October 7, 2022
নবীগঞ্জের সংবাদ

নবীগঞ্জের সংবাদ (1787)

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে  নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক ছাত্রনেতা যুক্তরাষ্ট্র মিশিগান বিএনপি নেতা শেখ সাইদুর মিয়ার নিজস্ব অর্থায়ন ও সার্বিক  সহযোগিতায়  বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ করা হয়। বুধবার দিনব্যাপী উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের  পাহাড়পুর,পারকুল,দৈওতল গ্রামসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।  এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন, নবীগঞ্জ-বাহুবলের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নিবার্হী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া।অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির নেতা  মুর্শেদ আহমদ উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মনর উদ্দিন, বিএনপির নেতা কনর উদ্দিন, পৌর  যুবদলের আহবায়ক মোঃ আলমগীর  মিয়া,সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নোমান আহমদ, ইউপি সদস্য  সুমন মিয়া, শায়েল আহমদ যুবদল নেতা শেখ শিপন মিয়া, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, সফিকুজ্জামান রুয়েল, সাজু আহমদ, যুবদল নেতা রুয়েল মিয়া সহ বিএনপি, যুবদলের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। ত্রান বিতরণকালে নবীগঞ্জ-বাহুবলের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ  সুজাত মিয়া বন্যার্তদের মাঝে নিজের তহবিলের নগদ অর্থ বিতরণ করেন। এবং তিনি বন্যার্তদের সহযোগিতার  জন্য  ২৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করার ঘোষণা করেন।

 

সিলেটের বন্যার্তদের জন্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে যাওয়ার পথে একটি ট্রাক উল্টে গেছে। রবিবার (১৯ জুন) সকালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বড়চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সিলেটের বন্যা কবলিত মানুষের জন্য একটি ট্রাকে ঢাকা থেকে ট্রাকভর্তি চিড়া-মুড়িসহ শুকনো খাবার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বড়চর এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা চালক ও খাবার উদ্ধার করে। এরপর আবার ট্রাকে তুলে দিলে খাবারগুলো নিয়ে যাওয়া হয়।পানিউমদা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক ও বড়চর গ্রামের এখলাছুর রহমান জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক বড়চর বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল চন্দ্র দেব জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি উল্টে যায়। উল্লেখ্য, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সিলেটে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। ব্যক্তিগতভাবে অনেকে সহায়তা করছেন।

টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নবীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে।  কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার রাত থেকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ১নং বড় ভাকৈর পশ্চিম ইউনিয়নের ৮/১০টি গ্রাম নতুন করে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। তবে রাতের মধ্যে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দু’ দিন ধরে জগন্নাথপুর বাজার সংলগ্ন পাড় ভেঙ্গে ও আমড়াখাই এলাকায় বিবিয়ানা নদীর পানি দ্রুত বেগে প্রবেশ করছে। সৈয়দপুর-ইনাতগঞ্জ সড়কের প্রায় ১কিঃমিঃ জুড়ে রাস্তার উপর হাটু ,কোন জায়গায় কোমর পানি রয়েছে। ঝুকি নিয়ে চলছে যানবাহন। বান্দের বাজার টু কসবা সড়কের উপর দিয়ে প্রচন্ড বেগে পানি ঢুকছে। কসবা গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষই পানিবন্দি রয়েছেন। কলাগাছের ভেলা দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা থমকে যাওয়ায় ডাইক এর অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত রাত জেগে ডাইকের পাড়ের মানুষ পাহারা দিয়েছেন। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামসহ উপজেলার প্রায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রবিবার (১৯ জুন) সরকারী ভাবে গালিমপুর-মাধবপুর এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ১ হাজার কেজি চাল (২০ বস্তা ৫০ কেজি করে) বিতরন করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এছাড়া উপজেলার আর কোথায়ও সরকারী বা বেসরকারী ভাবে আশ্রয় কেন্দ্রে বা বন্যার্ত এবং পানিবন্দি পরিবারে সাহায্য দেয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন প্রাপ্ত সুত্রে জানাগেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নবীগঞ্জে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পাড় এলাকায় প্রায় ২/৩ ইঞ্চি পানি কমতে দেখা গেছে। তবে অন্য এলাকায় দ্রুত বাড়ছে পানি। বন্যার সার্বিক পরিস্থিত ভয়াবহ আকার ধারন করতে যাচ্ছে। এ উপজেলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পর্যান্ত পরিমানে ত্রান বা সরকারী সহায়তা পাওয়া যায়নি। গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি দীঘলবাক ইউপির গালিমপুর-মাধবপুর এলাকায় রবিবার সকালে প্রায় ১ শত পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল ব্যতিত আর কিছুই দেয়া হয়নি। তাও আবার প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। উপজেলার দীঘলবাক ও ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামে পানি ঢুকে প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীন জনপদের রাস্তাঘাট। ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের ইনাতগঞ্জ বাজারসহ ৩০/৩৫ গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। তাছাড়া ইনাতগঞ্জ - সৈয়দপুর সড়কের মোস্তফাপুর থেকে পাঠানহাটি পর্যন্ত রাস্তায় বুক পানি রয়েছে। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে ঝুকিঁ নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।  বাড়িঘরে উঠেছে পানি। বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নে ইতিমধ্যে জগন্নাথপুর, সোনাপুর, ফতেহপুর, চৌকি, আমড়াখাই ও চরগাও গ্রামে কমপক্ষে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছেন। সরকারীভাবে ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। করগাও ইউনিয়নে কমপক্ষে ৫/৭টি বন্যায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান নির্মলেন্দু দাশ রানা। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দুর্গাপুর প্রাইমারী স্কুলে ৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। শেরপুর নিন্মাঞ্চলের অসংখ পরিবারকে সরিয়ে আনা হয়েছে। উপজেলার হাইস্কুল ও কলেজ গুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে গালিমপুর ও মাধবপুর স্কুলে আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। নাদামপুর স্কুল এন্ড কলেজে ৮টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ইনাতগঞ্জ হাই স্কুল ও প্রাইমারী স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় দু’শতাধিক পরিবার। মোস্তফাপুর মাদ্রাসায় ২৫ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। মতিউর রহমান হাইস্কুলে ১১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। জগন্নাথপুর এসএনপি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, চৌকি প্রাইমারী স্কুল ও বিবিয়ানা স্কুলে প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এখন পর্যন্ত সরকারী কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ১নং ইউনিয়নে যাননি। শুধুমাত্র গালিমপুর-মাধবপুর আশ্রয় কেন্দ্র ব্যতিত অন্যান্য আশ্রয় কেন্দ্রে সরকারী সহায়তা পৌছার খবর পাওয়া যায়নি। নাদামপুর গ্রামের বাসিন্দার বন্যার্ত পরিবারের সদস্য মিনতা রানী দাশ, বানী রানী দাশ, নৃপেন দাশ, সধন দাশ, পুলই রানী দাশ, রথীন্দ্র দাশ, রতন দাশ (নাদামপুর স্কুলে আশ্রয় নেয়া) জানান, শনিবার বিকালে তারা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। তাদের ঘরে ভিতরে হাটু পানি। চেয়ারম্যান-মেম্বার দেখে গেছেন। এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পাননি। পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে আছেন। জগন্নাথপুর হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সুনীল পুরকাস্থ জানান, ১নং ইউনিয়নে ৮/১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। রাতেই এর পরিমান বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। ওই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গৌতম দাশ জানান, এখন পর্যন্ত সরকারী কোন সহায়তা দেয়াতো দুরের কথা সরকারের দায়িত্বশীল কোন কর্তা দেখেননি। গালিমপুর-মাধবপুর ওয়ার্ডের মেম্বার আকুল মিয়া বলেন, উপজেলা প্রশাসন আজ ( রবিবার) ওই এলাকায় ২০ বস্তায় ১ হাজার কেজি চাল বরাদ্ধ দিয়েছেন। ১ শত পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এর বাহিরে কিছুই দেয়া হয়নি। তবে তা দেয়া হয়েছে তা খুবই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইনাতগঞ্জের বাসিন্দা সাংবাদিক আশাহিদ আলী আশা বলেছেন, ইনাতগঞ্জ হাইস্কুল ও প্রাইমারী স্কুলে প্রায় দু শতাধিক বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে সরকারী সহায়তা দেয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহি উদ্দিন তার ফেসবুক আইডিতে রবিবার (১৯ জুন) সকালে জানান, উপজেলার ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২০৫ পরিবার ১ হাজার মানুষের জন্য সাড়ে ৫ হাজার কেজি চাল, দেড় লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫০ হাজার টাকার গো খাদ্যের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সরকারী ভাবে। শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুতি চলছে হাতে আসা মাত্রই প্রদান করা হবে। এদিকে সরকারী ভাবে ২০৫টি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করার কথা বললেও বেসরকারী হিসেবে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। অপর দিকে বন্যা কবলিত এলাকার সরকারী প্রাইমারী স্কুল গুলো পাঠদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

Saturday, 18 June 2022 14:53

নবীগঞ্জে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি

✍ মোঃ হাসান চৌধুরী.

টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নবীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।শুক্রবার (১৭ জুন) রাত থেকে কুশিয়ারা ডাইক উপছে পানি প্রবেশ করছে। ইনাতগঞ্জ কসবা রাস্তায় প্রায় ৩ ফুট উপর দিয়ে দ্রুত বেগে পানি ঢুকছে। এছাড়া আজমিরীগঞ্জের বদলপুর ইউনিয়নের কৈয়ার বিলের বাধঁ ভেঙ্গে দ্রুত পানি প্রবেশ করছে। ফলে নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র ভয়াবহ বন্যার আশংখ্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ সভা করে গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বালি ভর্তি বস্তা দিয়েও ডাইকের পানি নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না।বিভিন্ন প্রাপ্ত সুত্রে জানাগেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নবীগঞ্জে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। দ্রুত বাড়ছে পানি। ইতিমধ্যে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী দীঘলবাক ইউনিয়নের গালিমপুর,মাধবপুর,আহমদপুর, মথুরাপুর, কসবা,দীঘলবাক,জামারগাওসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে উঠেছে পানি। এখানকার জনজীবন হুমকীর মূখে রয়েছে। উপজেলার সকল হাওরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।নবীগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় জন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ইতিমধ্যে শুকবার রাত থেকে শেরপুর থেকে ইনাতগঞ্জ পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর ডাইক উপছে পানি প্রবেশ করছে। ফাদুল্লা ও জামারগাও এলাকায় নতুন ডাইক দিয়েও পানি প্রবেশ করছে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বালি ভর্তি বস্তা দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন। এদিকে আজমিরীগঞ্জের বদলপুর ইউপির কৈয়ার বিলের বাধঁ ভেঙ্গে দ্রুত বেগে পানি প্রবেশ করছে। এতে উপজেলার ১নং ইউনিয়ন বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন সাধারণ মানুষ। ফলে উপজেলার সর্বত্র ভয়াবহ বন্যার আশংকা করছেন সর্ব মহল।নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহি উদ্দিন বলেছেন, ইনাতগঞ্জের কসবা এলাকায় এলজিইডি রাস্তায় প্রায় ৩ ফুট উপর দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। কুশিয়ারা ডাইক এখন ভাঙ্গেনি, তবে ডাইক উপছে পানি প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যে ১৩ টি আশ্রয়ন কেন্দ্র খোলা হয়েছে। হাইস্কুল, প্রাইমারীস্কুল. কলেজ গুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দীঘলবাক ইউনিয়নের গালিমপুর, মাধবপুর বন্যার্তদের মাঝে সরকারি ভাবে ত্রান পৌছানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সকলকে সর্তকতার সহিত মোকাবেলার আহবান জানিয়েছেন তিনি।হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর প্রকৌশলী মিনহাজ আহমদ শোভন বলেছেন,নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর, পারকুল গ্রামে কিছু স্পটে বাঁধের প্রায় ১ ফুট উপর দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। পানি দ্রুত বেড়েই চলেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে বস্তা দিয়ে আটকানো হয়তো সম্ভব হবে না। যেকোন সময় সিপেজ হয়ে বাঁধ ভেঙ্গে যেতে পারে। এর মাঝে খোলা জায়গায় একটার পর একটা বজ্রপাত হচ্ছে। তবে তারা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাবেক ৩ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় কেন্দ্রীয় যুবদলের ২ দিন ব্যাপি কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদের নির্দেশে নবীগঞ্জ পৌর যুবদলের উদ্যোগে খতমে কোরআন,দোয়া ও এতিমখানায় খাদ্য বিতরণ করা হয়। গতকাল শনিবার বাদ যোহর নবীগঞ্জ জামেয়া দারুস সুন্নাহ আনওয়ারুল উলুম মহিলা টাইটেল মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খাদ্য বিতরণ করা হয়। নবীগঞ্জ পৌর যুবদলের আহবায়ক মোঃ আলমগীর মিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে  ও পৌর  যুবদলের  আয়োজনে খাদ্য বিতরণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,নবীগঞ্জ-বাহুবলের সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় নিবার্হী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুুগ্ম আহব্বায়ক ডাঃ আব্দুল আলীম ইয়াছীনি,পৌর বিএনপির যুগ্ম  আহব্বায়ক  নুরুল  আমিন,উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মনর উদ্দিন,পৌর বিএনপির ৫ ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, উপজেলা যুবদল নেতা শেখ শিপন আহমেদ,পৌর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর মিয়া,ফুল মিয়া,হাসান চৌধুরী,তৌহিদুল ইসলাম শয়ন,হামদু মিয়া তালুকদার,আকবর আলী,ফরিদ মিয়া,ইসলাম উদ্দিন,নিরব তালুকদার,সাগর মিয়া,তুহিন আলম রেজুয়ান,শফিকুল ইসলাম নাহিদ,ইকবাল তালুকদার,আবু মিয়ালিপন মিয়া,বুলবুল আহমেদ,জাহাঙ্গীর আহমেদ, সাজু মিয়া,জামান আহমেদ,আব্দুল হাই,ছাইম উদ্দিন,আব্দুল্লাহ,জাফর ইকবাল,কোকন মিয়া,মতিউর রহমান প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন নবীগঞ্জ জামেয়া দারুস সুন্নাহ আনওয়ারুল উলুম মহিলা টাইটেল মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ আলম।এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতাধিক এতিমদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেন প্রধান অতিথি আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়াসহ অতিথিবৃন্দ।

নবীগঞ্জ উপজেলার আশু বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ এমপি ও জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান এর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহিউদ্দীনের পরিচালনায় বিশেষ সভায় অংশ নেন পৌরসভার মেয়র ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ। উক্ত সভায় উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত সুমূহ :

১. উপজেলার সকল আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করে রাখতে হবে যাতে পানি বন্ধি বা বন্যা আক্রান্ত হলে আশ্রয় নিতে পারে।                                                                                                          ২. উপজেলার বাঁধের সুরক্ষায় সকলে মিলে উদ্যোগ নিতে হবে। ক্রমশ পানি বাড়ায় উদ্বেগ জনক জায়গা চিহ্নিত করে প্রতিরোধ করতে হবে।
৩. প্রতি ইউনিয়নে দ্রুত সভা করে রেসকিউ টিম ও ত্রাণ প্রদান টিম গঠন করতে হবে। রেসকিউ করতে নৌকা এর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৪. জেলায় শুকনো খাবার ও ত্রাণ চাহিদা প্রেরণ করে দ্রুত তা যথাযথ পৌঁছনোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. উপজেলা ও ইউনিয়নে কন্ট্রোল রুম ও জরুরি নম্বর প্রদান করতে হবে।
৬. বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতে পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট ও অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধ চিকিৎসায় প্রস্তুত রাখতে হবে।
৮. সার্বক্ষণিক ও সুরক্ষিত বিদ্যুৎ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৯. অতিবৃষ্টি তে ভূমি ধস বা অন্যান্য রোধে আশংকা থাকলে জনগণকে সরিয়ে নিতে হবে এবং ফায়ার সার্ভিস টিম ঝুঁকি মোকাবেলায় কাজ করবে।
১০. সকল অফিসের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্টেশনে অবস্থান করে জনগণের সেবায় এই দুর্দিনে মিলে কাজ করবে।
১১. খাদ্য অভাব বা জরুরি সহায়তা এর জন্য ৩৩৩ এবং ৯৯৯ এর সহায়তা নিতে হবে। এছাড়া আউশকান্দি ইউপির দীঘলবাম্মন গ্রাম সন্নিকটে কুশিয়ারা ডাইক দিয়ে পানি প্রবেশ করছে বলে স্থানীয়, সুত্রে জানাগেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গোটা নবীগঞ্জ তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন অনেকেই।

নবীগঞ্জ উপজেলার ফরজুন আক্তার মনির দায়েরকৃত নারী নির্যাতন মামলা খারিজ করে মামলা থেকে পাঁচ সাংবাদিকসহ ৬ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।গতকাল বুধবার (১৫ জুন) বিকেলে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৩ বিচারক হালিম উল্লাহ চৌধুরীর বিচারিক আদালতে ফরজুন আক্তার মনির দায়েরকৃত মামলা থেকে দৈনিক সমকালের নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এমএ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি শাহ্ সুলতান আহমেদ, সাবেক সহ-সভাপতি এম মুজিবুর রহমান, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালের কন্ঠের নবীগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর মিয়া, চ্যানেল এস, এর প্রতিনিধি বুলবুল আহমেদ ও কলেজ ছাত্র সাকির আহমেদকে উক্ত নারী নির্যাতন মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। জানা যায়, ২০২০ সালের (২ এপ্রিল) উপজেলার আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুনের নেতৃত্বে সাংবাদিক শাহ সুলতানের ওপর সন্ত্রাসী হামলা করা হয়। এর আগে করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছিলেন সাংবাদিক সুলতান। এ সংক্রান্ত সংবাদ দিলে ওই চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হন। এরই জের ধরেই চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন হাসপাতালে ফরজুন আক্তার মনির শ্লীলতাহানিসহ নারী নির্যাতন, অপহরণের চেষ্টা ও চুরির অভিযোগে ৫ সাংবাদিক সহ বিরুদ্ধে মামলা করেন। আলোচিত ওই মামলা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মামলার স্বাক্ষী কোর্টে হলফনামায় মামলাটি মিথ্যা বলে দাবি তুলেন। এরই প্রেক্ষিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল ১৫ জুন বুধবার জামিনে থাকা আসামীদের উপস্থিতিতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের আইনজীবির বক্তব্য পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ আদালত মামলাটির মধ্যে নারী নির্যাতনের কোনো উপাদান না থাকার সব আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। এ সময় রাষ্ট্র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্পেশাল পিপি মোঃ মোস্তফা আলী আসামী পক্ষে শুনানী করেন হবিগঞ্জ জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মিয়া বদরু ও সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট এম,এ মজিদ প্রমুখ। হবিগঞ্জ জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মিয়া বদরু বলেন- আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি, আমরা আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।