Wednesday, 25 September 2019 04:29

সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ খালেদার মুক্তির জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন – মির্জা ফখরুল

✍ মোঃ আলমগীর মিয়া সিলেট থেকে ফিরে:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চান? তাহলে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হোন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হলেন খালেদা জিয়া। এই নেত্রী যখন সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়ান, তখন চারদিকে আলোকজ্যোতি বের হয়। মনে হয় একটা নূর ছড়িয়ে পড়ে। এই নূর হচ্ছে স্বার্বভৌমত্বের নূর, গণতন্ত্রের নূর, ধর্মের নূর। ইতিহাস সৃষ্টি করা এই নেত্রীকে মুক্তি দিতেই হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে।

 

খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা বাতিল ও অবিলম্বে নতুন জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সিলেট বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ তিনি একথা বলেন।

নগরীর রেজিস্টারি মাঠে ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পায় বিএনপি। এর আগে সোমবার রাতে রেজিস্ট্রারী মাঠে নির্মিত মঞ্চটি খুলে নেয়া হয়। পরে সকালে অনুমতি পাওয়ার পর নতুন করে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়।

এ প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের সমাবেশের মঞ্চ খুব ছোট, ফলে এখানে আসতে কষ্ট হয়েছে। কারণ (সোমবার) রাতে তিন বার মঞ্চ ভাঙা হয়েছে। তবুও সিলেটের জনগণের সাহসিকতার কারণে আজ সমাবেশ হচ্ছে।’

সমাবেশে প্রশাসনের বাধা প্রদানের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) তারা হঠাৎ করে সমাবেশ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল কেন? এর কারণ, কয়েকদিন আগে সিলেটে ছাত্রদল মিছিল করেছিল, তাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেছিল। এতে তারা ভয় পেয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘ভয় পাওয়া ভালো। এমন ভয় তাদের পেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, এই সরকারের প্রতিপক্ষ এখন জনগণ, কোন রাজনৈতিক দল নয়। বিগত নির্বাচনে আমাদের একজন ভোটারও ভোট দিতে পারেননি। অথচ সংবিধানে লেখা আছে জনগণ ক্ষমতার মালিক। আপনারা ভোট দিতে পেরেছেন? শুধু আজকে না, স্বাধীনতার পরেও একই কায়দায় ভোট কেড়ে নিয়েছিল। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। করে না বলেই একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। তাদের দুঃশাসনে সেদিন দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।

ইলিয়াস আলী ছয় বছর ধরে নিখোঁজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে ইলিয়াস আলীর বাসায় গিয়েছিলাম। আমরা তাকে খুঁজে বের করতে পারিনি। আজকে শত শত পরিবার স্বজন হারানোর বেদনায় বেদনার্ত। তাদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে যখন বসি, তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। একজন নয়, দুজন নয় ৫০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এক লাখের ওপরে মামলায় ২৬ লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। ’

‘ঘরে ঘরে ক্যাসিনো’-বর্তমান সরকারের রোল মডেল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ সরকার জনগণের সরকার নয়, জনবিরোধী সরকার। তারা দেশের সব ক্ষেত্রকে ধ্বংস করে ফেলছে। তারা বলে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। এমন রোল মডেল হয়েছে যে এখন ঘরে ঘরে ক্যাসিনো পাওয়া যাচ্ছে।’

মহাসচিব বলেন, ক্যাসিনো অভিযানে যে-ই ধরা পড়ছে, তাকেই বলা হচ্ছে বিএনপির লোক। যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেছেন, তার নেতাকর্মীরা অপকর্ম করেছেন, পুলিশ প্রশাসন ১২ বছর কী করছিল। ‘১২ বছর ধরে জুয়া, ক্যাসিনো চলছে। সরকার ধরতে পারেনি। এখন যখন ধরা পড়ে গেছে, তখন বলছে বিএনপি সরকারের আমল থেকে এটা চলে আসছে। তাহলে ১২ বছর কি করছিল? আঙ্গুল চুষছিল। এখন ঘরে ঘরে ক্যাসিনো। জুয়ায় ভাসছে সারা দেশে।’

‘সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াছে। বিদেশি কেউ বিনিয়োগ করছে না। কারণ এটা একটা লুটেরা দেশ। তারা মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুট করছে।’

১১ লাখ রোহিঙ্গা দুই বছর হয়ে গেল, একজনকেও ফেরত পাঠাতে পারল না। তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ওবায়দুল কাদের সাহেব এখন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বিরোধীদলের সাহায্য চাচ্ছেন। আমরাতো আগেই সাহায্য দিতে চেয়েছিলাম।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীমের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকীর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ হক, তাহসীনা রুশদীর লুনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, বিএনপি নেতা দিলদার হোসেন সেলিম, কলিম উদ্দিন মিলন, জিকে গউছ, আব্দুর রাজ্জাক, নাসিম হোসাইন, ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী, হুমায়ুন কবীর, মোরতাজুল করিম বাদরু, হাসান জাফির তুহিন, মামুন হাসান, আবুল কালাম আজাদ, মীর হেলাল উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

সমাবেশ পরিচালনা করেন

Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular