Items filtered by date: Friday, 26 June 2020


করোনাভাইরাস প্রতিরোধী হিসেবে চীনে চলমান ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল বাংলাদেশে হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। সেই সঙ্গে তিনি জানান, ওই ট্রায়েলের সূত্র ধরে বাংলাদেশেও ওই ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হতে পারে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য করোনা মোকাবেলায় আরেক ধাপ সাফল্য বয়ে আনবে। আজ শুক্রবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে তিনি এ তথ্য জানান।

সেই সঙ্গে তিনি সংক্রমণের মাত্রা হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, আগে দেশে আক্রান্ত একজন থেকে আরো দুজনের বেশি হারে এই ভাইরাস ছড়াতে পারত। কিন্তু এখন সেই রিপ্রডাকশন রেট বা আর রেট নেমে এসেছে ১.০৫-এ। এটা খুবই ভালো লক্ষণ। এখন নিচে নামাতে পারলে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যাবে। তাছাড়া এখনো প্রতিদিন সংক্রমনের যে সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে তা অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, আমাদের দেশে আর রেট হঠাৎ করে খুব উঁচুতে ওঠার মতো পরিস্থিতি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। আমাদের এখন লক্ষ্য, আর রেট-কে আরো নিচের দিকে নামিয়ে আনা যায়।

অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার রশিদ-ই-মাহবুব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার এম এস ফয়েজ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার ইকবাল আর্সেনাল, আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেনসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশে গত ছয় মাস ধরে যে কার্যক্রম সে ব্যাপারে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, শুরু থেকে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস মোকাবেলায় পরিকল্পনা গ্রহণ, কার্যক্রম বাস্তবায়ন, হাসপাতাল ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত গবেষণা, কেনাকাটাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে নানা ধরনের ঘাটতি ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। যদিও শুরুর দিক থেকে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নতি দেখা যাচ্ছে। তবু এখনো পর্যাপ্ত হচ্ছে না। এছাড়া জোন সিস্টেম নিয়েও মানুষের এক ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে।

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪০ জন। এনিয়ে মোট মারা গেলেন ১,৬৬১ জন। এছাড়া একই সময়ে আরও ৩,৮৬৮ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১,৩০,৪৭৪ জন।আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

অনলাইন বুলেটিনে বলা হয়, ৬৬টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮,৪৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬,৯৬,৯৪১টি।গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৭,৯৯৯টি। এরমধ্যে নতুন শনাক্ত হয়েছিলেন ৩,৯৪৬ জন। মোট শনাক্ত হয়েছিলেন ১,২৬,৬০৬ জন। আর গতকাল আরও ৩৯ জন মারা যান। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১,৬২১ জন। এছাড়া গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ১,৮২৯ জন। এনিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৫১,৪৯৫ জন।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়।দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

Published in সংবাদ

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এক দিনে দুজন নারী ও একজন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং রাতে এসব ঘটনা ঘটে।

বানিয়াচং থানার ওসি এমরান হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার সুজাতপুর চন্ডিপুর গ্রামের মৃত সাধন দাসের পুত্র মিলন দাস (২২) ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি বাড়ির সকলের অগোচরে বিষপান করে। পরে তাকে পরিবারের লোকজন হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে যাওয়ার পথেই রাতে তিনি মারা যান। আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি।

এদিকে, একই দিন রাত সাড়ে ৮টায় কালাইনজুড়া গ্রামে দিলারা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধু বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি ওই গ্রামের তাজিম উল্লার স্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাতে থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। স্থানীয়রা জানান, বড় ছেলের স্ত্রীর সাথে ঝগড়াকে কেন্দ্র করে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
ওইদিন বিকেলে উপজেলার বলাকীপুর গ্রামের মনোয়ারা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধু বিষপানে আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়রা তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে সন্ধ্যা ৭টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। তিনি ওই গ্রামের লিটন মিয়ার স্ত্রী। লিটন মিয়া প্রায়ই তাকে যৌতুকের জন্য মারপিট করতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেন তিনি। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

ওসি আরো জানান, তিনটি ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular