Items filtered by date: Tuesday, 16 June 2020

নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শী কার্প হ্যাচারী কমপ্লেক্সে ১দিন ব্যাপী রুই জাতীয় মাছের নার্সারী ব্যবস্থাপনার উপর মাছচাষীদের মধ্যে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে কুর্শী কার্প হ্যাচারী কর্মকর্তা ওবায়দুল হাসান চঞ্চলের সভাপতিত্বে উক্ত প্রশিক্ষনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জিল্লুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শাহজাদা খরছু, বানিয়াচং উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সরওয়ার শিকদার প্রমুখ। উক্ত প্রশিক্ষনে উপজেলার প্রায় ৩০জন মাছচাষীদের মধ্যে প্রশিক্ষন দেয়া হয়। উল্লেখ্য উক্ত হ্যাচারীতে প্রতি বছরই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উপর মাছচাষীদের মধ্যে প্রশিক্ষন দেয়া হয়।
 

সবাইকে সুস্থ রাখতে গিয়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হলেন নবীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি ইকবাল হোসেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে সিলেট নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে  ভর্তি হয়েছেন নবীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে মাধবপুর থানার ওসি মোঃ ইকবাল হোসেন। গত রবিবার তাকে সিলেট নর্থ ইষ্ট মেডিকেল এন্ড হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এব্যপারে ওসি ইকবাল হোসেন বলেন গত ৭ই জুন মাধবপুরে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসার পরও ‘কয়েক দিন ধরে শরীর খারাপ যাচ্ছিল। হালকা জ্বর ছিল। করোনা ভাইরাসের লক্ষন শরীরে বিদ্যমান থাকায় তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ  এন্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। তিনি আরো বলেন করোনা ভাইরাস সংক্রমন আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে সিলেট নর্থ ইষ্ট মেডিকেল এন্ড হাসপাতালে আবার নমুনা দেওয়া হয়েছে।অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি মাধবপুর থানার আবাসিক কোয়াটারে ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে সিলেট নর্থ ইষ্ট মেডিকেল এন্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি সার্বিক সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

নবীগঞ্জে দুই শিশুর কাঁধে সংসারের বুঝা! করোনাকে হার মানিয়েও যেন  অংশ নিয়েছে জীবন যুদ্ধে । হাতে যখন খাতা এবং বই থাকার কথা ঠিক তখনই এই দুই শিশুর কাঁধে যেন জীবনের সকল বুঝা। কথা গুলো শুনতেই অবাক হলে ও বাস্তবে তার প্রমাণ মিলছে অহরহ। তামান্না ও রুকসানা বয়স তাদের ৫/৩ বছর হবে। করোনাভাইরাসে যখন সারা বিশ্বের মানুষ স্থবির, সেই সময় তারা বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করতে ঘুরে বেড়াচ্ছে শহরের নোংরা পরিত্যক্ত ও ময়লা আবর্জনায় জর্জরিত ডাস্টবিন গুলোতে। এতে করে চরম করোনা ঝুঁকিতে এই শিশুরা।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা ৭ টায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডে কথা হয় শিশু গুলোর। তামান্না ও রুকসানা জানায় নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা গ্রামে তাদের বসবাস। তামান্না বেগম বয়স অনুমান (৫) বছর হবে। পিতা ফাডা মিয়া অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন অনেক আগে। মা’ রেনু বেগম কাজ করেন অন্যের বাড়িতে। পরিবারে ২ ভাই ও ২ বোন রয়েছে। তামান্না আরো বলে, একা কাজ করে রেনু বেগমের পক্ষে সংসার চালানো সম্ভব নয় বলে শহরে এসে ডাস্টবিন গুলোতে ময়লা আবর্জনায় পড়ে থাকা বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করি। দিন শেষে ১শ থেকে ২শ টাকা হয় মাঝে মধ্যে। বোতল বিক্রির টাকা মায়ের কাছে দিচ্ছে প্রতিদিন। রুকসানা বয়স অনুমান (৩) বছর হবে। ঠিকমত কথা ও বলতে পারে না। পিতা আব্দুল আলী তিনি পেশায় একজন শ্রমিক। মা নাজমা বেগম। ৩ ভাই ও ২ ভাই মিলে ৭ জন সদস্যর পরিবার তাদের। নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়রে হালিতলা গ্রামে তাদের বসবাস। কুড়িয়ে আনা বস্তা ভর্তি প্রায় ১০ কেজি ওজনের বোতল তার কাঁদে করে পথ হাটছে। এই বয়সে শিশুটির কাঁধে বিশাল ভারি ওজনের বস্তা দেখে জানতে চাইলে প্রতিবেদকরে সঙ্গে ঠিকমত কথা ও বলতে পারেনি মেয়েটি। যদিও দেশে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ রয়েছে তারপরও এসব শিশুরা কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে পড়ছে শিশু শ্রমের দিকে।  হয়তো এরা জানেই না শিশু শ্রম কি? রাষ্ট্র, সমাজ ও আমাদের দায়িত্ব এদের রক্ষা করা বলছেন সুশীল সমাজ।     

হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টায় চুনারুঘাটের সাংবাদিক আবুল কালামসহ আরো ২১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ২৬১ জন রোগী সনাক্ত করা হয়েছে।

সোমবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট ঢাকা ল্যাব থেকে তাদের রিপোর্ট পাঠায়। আক্রান্তরা নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল।

তিনি জানান, তাদের করোনা নমুনা পরিক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ে ঢাকা করোনা ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছিল। সোমবার রাতে তাদের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে চুনারুঘাট ১১ জন, সদর ৫ জন, মাধবপুরে ৪ জন ও নবীগঞ্জ ১ জন।

সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় আরো ১১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে চারজন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সাধারণ মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৯ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ৭৯ জন রয়েছেন। 

সোমবার (১৫ জুন) সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ল্যাব এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা শনাক্ত হয়।

ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওসমানীর ল্যাবে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩৯ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৩১ জনই সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার বাসিন্দা। 

সোমবার সকাল পর্যন্ত সিলেট জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪১৩ জন। নতুন আরো ৩৯ জন শনাক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা এখন ১ হাজার ৪৫২ জন।

এছাড়া সোমবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় সুনামগঞ্জ জেলার আরো ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাম্মাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ৩৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তন্মধ্যে ৭৯টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তরা সবাই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে সুনামগঞ্জে ৬৪২ জনের করোনা শনাক্ত হলো। 

উল্লেখ্য, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪০৬ জন। রাতে শনাক্ত হওয়া ১১৮ জন মিলে এ সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৫২৪ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১ হাজার ৪৫২ জন, সুনামগঞ্জে ৬৪২ জন, হবিগঞ্জে ২৩৯ জন ও মৌলভীবাজারে ১৯১ জন রয়েছেন।

  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular