বাবার হত্যাকারীর বিচার চাইতে এসেছিল তাহেরা-সিয়াম

✍  নবীগঞ্জের ডাক অনলাইন ডেস্ক: Jun 29, 2020

কোথায় মিলবে সেই প্রিয় মুখ? ছোট্ট তাহেরা আর সিয়াম যেন তাই খুঁজছিল। তাদের বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। হয়তো তারা মানে, নয়তো না! তবুও আর সবার মতো তারাও এসেছিল বাবার হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি নিয়ে। কি করুণ-নির্মম এ দৃশ্য তা না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না। ওরা কাঁদেনি, ওরা কাঁদিয়েছে! হাজার মানুষের ভিড়ে যখন তাদের মা কিংবা প্রিয় দাদী প্রলাপ করছিল তখন তাহেরা আর সিয়াম ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে যেন কাকে খুঁজছিল। হয়তো প্রিয় বাবাকে।রবিবার তাদের বাবা যশোরের বাঘারপাড়ার প্রাইভেটকার চালক রিপন হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিনে-দুপুরে খুন হন। রিপনের হত্যাকারী যশোর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক বরকত উল্লাহ খান পুলিশের খাচায় বন্দি। তবুও সন্দেহ-খুনির বিচার যদি না হয়! তাইতো হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে সোমবার বাঘারপাড়া পৌর এলাকার মহিরণ গ্রামের বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন, ঘেরাও করেন থানা। এ সময় শত শত নারী-পুরুষের সাথে রিপনের বৃদ্ধা মা নূর জাহান বেগম, স্ত্রী মনিরা খাতুন আর আদরের দু’সন্তান ১০ বছর বয়সী সোনালি আক্তার তাহেরা ও সাত বছরের ছেলে জোবায়ের হোসেন সিয়ামও যোগদেন এ আন্দোলনে। সবাই যখন থানা ঘেরাও করে সেখানে অবস্থান করছিল-তখন সিয়াম আর তাহেরা থানা ফটকে দাঁড়িয়ে কি যেন ভাবছিল। হয়তো থানায় বন্দি বাবার হত্যাকারীকে একবার দেখতে চেয়েছিল তারা। সেখানে উপস্থিত সবাই এমন দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। এদিকে রিপন নিহত হওয়ার পর দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। পাঁচ সদস্যের অভাব অনটনের সংসার কিভাবে চলবে-তা নিয়ে চিন্তিত এলাকার মানুষেরাও।জানা গেছে, আর্থিক অনটনের কারনে তাহেরা নানা বাড়িতে থেকেই লেখা-পড়া করে। এ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে তার নানা বাড়ি। সেখানকার একটি মাদরাসায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ও। করোনা সংকটের কারণে মাদরাসা বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকদিন বাবা-মার কাছে এসেছে তাহেরা।

Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular