Items filtered by date: Friday, 05 June 2020

নবীগঞ্জে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরত ব্যক্তি করোনা আতঙ্কে দ্বন্দ। দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫ জন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকাল ১০ টায়। আহত সুত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লতিবপুর গ্রামের লালফর উল্লার পুত্র সুমন মিয়া সম্প্রতি ঢাকা হতে বাড়ি ফিরেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনে জানান একই গ্রামের ময়না মিয়া। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় উভয়ের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হলে ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক সামছুদ্দিন খান বিষয়টি সমাধান করেন। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে এরই জের ধরে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের প্রায় ১৫ জন লোক আহত হন।  আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিক ও নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি  ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।  আহতরা হলেন, সুমন মিয়া (৩৫), দিদার আহমেদ  (২৪), সাজু মালা (৪০), সালেমআ বিবি (৮০), আলেছা বিবি (৭০), রাকিম মিয়া (১৭), আলীবুর হোসেন (৩০), উর্মী বেগম (২৪), খলিল মিয়া (৩৫), বিলকিস বেগম (৪০)। এ  ঘটনায় এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে আরো জানাগেছে উভয়পক্ষ মামলা দায়ের এর প্রস্তুতি নিচ্ছে।   

বছরের পর বছর ধরে যে শ্রমিকদেও শ্রমকে পুঁজি করে এই  পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, সেই শ্রমিকদের এই দুঃসময়ে কর্মহীন করা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কোনো অযুহাতেই পোশাক শ্রমিকদের ছাঁটাই করা যাবে না বলে জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের কাঁচামাল প্রধানত আমদানি নির্ভর। অর্থাৎ আমরা পোশাক শিল্প থেকে যা আয় করি তা শুধুমাত্র পোশাক শ্রমিকদের শ্রমের মূল্য। কিছু অর্ডার বাতিল হয়েছে, সেই বাতিল অর্ডারের কিছু আবার ফিরেছে। হয়তো আরো ফিরবে।

তিনি বলেন, চলতি বছরে পোশাক শিল্পের আয় ২৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩.১ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছিল যার ২৬ শতাংশ এখন পর্যন্ত ফেরানো  গেছে। এত বছর ধরে যে শ্রমিকদের শ্রম বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি অগ্রসর হয়েছে এবং মালিকেরা ধনী থেকে ধনকুবের হয়েছেন, সেই শ্রমিকদের এই মহামারির সময়ে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

বিজিএমইএ সভাপতিকে ধন্যবাদ জানাই শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য। আশা করি, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরকারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধান করবেন।

Published in সংবাদ

শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর আরও ১০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত বাহিনীর দুইজন উর্ধ্বতনকর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের ৩৮২ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকায় অক্রান্ত হয়েছেন ২৯৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ৮৪ জন। 

আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক একজন, উপপরিচালক (চিকিৎসা) একজন, ১০৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসার, ২৫৮ জন অঙ্গীভূত আনসার, একজন বিশেষ আনসার, একজন সিগন্যাল অপারেটর, একজন নাসিংসহকারী, ২জন মহিলা আনসার, একজন ভিডিপি সদস্য এবং একজন আনসার কমান্ডার। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন ব্যাটালিয়ন আনসার জাতীয় সংসদ ভবনে এবং ১৮৬ জন অঙ্গীভূত সাধারণ আনসার ঢাকা মহানগর পুলিশের সাথে কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া বাকিদের কেউ সদর দপ্তর এবং কেউ বিভিন্ন জেলায় কর্মরত রয়েছেন।

শুক্রবার বিকাল ৫ টা পর্যন্তবাংলাদেশ আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ ঘন্টায় একজন কর্মকর্তাসহ সুস্থ হয়েছেন ৫জন। মোটসুস্থ হয়েছেন ১৬৬ জন এবং সুস্থতারহার ৪৯.০২ শতাংশ। করোনাযুদ্ধে জয়ী বাহিনীর এ সকল সদস্য সুস্থ হয়ে যার যার কর্মস্থলে যোগদান করে আবার তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর করোনা আক্রান্তদের মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৩ জন। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিভিন্ন আাবাসিক হোটেল কোয়ারেন্টাইনে ৯৯ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে বাহিনীর ৯৮ জন সদস্য চিকিৎসাধীন আছেন। 

এ পর্যন্ত বাহিনীর একজন সদস্য মৃতুবরণ করেছেন। মৃতুবরণকারী সদস্য হলেন অঙ্গীভূত সাধারণ আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) আব্দুল মজিদ। তিনি ঢাকার ভাটারা থানায় কর্মকালীন থাকা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১১ মে ইন্তেকালকরেন।

Published in সংবাদ

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারকে 'রেড জোন' চিহ্নিত করে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তিন লক্ষাধিক বাসিন্দার ছোট্ট শহরটিতে শুক্রুবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে আগামী ২০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত লকডাউন বহাল থাকবে। প্রয়োজনে দুই সপ্তাহের পর সময় আরো বাড়ানো হবে। 'রেড জোন' হিসাবে চিহ্নিত করা এলাকা থেকে কোন লোক বাহির ও প্রবেশ করতে পারবেন না। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন গতকাল শুক্রবার এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লকডাউন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। 

কক্সবাজার জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বলেন, রেড জোন হিসাবে চিহ্নিত এলাকাগুলো সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকবে। লকডাউন থাকাকালে প্রয়োজনে এসব এলাকার নিন্ম আয়ের মানুষকে সরকারিভাবে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, 'রেড জোন' এলাকায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মাত্রা কমাতে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি কাজের সাথে জড়িতরা রেড জোনে সীমিত আকারে আসা যাওয়া করতে পারবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ কার্যকর ও অধিকতর দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সমগ্র পৌরসভাকে রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রেড জোন এলাকায় সকল প্রকার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সকল জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ আবাসস্থলে অবস্থান করবে। সকল ব্যক্তিগত ও গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮টা থেকে থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।
সকল প্রকার দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার কাঁচা বাজার ও মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ঔষধের দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে।

কেবলমাত্র কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ খোলা থাকবে।

Published in সংবাদ

শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের পূর্ব জামসি গ্রামে নিজ বাড়িতে কে বা কারা ছুরিকাঘাতে মা ও মেয়েকে হত্যা করেছে। শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতরা হলেন মা জায়েদা খাতুন ওরফে চিনি বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে ইয়াসমিন বেগম (২৭)।

স্বামী আসগর আলীর সঙ্গে বনিবনা না থাকায় ইয়াসমিন বেগম মায়ের সাথে থাকতেন। তার স্বামীর বাড়ি একই উপজেলার পাশ্ববর্তী সিন্দুরখান ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে চিনি বেগমের ঘরে লোকজনের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করে। পরে ঘরের পেছনে গিয়ে দেখেন বেড়া ভাঙা। বেড়ার ভাঙা অংশ দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখেন মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। পরে প্রতিবেশীরা স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে খবর দেন।

নিহতের ছেলে ওয়াহিদ মিয়া বলেন, আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে ছিলাম। আমার খালা আমাকে ফোনে মা ও বোনের খুনের ঘটনা জানান।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার), সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) আশরাফুজ্জামান আশিক এবং শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুছ ছালেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল রানা বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মরদেহের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে লাশ দুটি পাঠানো হয়েছে।

Published in সংবাদ

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার নহরপুর গ্রামে জামে মসজিদ নিয়ে দু, দশকের বিদ্যমান বিরোধ শুক্রবার বিকালে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে নিস্পত্তি হয়েছে। এইদিন বিকাল ৩ টায় নবীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে থানা গোল ঘরে বিবাদমান দু,পক্ষের নিয়ে সালিস বসে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও মতামত নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক লোকমান খান ও স্থানীয় কাউন্সিলর কবির মিয়া অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান সমন্বয়ে সালিশ বোর্ড কমিটি বহাল রেখে সিরাজ মিয়া, আব্দুর রউফ, ও কনর মিয়াকে সম্মানিত সদস্য হিসাবে অন্তভূক্ত করে কমিটি পেশ করা হয় । উভয় পক্ষ কে মিলিয়ে দেয়া হয়। ভবিষ্যতে কোন পক্ষ বা কারো মসজিদ নিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা করলে ১ লক্ষ টাকা মুছলেকা দিয়ে বিচার করার সিদ্ধান্ত ঘোষনা করা হয়। উল্লেখ্য ১৯৯৯ সাল থেকে মসজিদের কমিটি নিয়ে গ্রামে দু,পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।দাঙ্গা হাঙ্গামায় মসজিদের ইমাম ও নাজেহাল হতে হয়েছে।

নবীগঞ্জে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে মানুষ। জনসচেতনতা এড়িয়ে মুখে মাস্ক বিহীন অবাধে চলাচল শুরু। সামাজিক দুরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বার বার বলা হলে ও তা মানছেন না কেউই। করোনা সতর্কতায় বিকেল ৪ টার পর থেকে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ থাকলে ও মানা হচ্ছে না।
এতে করে চরম আকারে বাড়ছে করোনার ঝুঁকি। এদিকে করোনাভাইরাসে সারাদেশে প্রতিদিন আড়াই হাজারের বেশি লোক আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।  আক্রান্তের পাশাপাশি রয়েছে মৃতের সংখ্যাও। করোনাভাইরাসে নবীগঞ্জ উপজেলায়  ২৪ জন লোক শনাক্ত হয়েছেন।  এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ও ফিরেছেন অনেকে। জনসচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি, সামজিক দুরত্ব এবং অবাধে চলাচল দেখে সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র-প্রতিক্রিয়া। জনসচেতনতা বাড়াতে দেখা নেই এ উপজেলার কোনো জনপ্রতিনিধির। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব নিয়ে ও উঠছে নানা প্রশ্ন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাঝে মধ্যে ত্রাণ বিতরণের ছবিতেই দেখা মিলছে তাদের।
এব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, করোনা মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা শুরু থেকেই মানুষকে ঘরে ফেরাতে কাজ করছি। এখন নিজ নিজ উদ্যোগে সচেতনতা বাড়িয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর ও যদি প্রশাসনের নির্দেশনা না মেনে চলাচল করা হয় তাহলে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেবে।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে বেশ কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর ও কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ছড়া ( নদী ) গুলো দিয়ে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকল পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টির ফলে তেলানিয়াছড়া, সিমনাছড়া সহ কয়েকটি পাহাড়ি নদীর পানি বেড়ে আশপাশের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও পুকুর তলিয়ে যায়। শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের জানান, পাহাড়ি ঢলে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ৬ টি ওয়ার্ডের আনুমানিক ২৫০ টি বাড়িঘর ও প্রায় ৩ শত একর কৃষি জমির সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া এসব এলাকার অনেক পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় সব মাছ ভেসে গেছে। তবে আগেই ধান কাটা শেষ হয়ে যাওয়ায় ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেলেও কোন ক্ষতি হয়নি। তবে অনেক সবজি চাষি ও মৎস্য খামারি পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছে। জগদীশপুর ইউনিয়নের বরধলিয়া গ্রামের এস এম মুক্তি জানান, পাহাড়ি ঢলে তেলানিয়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে বরধলিয়া গ্রামের রাস্তাঘাট , পুকুর ও বাড়িঘর ডুবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জগদীশপুর তেমুনিয়া থেকে ইটাখোলা রাস্তার বড়ধলিয়া গ্রামের ভেতরের কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে। তিনি বলেন, অনেকে সরকারি খাল দখল করে দোকান পাট করেছে। জগদিশপুর তেমুনিয়া বাজারের নতুন একটা ব্রিজ করা হয়েছে কিন্তু সেই ব্রিজের পানি যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। তেমুনিয়া বাজারের পানি নিস্কাশনে রাস্তা বন্ধ করে বাড়িঘড় করা হয়েছে।সেই জন্য পাহাড়ি ঢালে আগের চেয়ে অনেক বিশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌফিক আলম চৌধুরী জানান, সকালে ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিক ছুটে গিয়ে দেখতে পাই পাহাড়ি ঢলে মানুষের ঘরবাড়ি, জমি ও পুকুর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে। পনিতে সব ভেসে যাওয়ায় অনেক পরিবারের সকালের খাবারের মত কোন কিছু নেই। আমি তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের সকালের ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করেছি এবং চেষ্টা করছি সরকারি ভাবে ত্রান সামগ্রী পৌছে দেয়ার জন্য।

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮২৮ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের চেয়ে আজ ৪০৫ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল শনাক্ত হয়েছিলেন ২,৪২৩ জন। এনিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখা দাঁড়ালো ৬০,৩৯১ জন।

আজ শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

অনলাইন বুলেটিনে বলা হয়, ৫০টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৬৪৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ১৪০৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়।

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

Published in সংবাদ

বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর মাছ সংগতিপূর্ণ নয়। এ মাছ গুলো রাক্ষুস স্বভাবের। অন্য মাছ ও জলজ প্রাণীদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচির্ত্র্যরে জন্য এগুলো হুমকি স্বরূপ। এ কারণে সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, বংশ বৃদ্ধিকরণ,বাজারে ক্রয়- বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। গত ২০০৮ সালের ফেব্রæয়ারি থেকে ২০১৪ সালের জুন মাসে আফ্রিকান মাগুরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানাযায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ভালুকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চলের ডোবা বা পুকুরে পিরানহার উৎপাদন ও চাষ করা হচ্ছে। আর আফ্রিকান মাগুরের চাষ হচ্ছে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর ও নারায়ণগঞ্জের অব্যবহৃত পরিত্যক্ত ডোবা ও নালায়। বিক্রির উপযুক্ত হলে ট্রাক যোগে এসব মাছ দেশের বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজারে পাঠানো হয়। এ রাক্ষুসী পিরানহা বাজার ভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি ও আফ্রিকান মাগুর বাজারভেদে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন বাজার থেকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত অঞ্চলের বাজার গুলোতে কিছু অসাধু বিক্রেতা এসব মাছ বিক্রি করছেন। আর এই মাছে ক্রেতারা হচ্ছেন সাধারণ ও নিম্ব  মধ্যবিত্তরা। দেশি বা থাই রুপচাঁদা অথবা ‘সামুদ্রিক চান্দা’ নামে পিরানহা আর দেশি মাগুর বলে ছোট আকারের আফ্রিকান মাগুর বিক্রি করতে দেখা গেছে বিভিন্ন হাট বাজারে।
নবীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিরানহা মাছের সরবরাহ প্রতিটি বাজারে কম বেশ বিক্রয় হচ্ছে। পিরানহা মাছের প্রতিসাদক সম্পর্কে সাধারন মানুষ কিছুই জানেন না। ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের আউশকান্দি- হীরাগঞ্জ বাজার, বাংলা বাজার, সৈয়দপুর বাজার, ইনাতগঞ্জ, শেরপুর, নবীগঞ্জ সহ আরো অনেকে হাট বাজারে মাছ বিক্রেতারা দেদারছে বিক্রয় করে আসছেন। মাছ কিনতে আসা মুদি ব্যবসায়ী মখতব মিয়া, বৃক্ষচাষী আব্দুল গনি (ওসমানী), ডাক্তার পলাশ চৌধুরী, ওয়ার্কসপ ইঞ্জিনিয়ার হুমায়ূন, ব্যবসয়ী রাজু আহমদ, হাজী চাঁদ মিয়া, আল আমিন, ক্বারী আব্দুল কাইয়ুম, শ্রমিক নেতা লিটন মিয়া সহ আরো অনেকেই বিভিন্ন হাট বাজার থেকে রুপচাঁদা মাছ কম দাম হওয়ায় ক্রয় করে নিয়ে আসছেন। এই মাছের কেজি কত জানতে চাইলে মাছ বিক্রেতারা বলেন, ২০০ টাকা কেজি। এতে কেউ ১৭০, ১৮০ ও ১৫০ টাকায় মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ খবর পেয়ে সাংবাদিকরা বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের যখন বলা হলো এটা রুপচাঁদা মাছ নয়। এটা হলো রাক্ষুসে পিরানহা মাছ। এ কথা শুনে যারা মাছ ক্রয় করেছিলেন তারা এসব কথায় কান না দিয়ে বাড়ির দিকে দ্রæত চলে যান। এ নিয়ে কয়েকজন মাছ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এই এলাকায় কয়েক মাস ধরে প্রায়ই আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছ আমরা বিক্রিয় করছি। দাম কম বলে নিম্ন আয়ের মানুষ এসব মাছ কিনেছেন। কোন আড়ৎ থেকে এসব মাছ নিয়ে এসেছেন জানতে চাইলে  বলেন শেরপুর আড়ৎ থেকে তারা এই মাছগুলো আনেন। পিরানহা মাছে খেলে বা বিক্রয় করলে কি হয় তা তাদের জানা নেই! এ মাছ গুলো রুপচাঁদা মাছের মতো হলেও এই মাছের নাম হলো পিরানহা। সরকার পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুরের উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছেন। দেশের বিভিন্ন বাজারে এই নিষিদ্ধ মাছ প্রশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে মাছ বাজারের কয়েকজন বিক্রেতার সাথে আলাপকালে তারা জানান, এই মাছ বিক্রয়ে যে নিষেধ, তা আমরা জানিনা। তবে, আশপাশের মাছ বিক্রেতা সহ আরো অনেকেই বলেন, প্রায় দিনই বিভিন্ন হাট বাজারে এই পিরানহা মাছ বিক্রিয় হচ্ছে। গার্মেন্টসকর্মী মায়া বেগম, মনি বেগম, সেলিনা বেগম, নিলিমা, রোকসানা বেগম, সিমা বেগম, রিমা বেগম ও মাওলানা ফয়জুর রহমান কম দাম হওয়ায় ও রুপচাঁদা মাছ মনে করে এই পিরানহান মাছ বাজার থেকে ক্রয় করে রান্না করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ক্রেতাদের কাছে মিথ্যা কথা বলে কেন বিক্রয় করছেন বললে? জবাবে বিক্রেতা বলেন, এটা যে ক্ষতিকর তা আমার জানা নেই। আজ জানলাম আপনার কাছ থেকে। আমরা আর বিক্রয় করবনা। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, বিষয়টি আমি দেখতেছি। এবং মৎস্য কর্মকর্তাকে আপনি বিষয়টি অবগত করুন, আমিও বিষয়টি দেখছি।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আছাদ উল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই মাছ অনেক ক্ষতিকর তা অনেকেই জানেনা। যদি কোন খবর পাই যে, পিরানহা মাছ কোন বাজারে বা আড়তে বিক্রয় হচ্ছে তাহলে আমরা তাৎক্ষনিক প্রশাসনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করব।

Page 1 of 2
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular