Login to your account

Username *
Password *
Remember Me

Create an account

Fields marked with an asterisk (*) are required.
Name *
Username *
Password *
Verify password *
Email *
Verify email *
Captcha *
Reload Captcha

রাতভর দাঁড় করিয়ে গিরায় গিরায় পেটানো হতো সাঈদের টর্চার সেলে Featured

Written by  Online Desk Nov 29, 2019

মতিঝিলে দুটি বহুতল ভবন জবরদখল করেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল হক সাঈদ। সেই ভবনে গড়ে তোলেন চর্টার সেল। কেউ অবাধ্য হলে কিংবা আদেশ অমান্য করলে তার ওপর নেমে আসত খড়গ। ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তাকে তুলে ওই চর্টার সেলে এনে রাতভর দাঁড় করিয়ে পেটানো হতো গিরায়। মতিঝিল, আরামবাগ, দিলকুশা এলাকার অনেক লোক এ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীরাই এ তথ্য দিয়েছেন।

রাজধানীতে মাদক ও ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে গা ঢাকা দেন যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ঢাকায় আরেক আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে (ক্যাসিনো সম্রাট) গুরু মানেন তিনি। সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার দেখভালও করেন তিনি। এ কারণে মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় ক্লাবগুলোতে যাতায়াতকারীদের কাছে তিনি ক্যাসিনো সাঈদ নামে পরিচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতিঝিলের ৮৯ এবং ৮৯/১ আরামবাগে দুটি ভবন দখল করে রাজাকার ভবন বানান সাঈদ। একটি ভবন ৮ তলা এবং অন্য একটি ভবন ৪ তলাবিশিষ্ট। ভবন দুটি এক সময় হাজীর ভবন হিসেবে পরিচিত ছিল।

জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী কেনার পর নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেড (বিপিএল) ভবন। পরে এটি স্থানীয়দের কাছে রাজাকার ভবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

 

২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী গ্রেফতার হওয়ার পরই ওই দুটি ভবনের দিকে নজর পড়ে যুবলীগ যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদের।

২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হওয়ার পর লাগোয়া দুই ভবনের একটিতে অফিস খোলেন সাঈদ। ২০১৬ সালে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ভবন দুটি থেকে মীর কাসেমের স্টাফদের বের করে দিয়ে রাতারাতি দখল করে নেন সাঈদ।

এরপর ৮৯ নম্বর আরামবাগের রাজাকার ভবনের দ্বিতীয়তলায় গড়ে তোলেন টর্চার সেল। ভবন দুটির ভাড়াটিয়াদের ডেকে বলেন, এখন থেকে সব ভাড়া আমাকে দেবেন।

এরপর থেকে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া তুলছেন সাঈদের ক্যাডাররা। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং ক্যাসিনো বাণিজ্যে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালেই তাকে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তুলে রাজাকার ভবনে নিয়ে নির্যাতন করতেন সাঈদ। এ ক্ষেত্রে নিজ দলের হলেও রেহাই পেতেন না।

সাঈদের ক্যাডার বাহিনীর কেবল দুই রাজাকার ভবন থেকেই চাঁদা এবং ভাড়া নয়, আরামবাগ ফকিরাপুল এলাকার সব দোকান থেকে দিনে ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলেন। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে সাঈদের বিরুদ্ধে।

ক’দিন আগেও রাজাকার ভবনে তরুণীদের আনাগোনা দেখা গেছে। পাশের ইয়ংমেনস ক্লাবসহ যেসব ক্লাবে ক্যাসিনো চলত সেখানে সুন্দরী তরুণীদের উপস্থিতি ছিল। ওইসব তরুণী রাজাকার ভবনে থাকতেন বলেন স্থানীয়রা জানায়। সাঈদের ক্যাডাররা রাজাকার ভবনে চালু করেছিল ইয়াবা বারও।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানের মুখে ক্যাসিনো, ইয়াবা বার বন্ধ হয়েছে। সাঈদ পালিয়ে সিঙ্গাপুরে চলে গেছেন। কিন্তু এখনও দুই রাজাকার ভবন রয়েছে সাঈদের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের দখলেই। বুধবার সকালে ভবন দুটিতে গিয়ে তাদের তৎপরতা চোখে পড়েছে।

রাজাকার ভবনের এক বাসিন্দা জানান, ‘সাঈদ কাউন্সিলরের অফিসে দোতলার অফিসে প্রায়ই মিটিং হতো। মিটিংয়ের সময় অনেক অস্ত্রধারী আসত। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করত।’

আয়নাল হক নামের এক ভাড়াটিয়া বলেন, ‘তাদের অত্যাচারের মাত্রা এত বেড়ে গিয়েছিল যে, আমরা অনুমান করতে পারছিলাম একটা কিছু হওয়ার সময় এসেছে। সম্প্রতি ছাত্রলীগের ৪ কর্মীকে এখানে এনে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। কারণ তারা সাঈদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ও মতিঝিল থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান উদ্দিন জামালের অনুসারী ছিল না। যাদের নির্যাতন করা হয়েছে তারা হলেন, রবিউল ইসলাম, রাকিব আহমেদ ভুঁইয়া, মোহাম্মদ অলি চৌধুরী ও রাজন হোসেন। কেবল নির্যাতন করেই সাঈদ বাহিনীর লোকজন ক্ষান্ত হয়নি। মিথ্যা মামলায় তাদের জেলহাজতেও পাঠানো হয়।

আয়নাল হোসেন বলেন, সাঈদের টর্চার সেলে ফাইবারের লাঠি দিয়ে পেটানো হতো। বেঁধে রাতভর দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। শরীরের গিরায় গিরায় এবং হাত-পায়ের তালুতে পেটানো হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানের পর দ্বিতীয়তলার অফিস থেকে নির্যাতন সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এখনও তার ক্যাডাররা সেখানে অবস্থান করছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় মোহামেডান, আরামবাগ, দিলকুশা, ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ও ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর ছড়াছড়ি। এর মধ্যে ইয়াংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্রাটের শিষ্য খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। বাকি পাঁচটি ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন সম্রাটের লোকজন।

সম্রাটের ক্যাসিনোর দেখাশোনা করতেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক ওরফে সাঈদ। তারা এক বছর আগে পল্টনের প্রীতম–জামান টাওয়ারে ক্যাসিনো চালু করেছিলেন। মমিনুল হক এখন বিদেশে।

গত বুধবার ঢাকার মতিঝিলের ফকিরাপুল ইয়াংমেনস ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রে র্যা বের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো মেলার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনায় যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

ওই দিনই গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। পর দিন কলাবাগান ক্লাব থেকে গ্রেফতার করা হয় কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে। দুদিন পর গ্রেফতার করা হয় ঠিকাদার জিকে শামীমকে, যিনিও যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

  1. Popular
  2. Trending
  3. Comments

Calender

« January 2020 »
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
    1 2 3 4 5
6 7 8 9 10 11 12
13 14 15 16 17 18 19
20 21 22 23 24 25 26
27 28 29 30 31