Login to your account

Username *
Password *
Remember Me

Create an account

Fields marked with an asterisk (*) are required.
Name *
Username *
Password *
Verify password *
Email *
Verify email *
Captcha *
Reload Captcha

মতিঝিলে দুটি বহুতল ভবন জবরদখল করেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল হক সাঈদ। সেই ভবনে গড়ে তোলেন চর্টার সেল। কেউ অবাধ্য হলে কিংবা আদেশ অমান্য করলে তার ওপর নেমে আসত খড়গ। ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তাকে তুলে ওই চর্টার সেলে এনে রাতভর দাঁড় করিয়ে পেটানো হতো গিরায়। মতিঝিল, আরামবাগ, দিলকুশা এলাকার অনেক লোক এ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীরাই এ তথ্য দিয়েছেন।

রাজধানীতে মাদক ও ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে গা ঢাকা দেন যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ঢাকায় আরেক আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে (ক্যাসিনো সম্রাট) গুরু মানেন তিনি। সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার দেখভালও করেন তিনি। এ কারণে মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় ক্লাবগুলোতে যাতায়াতকারীদের কাছে তিনি ক্যাসিনো সাঈদ নামে পরিচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতিঝিলের ৮৯ এবং ৮৯/১ আরামবাগে দুটি ভবন দখল করে রাজাকার ভবন বানান সাঈদ। একটি ভবন ৮ তলা এবং অন্য একটি ভবন ৪ তলাবিশিষ্ট। ভবন দুটি এক সময় হাজীর ভবন হিসেবে পরিচিত ছিল।

জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী কেনার পর নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেড (বিপিএল) ভবন। পরে এটি স্থানীয়দের কাছে রাজাকার ভবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

 

২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী গ্রেফতার হওয়ার পরই ওই দুটি ভবনের দিকে নজর পড়ে যুবলীগ যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদের।

২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হওয়ার পর লাগোয়া দুই ভবনের একটিতে অফিস খোলেন সাঈদ। ২০১৬ সালে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ভবন দুটি থেকে মীর কাসেমের স্টাফদের বের করে দিয়ে রাতারাতি দখল করে নেন সাঈদ।

এরপর ৮৯ নম্বর আরামবাগের রাজাকার ভবনের দ্বিতীয়তলায় গড়ে তোলেন টর্চার সেল। ভবন দুটির ভাড়াটিয়াদের ডেকে বলেন, এখন থেকে সব ভাড়া আমাকে দেবেন।

এরপর থেকে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া তুলছেন সাঈদের ক্যাডাররা। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং ক্যাসিনো বাণিজ্যে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালেই তাকে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তুলে রাজাকার ভবনে নিয়ে নির্যাতন করতেন সাঈদ। এ ক্ষেত্রে নিজ দলের হলেও রেহাই পেতেন না।

সাঈদের ক্যাডার বাহিনীর কেবল দুই রাজাকার ভবন থেকেই চাঁদা এবং ভাড়া নয়, আরামবাগ ফকিরাপুল এলাকার সব দোকান থেকে দিনে ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলেন। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে সাঈদের বিরুদ্ধে।

ক’দিন আগেও রাজাকার ভবনে তরুণীদের আনাগোনা দেখা গেছে। পাশের ইয়ংমেনস ক্লাবসহ যেসব ক্লাবে ক্যাসিনো চলত সেখানে সুন্দরী তরুণীদের উপস্থিতি ছিল। ওইসব তরুণী রাজাকার ভবনে থাকতেন বলেন স্থানীয়রা জানায়। সাঈদের ক্যাডাররা রাজাকার ভবনে চালু করেছিল ইয়াবা বারও।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানের মুখে ক্যাসিনো, ইয়াবা বার বন্ধ হয়েছে। সাঈদ পালিয়ে সিঙ্গাপুরে চলে গেছেন। কিন্তু এখনও দুই রাজাকার ভবন রয়েছে সাঈদের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের দখলেই। বুধবার সকালে ভবন দুটিতে গিয়ে তাদের তৎপরতা চোখে পড়েছে।

রাজাকার ভবনের এক বাসিন্দা জানান, ‘সাঈদ কাউন্সিলরের অফিসে দোতলার অফিসে প্রায়ই মিটিং হতো। মিটিংয়ের সময় অনেক অস্ত্রধারী আসত। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করত।’

আয়নাল হক নামের এক ভাড়াটিয়া বলেন, ‘তাদের অত্যাচারের মাত্রা এত বেড়ে গিয়েছিল যে, আমরা অনুমান করতে পারছিলাম একটা কিছু হওয়ার সময় এসেছে। সম্প্রতি ছাত্রলীগের ৪ কর্মীকে এখানে এনে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। কারণ তারা সাঈদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ও মতিঝিল থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান উদ্দিন জামালের অনুসারী ছিল না। যাদের নির্যাতন করা হয়েছে তারা হলেন, রবিউল ইসলাম, রাকিব আহমেদ ভুঁইয়া, মোহাম্মদ অলি চৌধুরী ও রাজন হোসেন। কেবল নির্যাতন করেই সাঈদ বাহিনীর লোকজন ক্ষান্ত হয়নি। মিথ্যা মামলায় তাদের জেলহাজতেও পাঠানো হয়।

আয়নাল হোসেন বলেন, সাঈদের টর্চার সেলে ফাইবারের লাঠি দিয়ে পেটানো হতো। বেঁধে রাতভর দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। শরীরের গিরায় গিরায় এবং হাত-পায়ের তালুতে পেটানো হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানের পর দ্বিতীয়তলার অফিস থেকে নির্যাতন সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এখনও তার ক্যাডাররা সেখানে অবস্থান করছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় মোহামেডান, আরামবাগ, দিলকুশা, ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ও ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর ছড়াছড়ি। এর মধ্যে ইয়াংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্রাটের শিষ্য খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। বাকি পাঁচটি ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন সম্রাটের লোকজন।

সম্রাটের ক্যাসিনোর দেখাশোনা করতেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক ওরফে সাঈদ। তারা এক বছর আগে পল্টনের প্রীতম–জামান টাওয়ারে ক্যাসিনো চালু করেছিলেন। মমিনুল হক এখন বিদেশে।

গত বুধবার ঢাকার মতিঝিলের ফকিরাপুল ইয়াংমেনস ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রে র্যা বের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো মেলার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনায় যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

ওই দিনই গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। পর দিন কলাবাগান ক্লাব থেকে গ্রেফতার করা হয় কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে। দুদিন পর গ্রেফতার করা হয় ঠিকাদার জিকে শামীমকে, যিনিও যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

ইস্টার্ন কমলাপুর কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স নামে ভবনের চতুর্থ তলায় ছিল এই টর্চার সেলের অবস্থান

যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদকে গ্রেফতারের পর তার পরিচালিত কথিত একটি ‘টর্চার সেলের’ সন্ধান পেয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় ‘টর্চার সেলটির’ সন্ধান পায় র‍্যাব-৩।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমলাপুর রেলস্টেশনের বিপরীত দিকে অবস্থিত ইস্টার্ন কমলাপুর কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স নামে ভবনের চতুর্থ তলায় ছিল এই টর্চার সেলের অবস্থান।

 

স্থানীয় ও র‍্যাব সূত্রে খবর, দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে লোকজনকে ধরে এনে সেখানে অত্যাচার করতেন খালেদ। গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সময় খালিদের হাতে নির্যাতিতদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী সেখানে অভিযান চালায় র‍্যাব।

অভিযানে বৈদ্যুতিক শক, কাঠের তৈরি লাঠি, নগদ অর্থ, ১৯০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, পাঁচটি বিয়ারের ক্যান, তিনটি মোবাইল ফোন এবং দু'টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয় কথিত ওই টর্চার সেল থেকে।

 

প্রসঙ্গত, রাজধানীর ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে ‘ক্যাসিনো’ চালানোর অভিযোগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে বুধবার আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে চারটি মামলা করা হয়েছে।

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রীকে আটকে রেখে পালাক্রমে সপ্তাহ ব্যাপী ধর্ষণ করে দুলাল নামের ট্রাক চালক। এই ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার বিচার চেয়েও কোন প্রতিকার পায়নি। ২৭শে নভেম্বর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে ভিকটিমের ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বার খবরে ওই ছাত্রীর মা হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
ভিকটিমের পরিবার জানায়, তাদের প্রতিবেশী ইয়ানুর বেগম ৫ম শ্রেনীতে পড়া মেয়েকে একটি ঘরে আটকে রেখে ট্রাক ড্রাইবার দুলালকে দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে, এরা একাধিকবার চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতাদের কাছে বিচার চাইলে তারা কোন প্রকার প্রতিকার না করে উল্টো চুপ থাকার জন্য ভয় দেখায়। ধর্ষণের শিকার শিশুটির শরীরের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ২৭ নভেম্বর ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার পরীক্ষা করে ৭ মাসের গর্ভবতী  বলে জানান। এ খবর শুনেই মা নাজমা বেগম হার্ট অ্যাটাক করে,পরে ভোলা সদর হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এদিকে ধর্ষক দুলালকে গতকাল দিবাগত রাতে লালামোহন থানার ওসি মীর খায়রুল কবির গ্রেপ্তার করলেও ধর্ষণে সহয়তা করা বোরহানউদ্দিনের কাচিয়া ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আজিজুল এর স্ত্রী  ইয়ানুর আজ দু'দিন ধরে পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে  লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান  বলেন, আমি বোরহাউদ্দিন থানার ওসির সাথে কথা বলে দ্রুত  ধর্ষককে আইনের আওতায় আনার জন্য বলেছি। লালমোহান থানার ওসি মীর খায়রুল কবির জানান, ধর্ষকের  সহযোগী মহিলা ইয়ানুর বেগম পালিয়ে গেলেও  তাৎক্ষনিকভাবে  বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ধর্ষক দুলালকে লালমোহন থানা পুলিশ আটক করে।
তিনি  আরো জানান, ধর্ষক দুলালের বাড়ি  লালমোহনে হওয়ায় এখন লালমোহন থানার আওতায় আছে। ঘটনাস্থল বোরহানউদ্দিন হওয়ায় আমরা ধর্ষককে বোরহাউদ্দিন থানায় হস্তান্তর করবো।

পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিকে ফাঁসাতে গিয়ে জনতার হাতে আটক ও গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাঁশতৈল ফাঁড়ির ৩ পুলিশ সদস্য ও এক সোর্স। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তোজাম্মেল ও হালিম নামের আরও দুই পুলিশ সদস্য। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সায়েদুর রহমান।
আটককৃতরা হলেন বাঁশতৈল ফাঁড়ির এএসআই রিয়াজুল ইসলাম, কনস্টেবল গোপাল সাহা ও রাসেল। এছাড়াও আটক হয়েছেন তাদেরই সোর্স হাসান মিয়া।
এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের সখিপুর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়েরের পর শুক্রবার তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার  সন্ধ্যায় এএসআই রিয়াজের নেতৃত্বে ৫ সদস্যদের একটি পুলিশ টিম টাঙ্গাইলের সখিপুর থানাধীন হাতিয়া রাজাবাড়ি এলাকার ভাতকুড়া গাবিলার বাজারে গিয়ে ওই এলাকার ফরহাদ মিয়ার ছেলে বজলুুর পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন ওই পুলিশ সদস্যরা। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে ওই পুলিশ সদস্যদের আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে মির্জাপুর থানার পুলিশ ও সখিপুর থানার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে।।

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব অবৈধ অস্ত্র দেখিয়ে ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও দখলদারি কায়েম করেছিলেন মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এলাকায়। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাজীবের বিরুদ্ধে গত সোমবার অভিযোগপত্র দাখিল করার পর অস্ত্র মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত মামলার নথি এখন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠাবেন।

কাউন্সিলর রাজীবের অস্ত্র মামলাটি তদন্ত করেন র‌্যাব-২-এর উপপরিদর্শক (এসআই) প্রণয় কুমার প্রামাণিক। চার্জশিটে বলা হয়েছে, প্রকাশ্য তদন্ত, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় রাজীবের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি দখলে রাখার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি জেলহাজতে আছেন। বিচারের জন্য তাঁকে সোপর্দ করা হলো। চার্জশিটে মোট ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে রাজীবের অপরাধ প্রমাণ করবেন।

তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, কাউন্সিলর রাজীব ছিলেন মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এলাকার ত্রাস। রাজীব ও তাঁর সহযোগীদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মামলা-মোকদ্দমা করারও সাহস পায়নি। তিনি সব সময় অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করতেন এবং সন্ত্রাসীদের নিয়ে চলাফেরা করতেন।

চার্জশিটে আরো বলা হয়, অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আসামি অত্যন্ত ধূর্ত ও চালাক প্রকৃতির লোক। কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে রাতারাতি মোহাম্মদপুর, চাঁদ উদ্যান ও রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি করেছেন। তিনি নিত্যনতুন যানবাহনও ব্যবহার করতেন। মোহাম্মদপুর আদাবরে ‘অপরাধজগতের সুলতান’ হিসেবে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন।

গত ১৯ অক্টোবর বারিধারার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সাতটি বিদেশি মদের বোতল, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, নগদ ৩৩ হাজার টাকা ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাব অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করে ভাটারা থানায়।

এদিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে র‌্যাবের দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, মঞ্জু অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে রাজধানী সুপার মার্কেট, টিকাটুলি ও ওয়ারী থানা এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমি দখল করে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয় তদন্তে জানা যায়। মঞ্জুু ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে মঞ্জু ও তাঁর সহযোগীরা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

গত ৩১ অক্টোবর দুপুরে টিকাটুলির নিজ কার্যালয় থেকে মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। অভিযান পরিচালনাকালে মঞ্জুর দখল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই অস্ত্র ও মাদক আইনে ওয়ারী থানায় দুটি মামলা করে র‌্যাব।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট। রাজধানীর ক্লাবগুলোতে যাতায়াতকারীদের কাছে তিনি ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে পরিচিত। যুবলীগের রাজনীতি করলেও তার নেশা ও পেশা জুয়া খেলা। জুয়ার ব্যবসা করে কামিয়েছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। তিনি মাসে অন্তত একবার সিঙ্গাপুরে যেতেন, জুয়া খেলতে, ১০ দিন থাকতেন। তার জুয়ার আসর থেকে কেউ-ই জিতে আসতে পারেন না। মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, পল্টন এলাকাসহ অন্তত ১০টি ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

 

 

যুবলীগ নেতা সম্রাট ক্যাসিনো ব্যবসার পাশাপাশি চাঁদাবাজিতেও ছিলেন সিদ্ধহস্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জাকাত ও দানের টাকা দিতেন আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামে। সেখান থেকেও চাঁদা নিতেন সম্রাট। যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মতো একটি বড় ইউনিটের সভাপতি হওয়ার সুবাধে তার ছিল বিশাল বাহিনী। তিনি কাকরাইলের অফিসে অবস্থান করলেও কয়েকশ' নেতাকর্মী সবসময় তাকে ঘিরে রাখত। অফিস থেকে বের হয়ে কোথাও গেলে তাকে প্রটোকল দিতেন শতাধিক নেতাকর্মী। অবৈধ উপার্জনের টাকা দিয়েই এ বাহিনী পালতেন সম্রাট।

 

 

 

সম্রাটের রাজনৈতিক জীবন শুরু ১৯৯০ সালে। সেই সময়কার ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট। তখন সারাদেশে এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলছিল। সম্রাট রমনা অঞ্চলে আন্দোলনের সংগঠকের দায়িত্বে ছিলেন। এ কারণে তখন নির্যাতনসহ জেলও খাটতে হয় তাকে। এর পর থেকেই ‘সম্রাট’ খ্যাতি পান সাহসী সম্রাট হিসেবে।

 

 

 

যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরীর জন্ম ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর গ্রামে। তার বাবা ফয়েজ আহমেদ ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। বাড়ি পরশুরামে হলেও সেখানে তাদের পরিবারের কেউ থাকেন না। বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় বড় হন সম্রাট।

 

 

সম্রাটের বড় ভাই বাদল চৌধুরী ঢাকায় তার ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। ছোট ভাই রাশেদ ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। মা বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর সম্রাটের পরিবারের সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন। সম্রাট থাকতেন মহাখালীর বাসায়। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে তিনি বাসায় নেই।

 

 

সম্রাট ১৯৯১ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি করা অবস্থায় এরশাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। সে আমলে সম্রাটের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ১/১১-এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সময় সম্রাট যুবলীগের প্রথমসারির নেতা ছিলেন।

 

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসে। এর পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হতে থাকেন সম্রাট। দলীয়ভাবে পদোন্নতিও হয় তার। আওয়ামী লীগের বড় বড় অনুষ্ঠানে পরিচিত মুখ হিসেবে উপস্থিত থাকতেন।

 

 

যুবলীগের সবশেষ কাউন্সিলে তিনি যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হন। আগের কমিটিতে তিনি ছিলেন একই ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক। দক্ষিণ যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা মিল্কীর হত্যাকাণ্ডের পর সম্রাটের আর পিছু তাকাতে হয়নি। মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল, বাড্ডা এলকায় অপরাধ জগতের একক আধিপত্য তৈরি করেন সম্রাট। তিনি ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সঙ্গে মিলে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

সম্রাটের ঘনিষ্ঠ দুই সহচর হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ (কাউন্সিলর) ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। যুবলীগের অপর প্রভাবশালী নেতা জিকে শামীমও সম্রাটকে অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন। সাঈদকে কাউন্সিলর বানান সম্রাটই। পরে তাকে দিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা দেখভাল করাতেন তিনি।

 

 

সম্রাট ছিলেন ঢাকায় ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম সক্রিয় কর্মী। ঢাকায় দলীয় সমাবেশগুলো সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন তিনি। টাকা ও জনবল সরবরাহের কাজ করতেন সম্রাট। এসবের মাধ্যমে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। ওমর ফারুক চৌধুরী সম্রাটকে যুবলীগের শ্রেষ্ঠ সংগঠক ঘোষণা করেন।

 

 

সম্প্রতি ক্যাসিনো চালানো, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ সব অভিযোগের তীর এখন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের দিকে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজধানীর মতিঝিলসহ দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার সরকারি দফতর, ক্লাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৪ সেপ্টেম্বর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি যুবলীগের কয়েকজন নেতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ। প্রধানমন্ত্রী সম্রাটের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে।

 

 

শেখ হাসিনা বলেন, আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরও দমন করা হবে।

 

 

এর পরই শুদ্ধি অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতার করা হয় একে একে খালিদ, শামীমসহ যুবলীগ নেতাদের।

 

 

১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইয়াংমেনস স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। চার মামলায় তাকে রিমান্ডে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ব্যবসায় খালেদের ‘গুরু’ হিসেবে পরিচিত সম্রাট।

 

 

এর দুদিন পর গ্রেফতার করা হয় টেন্ডার কিং হিসেবে পরিচিত আরেক যুবলীগ নেতা জিকে শামীমকে। তিনিও চাঁদাবাজির টাকার ভাগ দিতেন সম্রাটকে।

 

 

খালিদ ও শামীম দুজনেই জিজ্ঞাসাবাদে তার অপকর্মের ভাগীদার হিসেবে সম্রাটের নাম উল্লেখ করেন। এর পর থেকে গা ঢাকা দেন সম্রাট। আড়ালে থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছে ধর্না দেন তাকে যেন গ্রেফতার না করা হয়। তিনি শেষ সুযোগ হিসেবে দেশ ছাড়ার সুযোগ চাইছিলেন। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার এড়াতে পারেননি।

 

 

রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ সময় সম্রাটের আরেক সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকেও গ্রেফতার করা হয়।

 

 

র‌্যাব জানায়, ফেনী ভ্রমণের সময় সম্রাটের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকেন আরমান। তিনিও ফেনী থেকে উঠে এসেছেন। সম্রাটের আর্থিক লেনদেনগুলো করে থাকেন আরমান। ঠিকাদার হিসেবেও আরমানের পরিচিতি রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে সম্রাট তাকে সহযোগিতা করেন বলেও জানা গেছে।

 

 

সম্রাট যখন জুয়া খেলতে সিঙ্গাপুর যেতেন, তখন তার সঙ্গী হতেন আরমান ও কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ।

 

 

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় মোহামেডান, আরামবাগ, দিলকুশা, ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ও ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর ছড়াছড়ি। এর মধ্যে ইয়াংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্রাটের শিষ্য খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। বাকি পাঁচটি ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন সম্রাটের লোকজন।

 

 

সম্রাটের ক্যাসিনোর দেখাশোনা করতেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক ওরফে সাঈদ। তারা এক বছর আগে পল্টনের প্রীতম–জামান টাওয়ারে ক্যাসিনো চালু করেছিলেন। অভিযান শুরু হওয়ার পর মমিনুল সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান।

নারায়ণগঞ্জে যোগ দেয়ার আগে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হারুন অর রশীদ। টানা চার বছর এ জেলায় দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে অজস্র অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের জিম্মি করে টাকা আদায়, জমি দখলে সহায়তা ও মদত দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার দাপটে কোনঠাসা ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। টাকার জন্য তার জিম্মি ফাঁদে পড়েন খোদ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও। গাজীপুর থেকে বদলি হওয়ার পর হারুনের নানা অপকর্মের বিষয় আলোচনায় আসে। তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলেননি। নারায়ণঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের পর তার বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেয়ায় এখন গাজীপুরের ভুক্তভোগীরাও মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

যত অভিযোগ: ২০১৮ সালে মাওনার নয়নপুর বাজারে প্রায় ২১ শতাংশ জমির ওপর একটি মার্কেট দখলে এসপি হারুন সহযোগিতা করেন। বিনিময়ে তিনি নেন বড় অংকের টাকা। এমন অভিযোগ করেছেন ওই মার্কেটের মালিক আমিনুল হাজী। তিনি বলেন, আমরা তিন ভাইয়ের নামে ওই মার্কেটটি ছিল। প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪৪ শতাংশ জমি কিনেছিলেন আমাদের বাবা। পরে সরকার এই জমির ২৩ শতাংশ নিয়ে যায়। বাকি ২১ শতাংশ জমির ওপরই মার্কেটটি ছিল। কিন্তু গত বছরের ৪ঠা অক্টোবর জমির পূর্বের মালিকের ছেলে আমির হোসেন এসপি হারুন ও ডিবির সহযোগিতায় মার্কেটটি দখলে নিয়ে যায়। অথচ জমির সবকিছু ঠিক ছিল। একদিন গভীর রাতে শ’ শ’ পুলিশ ও ডিবি সদস্যদের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে মার্কেটটি ভেঙ্গে তারা দখলে নেয়। এর আগে জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য ডিবি আমাদের বাড়িতে গিয়ে খারাপ আচরণ করেছিলো। তারা আমাদের অনেক ভয়ভীতি হুমকি দিয়েছিলো। এরপর এসপি অফিসে গিয়ে ডিবির ওসি আমির হোসেনের কাছে আমরা ঘটনা বুঝিয়ে বলি। কিন্তু তিনিও আমাদেরকে সহযোগিতা না করে উল্টো মার্কেটটি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন।

২০১৭ সালের ৪ঠা নভেম্বর দুপুর ১টা। গাজীপুর পৌর সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার মুক্ত সংবাদ পত্রিকার অফিস থেকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা জোরপূর্বক টেনে হিচড়ে তুলে নিয়ে যায় পত্রিকাটির সম্পাদক প্রকাশক মো. সোহরাব হোসেনকে। তিনি ছোটবেলা থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধি।

যারা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলো তাদের তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেন তাকে নেয়া হচ্ছে। ডিবির সদস্যরা জবাব দেন এসপি হারুনের নির্দেশে তাকে নেয়া হচ্ছে।

মুক্ত সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, আমাকে প্রথমে নেয়া হয় গাজীপুর ডিবি অফিসে। সেখানে গিয়ে দেখি সাব রেজিষ্টার মনিরুল ইসলাম বসে আছেন। যার বিরুদ্ধে ঘটনার কয়েকদিন আগে বিভিন্ন দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে আমার পত্রিকায় তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট করেছিলাম। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তৎকালীন ডিবির ইন্সপেক্টর আমির হোসেন আমাকে বলেন, সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে আমি চাঁদা চেয়েছি। কিন্তু কখনওই আমি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে যাইনি। ওই অফিসের আটটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই সেটি নিশ্চিত হওয়া যেত। কিন্তু তারা আমার কথা শুনেননি। বরং আমাকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে কোর্টে নিয়ে গারদখানায় আটকে রাখতে চেয়েছিলেন। পরে সেখানে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে চাঁদাবাজির মামলা তৈরি করে আমাকে আদালতে তোলা হয়। ওই মামলায় আমি ১৭দিন জেলে ছিলাম। ওইদিনই আবার জেলগেট থেকে তুলে নিয়ে এসপি হারুনের কাছে আমাকে মুচলেকা দিতে হয়েছে।

চার বছর আগে একশ কোটি টাকা মুল্যের একটি জমি জোর করে রেজিষ্ট্রি করতে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সহযোগিতা করেছেন এসপি হারুন এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জেলা যুগ্ম জজ আদালতে মামলাও হয়েছিলো। ২০১৬ সালের ১০ই মে ভুমি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দা এই মামলা করেন। পরে এসপি হারুন আদালতে মুচলেকা দিয়ে জামিন নেন।

এসপি হারুনের হয়ানির শিকার হয়েছিলেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মাহতাব উদ্দিন। বর্তমান এমপি ইকবাল হোসেন সবুজের রাজনৈতিক সমন্বয়ক হিসাবে কাজ করায় তখন তাকে হয়রানি করা হয়। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক মামলাও দেয়া হয়েছিল। এর নেপথ্য ছিলেন সাবেক একজন এমপি পূত্র। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ই এপ্রিল গভীর রাতে মাওনা চৌরাস্তার পাশে মাহতাব উদ্দিনের বাড়িতে ডিবি পুলিশ গিয়ে হানা দেয়। তখন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন তার নামে কোনো মামলা আছে কিনা বা কেনইবা তাকে নেয়া হবে। তখন ডিবির এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, এসপি হারুন নিয়ে যেতে বলেছেন। এরপর ডিবির সদস্যরা গাজীপুর নেয়ার উদ্দেশে একটি মাইক্রো বাসে উঠায় তাকে।

কিন্তু তারা গাজীপুরের রাস্তায় না নিয়ে মাওনা চৌরাস্তা ঘুরিয়ে অন্যদিকে জেলা ডিবি অফিসে নিয়ে একটি রুমে রাখে। পরের দিন সকালে একটি কালো মাইক্রোতে তুলে শহরের বাইরে নির্জন একটি এলাকায় নিয়ে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখে। বিকালে মাহতাব উদ্দিনকে কোর্টের গারদ খানায় নেয়া হয়। গারদ খানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডিবির কাছে মামলার ফরোয়ার্ডিং চান। তখন ডিবি সদস্যরা বলেন উনার নামে কোনো মামলা নেই, মামলা আসছে। স্যার আপনাদের কাছে রাখার জন্য বলছেন। তখন ফরোয়াডিং ছাড়া তাকে রাখতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা। পরে ডিবি সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ওই কর্মকর্তার কথা বলান। এরপর মাহতাব উদ্দিনকে নিয়ে ওই কর্মকর্তা তার কক্ষে রাখেন। এরপর বিকাল বেলা তাকে মাদক মামলায় আদালতে হাজির করা হয়।

মাহতাব উদ্দিন বলেন, আমার সঙ্গে নাকি দুই শত পিস ইয়াবা আছে এমন মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে ২৪ দিন জেল খাটায়। একদম বিনা অপরাধে আমাকে তারা এই হয়রানি করেছে।

মাহবুব হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায় করেন হারুন। নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আদায় ও অমানবিক নির্যাতন করেন। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মাহবুব হোসেন নিজেই। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার শফিকুর বাজারের সাবেক ব্যবসায়ী নেতা। ভয়াল ওই রাতের বর্ননা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাকে মোবাইল ফোনে ডিবি অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চায় এক ব্যক্তি। আমি তাদের আমার ঠিকানা দেই। ঠিকানা মত এসে তারা আমাকে বলে এসপি স্যারের (হারুন অর রশীদ) নির্দেশ আপনাকে গাজীপুর যেতে হবে। তখন তারা আমাকে একটি গাড়িতে তোলে মৌচাক পার হওয়ার পর পেছনে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে চোখ-মুখ বেধে ফেলে। টের পেয়েছি আমি ছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও কয়েকজনকে আটক করেছিলো। তারপর আমাকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরাতে থাকে। একপর্যায়ে আমাকে গাড়ির মধ্যেই নির্যাতন শুরু করে। বেধড়ক পেটাতে পেটাতে আমাকে তারা বলে আপনার কোনো লোক নাই। থাকলে আলোচনা করেন। না হলে কালেমা পড়েন। আপনাকে রক্ষা করতে পারবো না আমরা, মেরে ফেলবো। একটা উপায় আছে দুই কোটি টাকা দিলে রক্ষা করতে পারবো। তখন গভীর রাতে আমার ভাইকে ফোন দিয়ে বলি আমাকে ধরে নিয়ে আসছে। এখন তারা টাকা চায়, পারলে টাকার ব্যবস্থা করে আমাকে বাঁচা। এরপর তারা আমাকে নিয়ে যায় কড্ডা। সেখানে গিয়ে দেখি ইন্সপেক্টর বাচ্চু। তিনিও আমাকে খুব মারধর করেন। তারপর সেখান থেকে নিয়ে যায় এসপি হারুনের ঘনিষ্ট জসিমের বাড়িতে।

ততক্ষণে তারা আমার ভাইয়ের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আমার কাছে ছিল আরও নগদ ৭০ হাজার ও ২০ লাখ এবং সাড়ে ১৮ লাখ টাকার দুটি চেক। সেগুলো তারা নিয়ে বলে পরেরদিন সকালে আরও টাকা দিতে হবে।

এছাড়া পুলিশের সামনেই জসিম বলে ১০ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে হবে। আমি দিতে রাজি না হলে তারা আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। পরে চার শতাংশ জমি দেয়ার কথা বলে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরেরদিন অস্ত্রসহ ১০/১২ জন পুলিশ ও জসিম আমার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। আমার কাছ থেকে নেয়া চেক দিয়ে টাকা তুলে দিতে বলে। এভাবে দুটি চেকের মাধ্যমে আমি সাড়ে ৩৮ লাখ টাকা তুলে দেই। এর ঠিক কয়েক দিন পর তারা অস্ত্রের মুখে আমার মেয়ে ও আমাকে তুলে নিয়ে চার শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে তারা আমার কাছ বিভিন্ন সময় ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আর সব কিছু এসপি হারুনের নির্দেশে তারই ঘনিষ্টদের দিয়ে করানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে যোগ দেয়ার আগে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হারুন অর রশীদ। টানা চার বছর এ জেলায় দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের জিম্মি করে টাকা আদায়, জমি দখলে সহায়তা ও মদত দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার দাপটে কোনঠাসা ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। টাকার জন্য তার জিম্মি ফাঁদে পড়েন খোদ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও। গাজীপুর থেকে বদলি হওয়ার পর হারুনের নানা অপকর্মের বিষয় আলোচনায় আসে। তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলেননি। নারায়ণঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের পর তার বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেয়ায় এখন গাজীপুরের ভুক্তভোগীরাও মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

যত অভিযোগ: ২০১৮ সালে মাওনার নয়নপুর বাজারে প্রায় ২১ শতাংশ জমির ওপর একটি মার্কেট দখলে এসপি হারুন সহযোগিতা করেন। বিনিময়ে তিনি নেন বড় অংকের টাকা। এমন অভিযোগ করেছেন ওই মার্কেটের মালিক আমিনুল হাজী। তিনি বলেন, আমরা তিন ভাইয়ের নামে ওই মার্কেটটি ছিল। প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪৪ শতাংশ জমি কিনেছিলেন আমাদের বাবা। পরে সরকার এই জমির ২৩ শতাংশ নিয়ে যায়। বাকি ২১ শতাংশ জমির ওপরই মার্কেটটি ছিল। কিন্তু গত বছরের ৪ঠা অক্টোবর জমির পূর্বের মালিকের ছেলে আমির হোসেন এসপি হারুন ও ডিবির সহযোগিতায় মার্কেটটি দখলে নিয়ে যায়। অথচ জমির সবকিছু ঠিক ছিল। একদিন গভীর রাতে শ’ শ’ পুলিশ ও ডিবি সদস্যদের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে মার্কেটটি ভেঙ্গে তারা দখলে নেয়। এর আগে জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য ডিবি আমাদের বাড়িতে গিয়ে খারাপ আচরণ করেছিলো। তারা আমাদের অনেক ভয়ভীতি হুমকি দিয়েছিলো। এরপর এসপি অফিসে গিয়ে ডিবির ওসি আমির হোসেনের কাছে আমরা ঘটনা বুঝিয়ে বলি। কিন্তু তিনিও আমাদেরকে সহযোগিতা না করে উল্টো মার্কেটটি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন। ২০১৭ সালের ৪ঠা নভেম্বর দুপুর ১টা। গাজীপুর পৌর সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার মুক্ত সংবাদ পত্রিকার অফিস থেকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা জোরপূর্বক টেনে হিচড়ে তুলে নিয়ে যায় পত্রিকাটির সম্পাদক প্রকাশক মো. সোহরাব হোসেনকে। তিনি ছোটবেলা থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধি।

যারা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলো তাদের তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেন তাকে নেয়া হচ্ছে। ডিবির সদস্যরা জবাব দেন এসপি হারুনের নির্দেশে তাকে নেয়া হচ্ছে। সোহরাব বলেন, আমাকে প্রথমে নেয়া হয় গাজীপুর ডিবি অফিসে। সেখানে গিয়ে দেখি সাব রেজিষ্টার মনিরুল ইসলাম বসে আছেন। যার বিরুদ্ধে ঘটনার কয়েকদিন আগে বিভিন্ন দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে আমার পত্রিকায় তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট করেছিলাম। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তৎকালীন ডিবির ইন্সপেক্টর আমির হোসেন আমাকে বলেন, সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে আমি চাঁদা চেয়েছি। কিন্তু কখনওই আমি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে যাইনি। ওই অফিসের আটটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই সেটি নিশ্চিত হওয়া যেত। কিন্তু তারা আমার কথা শুনেননি। বরং আমাকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে কোর্টে নিয়ে গারদখানায় আটকে রাখতে চেয়েছিলেন। পরে সেখানে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে চাঁদাবাজির মামলা তৈরি করে আমাকে আদালতে তোলা হয়। ওই মামলায় আমি ১৭দিন জেলে ছিলাম। ওইদিনই আবার জেলগেট থেকে তুলে নিয়ে এসপি হারুনের কাছে আমাকে মুচলেকা দিতে হয়েছে।

চার বছর আগে একশ কোটি টাকা মুল্যের একটি জমি জোর করে রেজিষ্ট্রি করতে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সহযোগিতা করেছেন এসপি হারুন এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জেলা যুগ্ম জজ আদালতে মামলাও হয়েছিলো। ২০১৬ সালের ১০ই মে ভুমি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দা এই মামলা করেন। পরে এসপি হারুন আদালতে মুচলেকা দিয়ে জামিন নেন।

এসপি হারুনের হয়ানির শিকার হয়েছিলেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মাহতাব উদ্দিন। বর্তমান এমপি ইকবাল হোসেন সবুজের রাজনৈতিক সমন্বয়ক হিসাবে কাজ করায় তখন তাকে হয়রানি করা হয়। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক মামলাও দেয়া হয়েছিল। এর নেপথ্য ছিলেন সাবেক একজন এমপি পূত্র। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ই এপ্রিল গভীর রাতে মাওনা চৌরাস্তার পাশে মাহতাব উদ্দিনের বাড়িতে ডিবি পুলিশ গিয়ে হানা দেয়। তখন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন তার নামে কোনো মামলা আছে কিনা বা কেনইবা তাকে নেয়া হবে। তখন ডিবির এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, এসপি হারুন নিয়ে যেতে বলেছেন। এরপর ডিবির সদস্যরা গাজীপুর নেয়ার উদ্দেশে একটি মাইক্রো বাসে উঠায় তাকে।

কিন্তু তারা গাজীপুরের রাস্তায় না নিয়ে মাওনা চৌরাস্তা ঘুরিয়ে অন্যদিকে জেলা ডিবি অফিসে নিয়ে একটি রুমে রাখে। পরের দিন সকালে একটি কালো মাইক্রোতে তুলে শহরের বাইরে নির্জন একটি এলাকায় নিয়ে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখে। বিকালে মাহতাব উদ্দিনকে কোর্টের গারদ খানায় নেয়া হয়। গারদ খানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডিবির কাছে মামলার ফরোয়ার্ডিং চান। তখন ডিবি সদস্যরা বলেন উনার নামে কোনো মামলা নেই, মামলা আসছে। স্যার আপনাদের কাছে রাখার জন্য বলছেন। তখন ফরোয়াডিং ছাড়া তাকে রাখতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা। পরে ডিবি সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ওই কর্মকর্তার কথা বলান। এরপর মাহতাব উদ্দিনকে নিয়ে ওই কর্মকর্তা তার কক্ষে রাখেন। এরপর বিকাল বেলা তাকে মাদক মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। মাহতাব উদ্দিন বলেন, আমার সঙ্গে নাকি দুই শত পিস ইয়াবা আছে এমন মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে ২৪ দিন জেল খাটায়। একদম বিনা অপরাধে আমাকে তারা এই হয়রানি করেছে। মাহবুব হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায় করেন হারুন। নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আদায় ও অমানবিক নির্যাতন করেন। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মাহবুব হোসেন নিজেই। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার শফিকুর বাজারের সাবেক ব্যবসায়ী নেতা। ভয়াল ওই রাতের বর্ননা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাকে মোবাইল ফোনে ডিবি অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চায় এক ব্যক্তি।

আমি তাদের আমার ঠিকানা দেই। ঠিকানা মত এসে তারা আমাকে বলে এসপি স্যারের (হারুন অর রশীদ) নির্দেশ আপনাকে গাজীপুর যেতে হবে। তখন তারা আমাকে একটি গাড়িতে তোলে মৌচাক পার হওয়ার পর পেছনে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে চোখ-মুখ বেধে ফেলে। টের পেয়েছি আমি ছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও কয়েকজনকে আটক করেছিলো। তারপর আমাকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরাতে থাকে। একপর্যায়ে আমাকে গাড়ির মধ্যেই নির্যাতন শুরু করে। বেধড়ক পেটাতে পেটাতে আমাকে তারা বলে আপনার কোনো লোক নাই। থাকলে আলোচনা করেন। না হলে কালেমা পড়েন। আপনাকে রক্ষা করতে পারবো না আমরা, মেরে ফেলবো। একটা উপায় আছে দুই কোটি টাকা দিলে রক্ষা করতে পারবো। তখন গভীর রাতে আমার ভাইকে ফোন দিয়ে বলি আমাকে ধরে নিয়ে আসছে। এখন তারা টাকা চায়, পারলে টাকার ব্যবস্থা করে আমাকে বাঁচা। এরপর তারা আমাকে নিয়ে যায় কড্ডা। সেখানে গিয়ে দেখি ইন্সপেক্টর বাচ্চু। তিনিও আমাকে খুব মারধর করেন। তারপর সেখান থেকে নিয়ে যায় এসপি হারুনের ঘনিষ্ট জসিমের বাড়িতে।

ততক্ষণে তারা আমার ভাইয়ের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আমার কাছে ছিল আরও নগদ ৭০ হাজার ও ২০ লাখ এবং সাড়ে ১৮ লাখ টাকার দুটি চেক। সেগুলো তারা নিয়ে বলে পরেরদিন সকালে আরও টাকা দিতে হবে। এছাড়া পুলিশের সামনেই জসিম বলে ১০ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে হবে। আমি দিতে রাজি না হলে তারা আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। পরে চার শতাংশ জমি দেয়ার কথা বলে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরেরদিন অস্ত্রসহ ১০/১২ জন পুলিশ ও জসিম আমার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। আমার কাছ থেকে নেয়া চেক দিয়ে টাকা তুলে দিতে বলে। এভাবে দুটি চেকের মাধ্যমে আমি সাড়ে ৩৮ লাখ টাকা তুলে দেই। এর ঠিক কয়েক দিন পর তারা অস্ত্রের মুখে আমার মেয়ে ও আমাকে তুলে নিয়ে চার শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে তারা আমার কাছ বিভিন্ন সময় ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আর সব কিছু এসপি হারুনের নির্দেশে তারই ঘনিষ্টদের দিয়ে করানো হয়েছে।

ঢাকা থেকে শিল্পপতির পরিবারের সদস্যদের তুলে নেয়ার অভিযোগ আসার পর প্রত্যাহার করা হয় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে। তাকে অপসারণের পর এ ধরনের আরো অনেক অভিযোগ আসছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, যে কায়দায় ওই শিল্পপতির পরিবারকে চাপ দেয়া হয়েছিল টাকার জন্য একই কায়দায় তিনি টাকা আদায় করতেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কাছ থেকে। বাধ্য হয়ে টাকা দিলেও এতোদিন কেউ অভিযোগ করেননি। সরজমিন এলাকা ঘুরে এমন কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাপ করে পাওয়া গেছে বেশ কিছু তথ্য। অভিযোগকারীরা এতোদিন চুপ থাকলেও এখন প্রকাশ্যে অভিযোগ দেয়ার কথা বলছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করা হলেও তার অনুগতরা এখনও রয়ে গেছেন। তাই তারা নিরাপত্তা নিয়েও ভাবছেন।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বসেই গত সেপ্টেম্বরে রায় দেন প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যে কেনা জায়গা ছেড়ে দিতে হবে জসিম উদ্দিনকে। ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন নারায়ণগঞ্জের মুক্তারপুরে হামিদা সালাম নামে এক নারীর কাছ থেকে ৩১২ শতাংশ জায়গা কিনেন। বায়নাপত্র কেনার পর জানতে পারেন জায়গাটি অগ্রণী ব্যাংকে দায়বদ্ধ। পরবর্তীতে হামিদা সালামের কাছ থেকে পাওয়ার এর্টনি নেন তিনি। কথা ছিলো ব্যাংকে টাকা শোধ করে তাকে রেজিস্ট্রি করে দেয়া হবে। এরমধ্যেই জসিম উদ্দিনকে ডেকে নেন পুলিশ সুপার হারুন। এলাকার মাস্তানের মতোই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এই জায়গা ছেড়ে দিতে হুমকি দেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, আমার কথাই আইন। আমার কথা না শুনলে পিটিয়ে হাত, পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দেব।’ এতে আতঙ্কিত হয়ে যান জসিম। তারপর ২১শে সেপ্টেম্বর এসপির নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি দল হামিদা সালামের পক্ষে ওই জায়গা দখলে নেয়। পরবর্তীতে জসিম আদালতের দ্বারস্ত হলে ওই জায়গার ওপর স্থিতিতাদেশ দেয়া হয়। কয়েক মাস আগে এসপির আদালতে ডাক পড়ে গার্মেন্টের অতিরিক্ত সুতা বা বন্ড ব্যবসায়ীদের। এসপি জানিয়ে দেন ডিবি’র পরিদর্শক এনামুল যা বলে তাই শুনতে হবে। তারপর নারায়ণগঞ্জের  টানবাজারে ব্যবসায়ীদের গোডাউনে হানা দেয় এনামসহ পুলিশ সদস্যরা। বাধ্য হয়েই চার থেকে সাত লাখ করে টাকা দেন একেক ব্যবসায়ী। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই আটক করে নিয়ে যাওয়া হতো থানা হাজতে। এমন অনেক ঘটনার মধ্যে একটির শিকার সিদ্ধিরগঞ্জের বালু ব্যবসায়ী শাহজাহান। দুই মাস আগে এক সন্ধ্যায় ঘটে ঘটনাটি। এসপি হারুনের ছক অনুসারে নাসিকের সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী হোসেন আলার কার্যালয়ে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের এসআই আলমগীরের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী শাহজাহানকে আটক করে নিয়ে যায়।

কাউন্সিলর আলা জানান, তার কার্যালয় থেকে ডিবি পুলিশ শাহজাহানকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কাউন্সিলর আলাকেও ডেকে নেয় ডিবি। ডিবি অফিসে নিয়ে শাহজাহানের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। এসময় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। মাদক মামলায় ফাঁসানো থেকে শুরু করে ক্রসফায়ারে হত্যার ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে ২০ লাখ টাকা দিতে সম্মত হন ওই ব্যবসায়ী। শাহজাহানের প্রাণ রক্ষার্থেই সেই রাতে কাউন্সিলর আলার উপস্থিতিতে নগদ ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও মুক্তি মেলেনি। পরদিন সকালে আরও ২২ লাখ টাকা (মোট ৩৯ লাখ ৫০ হাজার) দিয়ে মুক্তি মেলে শাহজাহানের। এ ঘটনার পর থেকে ব্যবসায়ী শাহজাহান অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।  

নারায়ণগঞ্জের আরেক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনকে ডেকে নিয়ে ৪৫ লাখ টাকা আদায় করেন বলে এসপি হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জনৈক ব্যবসায়ী গত ২৩শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডি করতে গেলে এই অভিযোগটিকে ২২ লাখ টাকার চাঁদাবাজীর মামলায় রূপ দেন এসপি হারুন। এই অভিযোগে জয়নালকে নারায়ণগঞ্জ থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করেন তৎকালীন ওসি কামরুল। এসময় তার কাছে এসপি’র নির্দেশের কথা বলে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আরো মামলার হুমকি দেয়া হয়। পরে ২০ লাখ টাকা দিতে রাজী হন জয়নাল। কিন্তু তাতে হারুনের মন ভরেনি। তাই আরও তিনটি মামলা করানো হয়। অবশেষে মামলা ও রিমান্ড নিয়ে নির্যাতন করার ভয়ে ৪৫ লাখ টাকা দেন জয়নাল। এই টাকা পাওয়ার পর নমনীয় হন হারুন। জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি নিজ হাতে তিন বারে ১০ লাখ টাকা দিয়েছি এসপি হারুনের কাছে। বাকি টাকা দেয়া হয়েছে আমার স্ত্রী ও অন্যদের মাধ্যমে। এছাড়াও তিনি জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অস্ত্র জমা দিতে যান জয়নাল। এসময় থানায় ফ্লোরে একটি গুলি পড়ে যায়। পরে এসপি হারুনের নির্দেশে তাকে আটকে রেখে অভিযোগ করা হয় জয়নাল পুলিশকে গুলি করেছেন। এ ঘটনায় মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলেও এক পর্যায়ে ১৫ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন জয়নাল আবেদীন।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রোডের উৎসব পরিবহনের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে বিচারের নামে জবর দখলে সহযোগিতা করেন এসপি হারুন। বিবাদমান দুটি পক্ষই হারুনের শরনাপন্ন হলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে এসপি হারুন একটি পক্ষকে সমর্থন দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান কামাল মৃধা বলেন, আমি বৃদ্ধ বয়সে গত ২০শে মে থেকে ১৯শে অক্টোবর পর্যন্ত কমপেক্ষ ৭০ বার এসপি অফিসে গিয়েছি। তিনটি লিখিত অভিযোগ করেছি কিন্তু আমি আইনি সহযোগিতা পাইনি।

এসপি হারুনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ করেন পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেমের ছেলে আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ (রাসেল)। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী-সন্তাানকে ঢাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। পরে তারা মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। ঘটনার বিষয়ে শওকত আজিজ বলেন, চাঁদা নিয়ে হারুন অর রশীদের সঙ্গে তার পুরোনো বিরোধ ছিল। সমপ্রতি তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নতুন একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। সেখানেও হারুন বাগড়া দিচ্ছিলেন। রাসেল অভিযোগ করেন এর সূত্র ধরেই প্রথমে তার গাড়ি ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে মাদক দিয়ে গল্প সাজানো হয়। পরে তার স্ত্রী সন্তানকে তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে। গুলশানের বাসা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও রাসেল তার ফেসবুকে শেয়ার করেন। এরপর ব্যবসায়ীদের তরফে প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরে আসলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা হিসেবে এসপি হারুনকে প্রত্যাহার করা হয়। এসপি হারুনের চাঁদাবাজি নিয়ে ২০১৬ সালের ৫ই মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে রাসেল একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের আদেশে গাজীপুর থেকে প্রত্যাহারের পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তার কাছ থেকে ৫  কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাঁর পক্ষে উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম আম্বার ডেনিমের স্টোর ম্যানেজার ইয়াহিয়া বাবুকে ফোন করে টাকা দাবি করেন। এর আগেও গুলশান ক্লাবের লামডা হলে ও গুলশানের কাবাব ফ্যাক্টরি রেস্তোরাঁয় হারুন তাঁকে ডেকে নিয়ে ৫ কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঠিকানায় পাঠাতে বলেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আম্বার ডেনিমের ৪৫ জন শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গাজীপুর থানায় ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, গত ৪ঠা নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নারায়গঞ্জের এসপি হারুন অর রশীদকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে (ট্রেনিং রিজার্ভ) সংযুক্তির আদেশ দেয়া হয়।

তবে, তাকে প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি

টাকার বান্ডেলের উপর ঘুমিয়ে থাকা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) তাকে ডিবি থেকে প্রত্যহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। রবিবার (১০ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআই-১) মমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "প্রশাসনিক কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে কারণ সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।" 

প্রসঙ্গত, গত ৬ নভেম্বর এসআই আরিফুর রহমানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই ছবিতে দেখা যায়, একটি গাড়িতে রাখা টাকার বান্ডিলের ওপর ঘুমিয়ে আছেন আরিফুর। পাশে ছিল তার ব্যবহৃত ওয়ারলেস। ফেসবুক পোস্টটিতে এই ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, "অভিযান পরিচালনা করে ক্লান্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. আরিফ মাইক্রোবাসের ভেতর টাকার উপর এভাবেই ঘুমিয়ে পড়েন।”

এদিকে ছবিটি নিজের বলে স্বীকার করে নিয়েছেন এসআই আরিফুর রহমান, "ছবিটা চার থেকে পাঁচ মাস আগের। আমার মা অসুস্থ ছিল। আমি আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম। মায়ের অসুস্থতার টেনশনে ইচ্ছা না থাকলেও গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হয়তো ওইসময় কেউ ছবিটা তুলে ফেলে। তাছাড়া গাড়িটাও প্রায় তিনমাস আগে এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। এই ছবি কোন এলাকায় সেটাও এখন আর মনে নেই। আমার মনে হয় কেউ তার স্বার্থ হাসিলের জন্যই এই কাজ করেছে।"

  1. Popular
  2. Trending
  3. Comments

Calender

« April 2020 »
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
    1 2 3 4 5
6 7 8 9 10 11 12
13 14 15 16 17 18 19
20 21 22 23 24 25 26
27 28 29 30