Items filtered by date: Sunday, 28 June 2020

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জের রুস্তমপুর টুল প্লাজার পাশ থেকে হবিগঞ্জ জেলা থেকে সুনামগঞ্জ পাচারকালে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আটককৃতরা মাদক ব্যবসায়ীরা হচ্ছে- চুনারুঘাট উপজেলার জিকুয়া গ্রামের মোঃ ফুল মিয়ার পুত্র মোঃ নানু মিয়া (২৪) এবং একই এলাকার মৃত বাবর আলীর পুত্র জয়নাল আবেদীন (২৪)।
গতকাল ভোর পৌণে ৫ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মানিকুল ইসলামের দিক নির্দেশনা এসআই মোঃ মোজাম্মেল মিয়ার নেতৃত্বে এএসআই আল-আমিনসহ একদল গোয়েন্দা পুলিশ নবীগঞ্জ উপজেলার উল্লেখিত স্থানে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২ পাচারকারীকে আটক করে। এ সময় তাদের নিকট থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
সম্প্রতি দীর্ঘদিন যাবত নিত্য নতুন পন্থা অবলম্বন করে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হবিগঞ্জের ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে পাচারকারীরা মাদকদ্রব্য পাইকারী ও খুচরা বিক্রয়ের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে।
হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মানিকুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার বদ্ধপরিকর। তিনি আরো বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক মামলার দেওয়া হয়েছে।

নবীগঞ্জে ফুটবল খেলতে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জানাযায়, রবিবার (২৮জুন) বিকাল ৫ .৩০ মিনিটের সময় নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের নিজ আগনা গ্রামের আজিজ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম মিয়া (৩২),বাড়ীর পাশ্ববর্তি কাজীর বাজার মাঠে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলতে গেলে খেলার সময় হঠাৎ বুকের মাঝে ব্যথা অনুভব করেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিএনজি যুগে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার জন্য রওনা হলে পথিমধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরবর্তীতে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবরে শুনে আত্বীয় স্বজন, এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

দেশের ৯টি জেলায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এই জেলাগুলো হলো, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেট, নেত্রকোণা এবং সুনামগঞ্জ।
এছাড়া দেশের সব নদ-নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা আগামী তিনদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টের বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং বিপদসীমার উপরে অবস্থান করতে পারে।

অপরদিকে লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

দেশের পর্যবেক্ষণাধীন ১০১টি পানি স্টেশনের মধ্যে ৮২টি স্টেশনের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে হ্রাস পেয়েছে ১৩টি পানি স্টেশনের। অপরিবর্তিত পানি স্টেশন ২টি আছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের লরের গড়ে ৩৬০ মিলিমিটার, মহেশখোলা ২৪০ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জ ২১৩ মিলিমিটার, ছাতক ১৩০ মিলিমিটার, লালাখাল ১৭৫ মিলিমিটার, জারিয়ানজাইল এ ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

Published in সংবাদ

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে ৪ জনের করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে।উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৬ জ‌ন।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে এক পুলিশ সদস্য সহ ৪ জনের করোনা শনাক্ত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আব্দুস সামাদ।

গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের হাতে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনার লাদাখে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সীমান্তে উভয় পক্ষ শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতেও চীনের নিন্দা না করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তুলোধোনা করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।মোদির বিরুদ্ধে অসঙ্গত মন্তব্য, কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছে কংগ্রেস। তারা বলেছে, ভারতে অনুপ্রবেশ করায় চীনের খোলাখুলি নিন্দা করে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত মোদির। কংগ্রেসের আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস। প্রশ্ন তোলা হয়েছে তাদের সাহস নিয়েও।শনিবার কংগ্রেসের কপিল সিবাল বলেন, ‘লাদাখের সঙ্কীর্ণ ওয়াই জংশনের ভেতরে ঢুকে পড়েছে চীন। জায়গাটা লাদাখের ব্রুটস শহরের কাছেই। এখন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সিবালের অভিযোগ, গত ছয় বছরে মোদি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ধরা পড়েছে। বিনাযুদ্ধে শত্রু দমন, প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে ব্যবহার, আক্রমণকে আত্মরক্ষা হিসেবে দেখিয়ে শত্রুকে বিভ্রান্ত করা ও শত্রুকে ঠকিয়ে জয় হাসিল— এই চারটি কৌশলে এক সময় জোর দিতেন চীনের যুদ্ধবিশারদ সান জু। তার প্রসঙ্গ টেনে সিবাল বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চীন এখন সেটাই করছে। লাদাখের সঙ্কীর্ণ ওয়াই জংশনের ভেতর ঢুকে পড়েছে। জায়গাটা ভারতের ১৮ কিলোমিটার ভেতরে। এখান থেকে ব্রুটসে টহল দেয় ভারতীয় সেনারা। চীনা সেনারা সঙ্কীর্ণ ওয়াই জংশন দখল করে থাকায় আমাদের সেনারা ১৪ নম্বর পেট্রল পয়েন্টে টহল দিতে পারছে না।'তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই এমন হল কী করে? চীন ঢুকে এসে আমাদের ১০, ১১, ১১এ, ১২ ও ১৩ নম্বর পেট্রল পয়েন্টে ভারতীয় সেনাদের টহলদারিতে বাধা দিচ্ছে। দৌলত বেগ ওল্ডি রোডের একদিকে ব্রুটস শহর, অন্যদিকে ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটি। চীনা সেনারা এখন ওই শহর থেকে ৭ কিমি দূরে রয়েছে।

সিবাল বলেন, ‘ওয়াই চ্যানেল থেকে বায়ুসেনার ঘাঁটি ২৫ কিলোমিটার দূরে। ওয়াই জংশন সংলগ্ন ওই বিমানঘাঁটি থেকে সিয়াচেন ও কারাকোরামে নজরদারি চালায় সেনাবাহিনী। এবার চীনা সেনারা ওই জায়গার খুব কাছাকাছি এসে যদি গোলা ছুঁড়তে থাকে তখন বিপদ বাড়বে। বিমান ওঠানামা কঠিন হবে। ২০১৩ সালে ইউপিএ জমানায় ওই বিমানঘাঁটি থেকে বিমান চলাচল শুরু হয়। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় কড়া নজরদারির জন্য ২৩০টি বিমানে সেনা আনা–নেওয়া হত। এখন গালোয়ানের ১৪ নম্বর পয়েন্টে চীনের সেনারা তাঁবু গড়ছে। ২০ জন জওয়ান শহিদ হয়েছেন। অথচ ইউপিএ জমানায় ২–৮ নম্বর পয়েন্টের দিকে তাকাতে পারত না চীন। এখন ৪ নম্বর পয়েন্টের কাছে চীন এয়ারস্ট্রিপ করছে। আমাদের ২ নম্বর পয়েন্টে পাঠাতে চাইছে।’

সূত্র- আজকাল।

করোনা সংক্রমনের সন্দেহ হলে বাসা বা বাড়ি থেকেই পরীক্ষা করানো যাবে- সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধাটি দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে এভাবে  নমুনা পরীক্ষা করাতে গেলে নির্ধারিত ফি দিতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও বুথে গিয়েও নমুনা পরীক্ষা করানো যাবে আগের মতো। দুই ক্ষেত্রেই ফি দিতে হবে। এখন পর্যন্ত সরকার বিনা পয়সায় এই স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। কর্মকর্তারা বলছেন,  বিদেশ থেকে আমদানি করা প্রতিটি কিটের দাম পড়ছে তিন হাজার টাকা। যদি বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে একটি পরীক্ষার পেছনে সরকারের মোট খরচ পড়ে যায় পাঁচ হাজার টাকার মতো। তাই ফি যেটা নেয়া হবে তাকে নামমাত্রই বলতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,সরকারি হাসপাতাল ও বুথে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করালে ফি দিতে হবে ২০০ টাকা। আর বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করালে ৫০০ টাকা ফি দিতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে এই ফি নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানা গেছে।

চলতি সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন জারি

জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কারো শরীরে করোনাভাইরাস আছে কি না, তা জানার জন্য আমরা এখন যে নমুনা পরীক্ষা (আরটি-পিসিআর টেস্ট) করছি, তাতে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। তবে নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমরা একটি ফি নির্ধারণ করেছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি, চলতি সপ্তাহের মধ্যে ফি নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’করোনা পরীক্ষার জন্য কেন ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে—এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দুই কারণে ফি নির্ধারণের পথে হাঁটছে সরকার।একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, করোনার কারণে সরকারের আয় কমে গেছে। একেকটি নমুনা পরীক্ষার পেছনে যে টাকা খরচ হয়, বাংলাদেশের মতো দেশে এটি দুই থেকে তিন মাস বিনা মূল্যে করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সম্ভব নয়। দেশে যে হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। এ জন্য সরকার একটি ফি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় কারণ হলো, নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে এর অপব্যবহার হচ্ছে। অনেকের শরীরে করোনার উপসর্গ না থাকলেও সন্দেহ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করাচ্ছে। সন্দেহ হলে পরীক্ষা নিরুৎসাহ করার জন্যও সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

প্রতিটি কিটের দাম  তিন হাজার টাকা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা প্রতিটি কিটের দাম পড়ছে তিন হাজার টাকা। যদি বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে একটি পরীক্ষার পেছনে সরকারের মোট খরচ পড়ে যায় পাঁচ হাজার টাকার মতো। প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে শনাক্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার। বাকিদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে না। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা অপচয় হয়। সে জন্য যাদের শরীরে করোনার উপসর্গ আছে এবং কেউ যদি মনে করে করোনার উপসর্গ থাকার আশঙ্কা প্রবল সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি নমুনা পরীক্ষা করাতে যাবে।তবে পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে এখনো তাদের নাগরিকদের বিনা মূল্যেই করোনার নমুনা পরীক্ষা করে যাচ্ছে। ভারতে সরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবে করোনা পরীক্ষায় কোনো টাকা নেওয়া হয় না। বেসরকারিভাবে সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশি বেশি পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। কারণ পরীক্ষা বেশি হলে করোনা রোগী শনাক্ত সহজ হয় এবং তাকে আইসোলেশনে নেওয়া যায়।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিতে গত সপ্তাহে চিঠি পাঠানো হয়।অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা আমাদের মতামত জানিয়েছি।’

বিনা মূল্যে পরীক্ষার  সুযোগে অপব্যবহার?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে সারা দেশে ৬৬টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৮টি সরকারি, ১৮টি বেসরকারি। প্রতিদিন যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি ল্যাবে হচ্ছে। দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাত লাখ ১২ হাজার ৯৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৮ জন। অর্থাৎ মোট টেস্টের ১৮.৮১ শতাংশ পজিটিভ এসেছে। এসব তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিনা মূল্যে পরীক্ষা করার সুযোগ থাকায় এর অপব্যবহার হচ্ছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা হয়, তার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের শরীরে ন্যূনতম উপসর্গ থাকে না। এতে প্রকৃত আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষা করতে বিলম্ব হচ্ছে। তাঁরা জানান, পরীক্ষার ফির এই টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে চলে যাবে। সেই টাকা সরকার চাইলে স্বাস্থ্য খাতেই খরচ করতে পারবে।

‘টাকা নেওয়া কি সংবিধানসম্মত?’

তবে ফি নেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অসম্ভব, হতেই পারে না। এখানে যদি টাকার বিষয়টা আসে, তাহলে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ পরীক্ষা করাতে আসবে না। বড়লোকেরা যাদের দরকার, তারা আসবে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়টা কি আমাদের সংবিধানের সঙ্গে যায়?’

Published in সংবাদ

হবিগঞ্জের বাহুবল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করে দিলেন হবিগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মাদ শাহ নওয়াজ মিলাদ।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ টানেলের উদ্বোধন করা হয়। এমপি মিলাদ গাজীর পক্ষে টানেল উদ্বোধন করেন বাহুবল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হাই।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমদ কুটি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ বাবুল কুমার দাশ,দপ্তর সম্পাদক এম,এ মজিদ তালুকদার, বাহুবল প্রেস-ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ আব্দুল মান্নান, আওয়ামী লীগের সদস্য মখলিছুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াকুত মিয়া, ওয়ার্ড সভাপতি বিপ্লব রজ্ঞন দেব, যুবলীগের আহবায়ক সৈয়দ আব্দুল গাফফার মিলাদ, যুগ্ম আহবায়ক এম, রশীদ আহমেদ, বদরুল আলম, কাজী ফকরুল ইসলাম,দেওয়ান ফরিদ গাজী স্মৃতি সংসদের সভাপতি হুমায়ুন রশীদ জাবেদ,সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আলী, এমপি মিলাদের ব্যক্তিগত সহকারী মোঃ মহিবুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুনাইদ আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা সুজন আখজ্ঞি,সুয়েব আহমেদ প্রমুখ।

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জের পাদদেশে অবস্থিত মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় অবস্থার আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে প্রতিটি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খুলে জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা শহরের বেশির ভাগ এলাকাই নিমজ্জিত হয়েছে। পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন বাসা, বাড়ি, সরকারি অফিস ও বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। শহরের প্রায় পাঁচশতাধিক বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে বন্যার্তদের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যাবিধি মেনে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। তবে করোনা মহামারির মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেল ৩টায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ দশমিক ৮০ অতিক্রম করে বিপৎসীমার ৮ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে সুরমার পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সীমান্তনদী যাদুকাটার পানিও বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। তা ছাড়া অন্যান্য সীমান্ত নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। পাউবো আরো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে চেরাপুঞ্জিতে হয়েছে ৫১২ মিলিমিটার বৃষ্টি। উজানের এই পানি ভাটিতে এসে চাপ তৈরি করায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পাউবো।অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়েছে। জেলা শহরের কাজীর পয়েন্ট, ষোলঘর, সাহেববাড়ি, পশ্চিম বাজার, মধ্যবাজার, তেঘরিয়া, উকিলপাড়া, আরপিননগর, জামাইপাড়া, বড়পাড়া, মল্লিকপুর, হাজীপাড়া, নতুনপাড়া, গড়াপাড়া, জামাইপাড়া, কালিবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকার রাস্তাঘাট নিমজ্জিত হয়ে গেছে। রবিবার পৌরশহরের সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এ ছাড়াও অন্যান্য উপজেলায়ও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলার ১৬৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১১৪৩ বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রয়েছে।পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর, জামালগঞ্জ-মদনপুর সড়ক, সুনামগঞ্জ সাচনা সড়ক, দোয়ারা সুনামগঞ্জ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। তা ছাড়া নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানির চাপ তৈরি হওয়ায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, দুপুরে সুরমার পানি কিছুটা কমলেও নিম্নাঞ্চলে চাপ তৈরি করছে। তা ছাড়া মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেই পানি ভাটির জনপদ হিসেবে এই অঞ্চলে এসে চাপ তৈরি করবে। এতে অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে।সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আমরা জরুরি সভা করে ৪১০ মেট্রিকটন চাল ও ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

নানা সতর্কতা সত্ত্বেও একের পর এক সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে যাতে কেউ করোনা আক্রান্ত না হন, সেজন্য বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিবেশনে যোগ দিবেন, এমন সংসদ সদস্যদের করোনাভাইরাসের নমুনা টেস্ট করানো হয়েছে। বাজেট পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদেরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন মাত্র ৮ কার্যদিবসে শেষ হচ্ছে। গত ১০ জুন শুরু হওয়া অধিবেশন এ পর্যন্ত ৫ কার্যদিবস বসেছে। আগামীকাল সোমবার অর্থ বিল পাস ও পরদিন ৩০ জুন বাজেট পাস হবে। এরপর একদিন সমাপনী হবে। অর্থাৎ অতীতে বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এটি হচ্ছে সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন। যে অধিবেশনে মাত্র একদিন প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত এই অধিবেশনে অন্ততঃ ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা আলোচনার পরিকল্পনা থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওযায় তা কমিয়ে আনা হয়। অতীতে বাজেটের উপর ৬০ থেকে ৬৫ ঘণ্টা আলোচনার রেকর্ড রয়েছে। এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণ দুরের কথা, অনেকে অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না। আবার নমুনা টেস্টে উত্তীর্ণ (করোনা নেগেটিভ) এমপিদের গৃহবন্দি থাকতে হচ্ছে। এজন্য মন্ত্রী-এমপিদের অনেকে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলে সরকারি দলের একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। তারা জানান, করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। অধিবেশনে স্বল্প সংখ্যক এমপির উপস্থিতি ও আলোচনায় এবার বাজেট পাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাজেট হবে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, অধিবেশন কক্ষসহ সংসদ ভবনে করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অধিবেশন আরো সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ ও ৩০ জুন দুই কার্যদিবস চলবে। এরপর অধিবেশন মূলতবি করে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে কোন একদিন সমাপনী করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে অধিবেশন সংপ্তি করার পাশাপাশি উপস্থিতিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকছেন। বিদ্যমান আসন বিন্যাস পরিবর্তন করে তিন থেকে চার ফুট দূরত্ব বজায় রেখে আপৎকালীন নতুন আসন বিন্যাস করা হয়েছে। অধিবেশনে কারা যোগ দিবেন, তার তালিকা করে প্রধান হুইপের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রবীণ ও অসুস্থ সংসদ সদস্যদের সংসদ অধিবেশনে যোগ না দেওয়া জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে সংসদ অধিবেশনকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা ছিলো শুরু থেকেই। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদে দায়িত্ব পালন করবেন এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা টেস্ট করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেস্টে করোনা নেগেটিভ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইসোলশনে রাখা হয়। কিন্তু তারপরও মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা আক্রান্তের খবর এবং সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুর পর সংসদ সদস্যদের নমুনা পরীার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অধিবেশনে যোগ দিবেন এমন ১৭০ জন সংসদ সদস্যকে টেস্ট করাতে বলা হয়। তাদেরকে ভবনের মেডিকেল সেন্টারে নমুনা পরীার জন্য সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। তবে অনেকেই ঢাকার বাইরে থাকায় তারা নিজ নিজ এলাকায় নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন বলে জানাগেছে। সংসদ ভবন মেডিকেল সেন্টারের নমুনা বুথ থেকে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, গত ২০ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সেখানে ৯৮ জন সংসদ সদস্য নমুনা দিয়েছেন। সেখানে সর্বশেষ সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসি ইসলাম জেসি’র করোনা পজেটিভ এসেছে। তিনি বর্তমানে মানিক মিয়া এভিনিউস্থ ন্যাম ভবনের বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন। এরআগে করোনা পজেটিভ ফলাফল পেয়েছেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি এনামুল হক। তিনি বর্তমানে রাজধানীর আদাবরে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ পর্যন্ত ১৮জন মন্ত্রী-এমপি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সংসদ মেডিকেলে নমুনা পরীক্ষায় চলতি মাসে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা পজেটিভ এসেছে। আর সংসদ ভবনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার বাহিনীর প্রায় দুশো সদস্য করোনা আক্রান্ত হন। যাদের বেশীর ভাগই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে আছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক প্রধান হুইপ উপাধ্য মো. আবদুস শহীদ, সাবেক হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, রেল মন্ত্রণালয় বিষয়ক কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়, মোসলেম উদ্দিন, ফরিদুল হক খান দুলাল, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল, মোকাব্বির খান ও মাশরাফি বিন মোর্ত্তুজা। সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী জানান, করোনা সংক্রমণ নিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আতংক ও সতর্কতা দুটোই বেড়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ এমপি করোনা টেস্ট করিয়েছেন। করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত হয়েই তারা অধিবেশনে যোগ দিবেন। অধিবেশন কক্ষেও সকলকে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

Published in সংবাদ

নানা সতর্কতা সত্ত্বেও একের পর এক সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে যাতে কেউ করোনা আক্রান্ত না হন, সেজন্য বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিবেশনে যোগ দিবেন, এমন সংসদ সদস্যদের করোনাভাইরাসের নমুনা টেস্ট করানো হয়েছে। বাজেট পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদেরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন মাত্র ৮ কার্যদিবসে শেষ হচ্ছে। গত ১০ জুন শুরু হওয়া অধিবেশন এ পর্যন্ত ৫ কার্যদিবস বসেছে। আগামীকাল সোমবার অর্থ বিল পাস ও পরদিন ৩০ জুন বাজেট পাস হবে। এরপর একদিন সমাপনী হবে। অর্থাৎ অতীতে বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এটি হচ্ছে সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন। যে অধিবেশনে মাত্র একদিন প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত এই অধিবেশনে অন্ততঃ ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা আলোচনার পরিকল্পনা থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওযায় তা কমিয়ে আনা হয়। অতীতে বাজেটের উপর ৬০ থেকে ৬৫ ঘণ্টা আলোচনার রেকর্ড রয়েছে। এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণ দুরের কথা, অনেকে অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না। আবার নমুনা টেস্টে উত্তীর্ণ (করোনা নেগেটিভ) এমপিদের গৃহবন্দি থাকতে হচ্ছে। এজন্য মন্ত্রী-এমপিদের অনেকে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলে সরকারি দলের একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। তারা জানান, করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। অধিবেশনে স্বল্প সংখ্যক এমপির উপস্থিতি ও আলোচনায় এবার বাজেট পাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাজেট হবে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, অধিবেশন কক্ষসহ সংসদ ভবনে করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অধিবেশন আরো সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ ও ৩০ জুন দুই কার্যদিবস চলবে। এরপর অধিবেশন মূলতবি করে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে কোন একদিন সমাপনী করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে অধিবেশন সংপ্তি করার পাশাপাশি উপস্থিতিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকছেন। বিদ্যমান আসন বিন্যাস পরিবর্তন করে তিন থেকে চার ফুট দূরত্ব বজায় রেখে আপৎকালীন নতুন আসন বিন্যাস করা হয়েছে। অধিবেশনে কারা যোগ দিবেন, তার তালিকা করে প্রধান হুইপের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রবীণ ও অসুস্থ সংসদ সদস্যদের সংসদ অধিবেশনে যোগ না দেওয়া জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে সংসদ অধিবেশনকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা ছিলো শুরু থেকেই। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদে দায়িত্ব পালন করবেন এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা টেস্ট করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেস্টে করোনা নেগেটিভ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইসোলশনে রাখা হয়। কিন্তু তারপরও মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা আক্রান্তের খবর এবং সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুর পর সংসদ সদস্যদের নমুনা পরীার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অধিবেশনে যোগ দিবেন এমন ১৭০ জন সংসদ সদস্যকে টেস্ট করাতে বলা হয়। তাদেরকে ভবনের মেডিকেল সেন্টারে নমুনা পরীার জন্য সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। তবে অনেকেই ঢাকার বাইরে থাকায় তারা নিজ নিজ এলাকায় নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন বলে জানাগেছে। সংসদ ভবন মেডিকেল সেন্টারের নমুনা বুথ থেকে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, গত ২০ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সেখানে ৯৮ জন সংসদ সদস্য নমুনা দিয়েছেন। সেখানে সর্বশেষ সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসি ইসলাম জেসি’র করোনা পজেটিভ এসেছে। তিনি বর্তমানে মানিক মিয়া এভিনিউস্থ ন্যাম ভবনের বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন। এরআগে করোনা পজেটিভ ফলাফল পেয়েছেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি এনামুল হক। তিনি বর্তমানে রাজধানীর আদাবরে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ পর্যন্ত ১৮জন মন্ত্রী-এমপি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সংসদ মেডিকেলে নমুনা পরীক্ষায় চলতি মাসে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা পজেটিভ এসেছে। আর সংসদ ভবনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার বাহিনীর প্রায় দুশো সদস্য করোনা আক্রান্ত হন। যাদের বেশীর ভাগই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে আছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক প্রধান হুইপ উপাধ্য মো. আবদুস শহীদ, সাবেক হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, রেল মন্ত্রণালয় বিষয়ক কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়, মোসলেম উদ্দিন, ফরিদুল হক খান দুলাল, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল, মোকাব্বির খান ও মাশরাফি বিন মোর্ত্তুজা। সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী জানান, করোনা সংক্রমণ নিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আতংক ও সতর্কতা দুটোই বেড়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ এমপি করোনা টেস্ট করিয়েছেন। করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত হয়েই তারা অধিবেশনে যোগ দিবেন। অধিবেশন কক্ষেও সকলকে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

Published in সংবাদ
Page 1 of 2
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular