৌতুক পড়েছিলাম, কৌতুকটা  আপনাদের সাথে শেষ করলাম।
                  আমেরিকার প্রেসিডেন্ট  বারাক ওবামার লম্বা লোমওয়ালা  কুকুরটা ওয়াশিংটন ডিসির পার্ক থেকে হারিয়ে গেছে।  কুকুরকে খোঁজতে আমেরিকান পুলিশের সাথে যোগ দিয়েছেন বৃটিশ পুলিশের একটা চৌকশ বাহিনী । তারপরও কোন গতি হচ্ছেনা দেখে বাংলদেশের করিৎকর্মা পুলিশের সাহায্য চাওয়া হলো।   মি: ওমর  টাকলার নেত্রীত্বে ডিবি পুলিশের একটি এক্সপার্ট টিম ওয়াশিংটনডিসিতে গেল সাহায্যের জন্য । কুকুরের  ছবিসহ  বিস্তারিত ব্রিফিং নিয়ে  মি:  টাকলা ওয়াশিংটন ডিসি পার্কের দিকে  অন্যান্য দলের মত  কুকুর খোঁজায় বেরিয়ে পরলেন।
   বিকেলের দিকে আমেরিকান পুলিশ - বৃটিশ পুলিশ  কিছু ক্লু  এই যেমন লুম,  পায়ের চাপ, গন্ধ,  মাটিতে পেল্টে থাকা রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে  ফিরে এলেন,  ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষন করে পরবরতি পদক্ষেপ নেবেন বলে। রাত ঘনিয়ে আসছে, এদিকে বাংলাদেশী টিম ফিরছে না দেখে হোয়াইট হাউজ কর্তৃপক্ষ আমেরিকান পুলিশকে  খোঁজতে পাটালেন।
    একটু দুরে ঝুপ-ঝারের  আড়ালে  বিরাট  চেঁচামেচি হচ্ছে শুনে আমেরকান পুলিশ একটু   এগিয়ে যেতেই দেখলো বাংলাদেশী পুলিশের দল একটি রামছাগলের পিছনের দুপা গাছের ডালের সহিত ঝুলিয়ে দেদার পেটাচ্ছে  আর  "স্বীকার কর তুই ওবামার কুকুর, স্বীকার কর তুই ওবামার কুকুর"  বলে উচ্চ স্বরে চিতকার চেঁচামেচি করছে, আমেরিকান পুলিশ শুনেতো  হা......স্পিচলেস হয়ে গেল।

( Date: November 24, 2015)

  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular