Items filtered by date: Monday, 15 June 2020

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল হোসেনপুর গ্রামে সরকারি কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গ্রামের ১২৩ জন স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পুলিশ সুপারের নিকট দেয়া হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিথঙ্গল হোসেনপুর গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে বাবুল মিয়া ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে নিজেকে আওয়ামী লীগের সদস্য পরিচয় দিয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের আত্মীয় পরিচয় দেন। এ দাপট খাটিয়ে তিনি এলাকার নিরীহ মানুষকে মামলা মোকদ্দমার ভয়ভিতি প্রদর্শন করেন। অনেকের কাছ থেকে মামলায় জড়ানো ভয় দেখিয়ে টাকা পয়সাও দাবি করেন। তার এসব অপকর্মের কারণে এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় তদন্ত সাপেক্ষে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। 

নবীগঞ্জ উপজেলার দত্তগ্রামের মৃত হাজী এশ্বাক মিয়ার পুত্র হারুনুর রশীদ উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, নবীগঞ্জ শাখা হইতে জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জ বরাবরে ১১,৯৬৫/= (এগারো হাজার নয় শত পয়ষট্রি) টাকা জমা প্রধান পূর্ব, উক্ত ব্যাংক হইতে সমপরিমান টাকার ড্রফট গ্রহন করেন। যাহার ক্রমিক নং- ৬৬৮৭৯৫১।উক্ত ড্রাফট গ্রহন করিয়া, ড্রাফট খানা নিয়ে নবীগঞ্জ বাজার হইতে বাড়িতে যাওয়ার পথে রাস্তায় পড়ে হারাইয়া যায়। অনেক খোজা খুজি করিয়া তা পাওয়া যায় নাই। এর মধ্যে হারুনুর রশীদ হ্নদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তিহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।বাড়িতে আসার পরও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন বিধায় থানায় ডায়েরী করার জন্য বিলম্ব হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া ব্যাংক ড্রাফট এর ফটোকপি দিয়ে থানায় ডায়েরী করেন। যার জিডি নং ৬১০।

                                                                                                বিনীত
                                                                                           হারুনুর রশিদ

নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কানাইপুর জামে মসজিদের কথিত ইমামের লঙ্কাকাÐ এলাকায় উত্তেজনা প্রকাশিত   শিরোনামে সংবাদটি কানাইপুর গ্রামবাসীর নজরে আসে। গ্রামবাসীর পক্ষে ১৫৭টি পরিবারের অভিবাবক তাদের লিখিত কাগজে স্বাক্ষর ও টিপসই দিয়ে বলেছেন কানাইপুর  গ্রামের জামে মসজিদের এখনও  হাফেজ নুর উদ্দিন ইমাম হিসাবে রয়েছেন বলে তার লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে গত ৩ জুন দেশের বর্তমান করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা নবীগঞ্জের ৬৩৮ টি মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনদের নগদ ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।ওই সময় কানাইপুর গ্রামের এক শ্রেণীর স্বার্থলোভী লোক তাদের নিজ স্বার্থ হাসিল করার জন্য বর্তমান ইমাম হাফেজ নুর উদ্দিন ও মোতায়াল্লী আব্দুল কদ্দুসকে আড়াল করে ভূয়া কমিটি সাজিয়ে টাকা আতœসাৎ চেষ্টা করেন। এ খবর পেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পালের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ ঘটনায় গ্রামে মসজিদের ইমাম ও সরকারি সাহায্য ৫ হাজার টাকা নিয়ে গ্রামবাসী দু ভাগে বিভক্ত হয়ে পরেন।হাফেজ নুর উদ্দিন ছুটিতে থাকাকালিন অবস্থায় মসজিদের ইমামতি দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা আব্দুল লতিফ হাফেজ সাজিদুল মাওলানা ওয়াহেদ আলী। ওই স্বার্থনেশী মহল তাদের মনগড়া ভাবে  দাবি করতেছে বলে  গ্রামের ১৫৭টি পরিবার লিখিত ভাবে এই দাবি করেছেন।

মানিকপীর টিলায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে সাবেক মেয়র সিলেটের  অভিবাক বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ।দাফন সময়   রাস্তায় হাজারো জনতার ঢল নামে । সবাই শেষবারের মতো  মুখ বা তার শেষযাত্রা একটু নিজ চোখে দেখতে চান।তাঁর দলীয় নেতাকর্মী, ভক্তবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনতার ক্রন্দনে আকাশ-বাতস ভারী হয়ে উঠে মানিকপীর টিলা এলাকা।সোমবার রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় সাবেক এ মেয়রের ফলাফল পজিটিভ আসে। এদিন থেকে বাসায় চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরদিন ৬ জুন সকালে বমি আর জ্বর নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে বমি ও জ্বর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছিল না। পরে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় গত ৭ জুন রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয় তাঁকে।

করোনাভাইরাসের চলমান সংকটের সময়েও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর এলাকায় মাদক কারবার বন্ধ নেই। অতীতের চেয়ে রেকর্ড ভেঙে চলছে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। মাদক কারবারিরা ধর্মঘর মনতলা রোডের বিভিন্ন পয়েন্টে লোক নিয়োগ করে রেখেছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান মাদক বিক্রেতাদের কাছে মোবাইল ফোনে পৌঁছে দেয়। ধর্মঘর এলাকার দায়িত্বে রয়েছে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ি। বর্তমানে এখানে পর্যাপ্ত জনবলও রয়েছে। একজন পরিদর্শক, দুজন এসআই, দুজন এএসআই, একজন এটিএসআই।
অন্যদিকে ধর্মঘর এলাকার মালনঞ্চপরে রয়েছে একটি বিজিবি ক্যাম্প। মাঝে মাঝে মাদকের চালান আটক করা হলেও মাদকের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়। মাদকের মূল গডফাদারদের আটক না করার কারণেই মাদকের কারবার প্রতিদিন বেড়েই চলছে। এলাকার জনমনে নানা রকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাঝে মাঝে মাদকের চালান আটক হলেও আসামি পাওয়া যায়নি বলে মাদকদ্রব্যকে পরিত্যক্ত দেখানো হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মাধকের কোনো তথ্য দেয়া হলে তা পৌঁছে যায় মাদক কারবারিদের কাছে, এমন অভিযোগ এলাকার অনেকের।
মাধবপুর থানার ওসি তদন্ত গোলাম দস্তগীরর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদকের গডফাদারদের তালিকা সংগ্রহ করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করব।  ধর্মঘর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার আবু বক্কর বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি। মাদক বৃদ্ধি পেয়েছে শুনেছি, আমি ব্যবস্থা নেবো। মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোরশেদ আলম জানান, মাদক জোন ধর্মঘরের দায়িত্ব দিয়েছেন এসআই কামরুল ইসলামকে ওসি সাহেব। আমার দায়িত্ব নয়, আমি মাঝে মাঝে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ দেখি। তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও ধর্মঘর ইউনিয়নের  মাদক মামলা তদন্ত করতেছে। ধর্মঘর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, যারা মাদক ব্যবসা করে আমরা জানি, আমাদের জন্য একটু সমস্য, কারণ আমরা জনপ্রতিনিধি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা সারা দেশের মতোই হবিগঞ্জের মাধবপুরে ও মাধ্যবিত্ত নি¤œআয়ের মানুষের আয় ও কাজের রাস্তা  বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপজেলার সব এনজিও/সমবায় সমিতির ঋণের কিস্তির টাকা আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছেন মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন।শনিবার(১৩জুন) রাতে মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের ভেরিফাই আইডি থেকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৯৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ২০৯ জনের। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৯০ হাজার ৬১৯ জন।

আজ সোমবার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁরা ৩২ জন পুরুষ এবং ছয়জন নারী। এঁদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ২০৯ জনের।

জানানো হয়, নতুন যে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা ঢাকা বিভাগের ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ জন, সিলেট বিভাগের ছয়জন, বরিশাল বিভাগের একজন এবং রংপুর বিভাগের একজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৫ জন, বাসায় ১১ জন এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয় দুইজনকে।

এ ছাড়া হাসপাতাল এবং বাসায় মিলে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩৪ হাজার ২৭ জন।

ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৩৩টি। একই সময় পূর্বের নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৮টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে তিন হাজার ৯৯ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৯০ হাজার ৬১৯ জন। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ৫০৩টি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫৮টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার ফলে এই তথ্য এসেছে বলে জানান তিনি।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৫৩৬ জনকে। একইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২৯৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ১৫ হাজার ৮৪৪ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৮১৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১০ হাজার ২৬ জন।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই  হাজার ৯২২ জন। একইসময় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন হাজার ৬৭ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৫৮ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৬১ হাজার ৬৮৯   জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬১ হাজার ৬৬৯ জন।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে সেবা প্রদান যায় বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর'র হটলাইনে কল এসেছে এক লাখ ৬৫ হাজার ১৮৮টি। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হটলাইনে এক কোটি ১৩ লাখ ১০ হাজার ৮২০ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব কলে সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে আরো ছয়জন। এ নিয়ে এখন মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ৩৪৯ জনে। এ ছাড়া বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হটলাইনে চার হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে। 

Published in সংবাদ

সিলেটে লাশ পৌছার সাথে সাথে সংক্রমণ বিধি মেনে সাবেক মেয়র কামরানের জানাযা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর মানিকপীর টিলায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে স্বাস্থ্য ও সংক্রমন বিধি অনুযায়ী শায়িত করা হবে কামরানের লাশ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সিলেট সেন্টারের স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ জানাযা ও দাফন কাজ সংক্রমন বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করবেন । কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সিলেট সেন্টারের অর্গানিয়ার গেলাম রব্বানী এ তথ্য জানান। এর আগে পরিবারের সদস্যদের দেখানোর জন্য লাশ প্রয়াত মেয়রের বাসায় নেয়া হবে।

 

আজ সকাল ৯ টায় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের জরুরী সভায় নেতৃবৃন্দ এ সিদ্বান্ত নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল,সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন,সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন,জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড,নাসির উদ্দিন খান ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারও উপস্থিত ছিলেন।

নেতৃবৃন্দ এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঢাকা থেকে লাশ আসার সাথে সাথেই সাবেক মেয়রের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। জানাযায় একসাথে ভীড় না করে নিজ নিজ এলাকা ও বাড়িতে বসে সাবেক মেয়রের মাগফেরাত কামনা করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে ডানা যায় জানাযা নগরীর মানিকপীড়ের টিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবারের সদস্য,প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ২০জন জানাযা ও দাফনে অংশগ্রহন করবেন।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৭ টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে থেকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে কামরানের মরদেহ নিয়ে সিলেটের পথে রওনা হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ব্যক্তিগত সহকারী বদরুল ইসলাম জানান, এম্বুলেন্স করে বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের লাশ প্রথমে ছড়ারপারস্থ বাসায় আনা হবে। সিলেট আনার পর তার জানাজার নামাজের সময় নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মারা যান।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

প্রসঙ্গত, সিলেট সিটি করপোরেশনের টানা দুইবারের মেয়র কামরান গত ৫ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। পরদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শরীর আরও খারাপ হলে ৭ জুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৮ জুন কামরানের শরীরে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়েছিলো। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার ভোরে মারা যান সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক এই সভাপতি।

এর আগে গত ২৭ মে কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানেরও করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তিনি অনেকটা সুস্থ রয়েছেন এবং বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

Published in সংবাদ

সিলেট সিটি করপোরেশনের  সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনের সংসদ সদস্য শাহনেওয়াজ মিলা গাজী।মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও রাজনৈতিক অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন হবিগঞ্জ-১ আসনের এই সংসদ সদস্য। শোক বার্তায় শাহনেয়াজ মিলাদ গাজী বলেন, জনমানুষের নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ায় দেশ একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদকে হারাল। তিনি ছিলেন সিলেটের মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা ও অভিভাবক। আমার বাবা মরহুম জননেতা আলহাজ্ব দেওয়ান ফরিদ গাজীর সাথে সিলেটে আওয়ামীলীগ পরিবারকে সু সংগঠিত করতে অনেক অবদান ছিল উনার। তিনি সিলেটের মানুষের সুখে-দুঃখে সবার আগে থাকতেন তিনি। সবসময় দরিদ্র মানুষের সমস্যা নিয়ে এগিয়ে আসতেন কামরান।  মিলাদ গাজী আরো বলেন, সিলেটের সকল আন্দোলন সংগ্রামে কামরান ছিলেন একজন সম্মুখযোদ্ধা। সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি রেখেছেন অসামান্য অবদান। তাঁর মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক ও বাহক একজন লড়াকু নেতাকে আমরা হারালাম। এতে সিলেটের রাজনীতিতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা অপূরণীয়। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন শাওনেয়াজ মিলাদ গাজী।

সিলেটের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা হারাল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কামরানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। “প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে সিলেটের উন্নয়নে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান যে অবদান রেখেছেন সেজন্য মানুষ তাকে সব সময় মনে রাখবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা হারাল” -শোকবার্তায় মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

Published in সংবাদ
Page 1 of 2
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular