October 7, 2022
নবীগঞ্জের সংবাদ

নবীগঞ্জের সংবাদ (1787)

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের কান্দিগাওয়ে পিকআপ ভ্যানের চাপায় পিতা পুত্র নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনা নিহতরা হলেন,কান্দিগাওয়ের ইউসুফ আলী (৫০) ও তার শিশু পুত্র আহমদ আলী (৫)। এলাকাবাসী জানান,ছেলেকে নিয়ে ইউসুফ আলী সকালে মহাসড়কের পাশে দোকান থেকে স্কিুট নিয়ে বাড়ি  উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে যাচ্ছিলেন। দোকান থেকেজ বাড়ী েিফরা হলোনা ইউসুফ ও তার শিশু পুত্রের। অজ্ঞাত নামা পিকআপ ভ্যান চাপায় প্রাণ গেল  তাদের।  ইউসুফ আলীর পরিবারসহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পরিমল দেব। ঘাতক  পিক আ্যপ গাড়িটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

নবীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’ গ্রামবাসী মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে।গতকাল রবিবার দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার বাগাউড়া এবং পাশ^বর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার শ্যামারগাওঁ গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। আহতদের নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্øেক্স, ইনাতগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বিবিয়ানা নদী খননের সময় বেশ কিছু জায়গায় খালের সৃষ্টি হয়। উক্ত খালে জাল দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বাগাউড়া গ্রামের মকলিছ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া ও শ্যামারগাওঁ গ্রামের জনৈক ব্যক্তির সাথে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এ খবর এলাকায় পৌছলে দু’ গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দু’ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। আহতদের মধ্যে ২ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের মধ্যে শ্যামারগাওঁ গ্রামের সামছুদ্দিন (২৮), জুবেদ মিয়া (২৬), শাহাজুল মিয়া (৩২), কবির আহমদ (২৫), সজবুল মিয়া (২৮), সবুজ মিয়া (২৮), আল জামিল (১৯), নাঈম মিয়া(২০), সানাউর মিয়া (২২), কাজী আমিনুল রশিদ (৪০), হিফজুর মিয়া (৩২), আরশ মিয়া (৪২) কে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অন্যান্য আহতদের ইনাতগঞ্জ উপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমেদ এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পৌছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। সংঘর্ষের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন ওসি ডালিম আহমদ।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুস্তমপুর টোল প্লাজা এলাকায় যাত্রীবাস ও  সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতাসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ  সময় মহাসড়কে প্রায় এক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উল্লখিত স্থানে সিলেটগামী মিতালী পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৭৪৮৯) যাত্রীবাহী একটি সিএনজির (হবিগঞ্জ থ-১১-২০০৬) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।মুখোমুখি এ সংঘর্ষের ঘটনায় সিএনজি চালক উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের কাচা মিয়ার পুত্র রব্বান মিয়া (৫০) ও যাত্রী বেতাপুর গ্রামের মৃত আবুল মিয়ার স্ত্রী বকুল বেগম (৫০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বেতাপুর গ্রামের কচি মিয়ার পুত্র ছাত্রদল নেতা ইয়াহিয়া আহমেদ চৌধুরী জাবেদুরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনা ও ৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পরিমল দেব। তিনি জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার ও  দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি আটক করে শেরপুর হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় এক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। স্থানীয় একটি সূত্রে জানাগেছে, ছাত্রদল নেতা ইয়াহিয়া চৌধুরী  তার চাচী  বকুল বেগমকে নিয়ে একই উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের শতক গ্রামে তার এক আত্মীয় বাড়িতে রোগী দেখে সিএনজি যোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ওই সময় উল্লেখিত স্থানে পৌঁছামাত্র দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক এবং তার চাচীসহ তিনি নিহত হন।

বাহুবলে গন মানুষের নেতা সাবেক এমপি আলহাজ্ব শেখ সুজাত  মিয়া অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে দেখতে তার বাসায় ছুটে আসেন যুক্তরাজ্য বিএনপি'র সহ- সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমেদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবীগঞ্জ পৌর সভার মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শিহাব আহমেদ চৌধুরী,বানিয়াচুং উপজেলা বিএনপির  সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা মোস্তফা আল হাদী, পৌর যুবদলের আহবায়ক মোঃ আলমগীর মিয়া, উপজেলা যুবদল নেতা অলিউর রহমান অলি, আবুল কালাম মিঠু, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আল- আমিন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক তৌহিদ চৌধুরীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

বাহুবলে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুলাাল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। নিহত দুলাল সাতকাপন ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিছ মিয়ার পুত্র। এ ঘটনা গুরুতর আহত হয়েছে আরো ৩০ জন। গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) রাত ৮ টায় উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের গোসাই বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শংকরপুর গ্রামের মাস্টার বাড়ি গোষ্ঠি ও রশিদের গোষ্ঠির মধ্যে বাঁশ কাটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই গোষ্ঠির লোকজন দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে স্থানীয় গোসাই বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে দুলাল মিয়া বুকে প্রতিপক্ষের লোকজন চুরিকাঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দুলালকে উদ্ধার করে বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের ইদ্রিছ মিয়ার পুত্র কাজল মিয়া (৪৫), মৃত মুনছব উল্লাহর পুত্র শফিক মিয়া (৫০) ও আকবর আলীর পুত্র শাহজাহান মিয়া (৪২) কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ ও মৃত মুনছব উল্লার পুত্র বশির মিয়া (৪৫) এবং জালাল উদ্দিনের পুত্র তোফায়েল (১৯) কে বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও সংঘর্ষে আহত অন্যান্যদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম খান সংঘর্ষে নিহতের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে সংঘর্ষ এলাকা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে তিনি জানান।

নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়েনের দত্তগ্রামের আইয়ুব আলীর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মূলহুতাসহ গ্রেফতারকৃত আসামীদের তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে নবীগঞ্জে সর্বস্তরের জনতার আয়োজনে বিশাল মানব বন্ধন প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিকেলে নতুন বাজার মোড়ে দত্তগ্রাম গ্রামবাসীসহ নবীগঞ্জের সর্বস্তরের জনগনের ব্যানারে এই মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জমানের পরিচালানায় ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহব্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, নবীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল জাহান চৌধুরী, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি উত্তম কুমার পাল হিমেল,সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর মিয়া, বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ হারুন, জাতীয়পার্টির নেতা মোঃ আবু ইউসুফ, সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আব্দুল হাকিব, ইউপি সদস্য কাশেম চৌধুরী,বিকাশ দত্ত রায়,রকিব মিয়া,রুহুল আমিন, শ্রীকৃষ্ণ চন্দ্র সরকার, বিরেশ দাস,শাহ হোসেন আলী,পরেশ দাশ, মকবুল হোসেন, পিন্টু পুরকায়স্থ,জুয়েল তালুকদার,ছায়েদ আলী,রহমত আলী, গোপাল দাশ,মোজাহিদ মিয়া,কামরুল ইসলাম,হৃদয় আহমেদ সাজু, প্রমুখ।হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অর্থনৈতিক লেনদেন ও পূর্ববিরোধের কারণে হত্যা করা হয় আইয়ুব আলীকে।মৌলভীবাজার পুলিশ ১নং খলিলপুর ইউনিয়নের খঞ্জনপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের দোকান ইমাদ ভেরাটিজ ষ্টোর এর সামন থেকে কার্টন ভর্তি আইয়ুব আলীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।গত(৮ জুলাই) রাতে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার থানার ওসি মোঃ ইয়াছিনুল হক।গ্রেফতারকৃতরা হলেন-নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের মনসুর রহমান (৩০), অনুপ দাস (৪০), মামুদ ইকবাল।  এদের মধ্যে মনসুর রহমান মৌলভীবাজার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে।প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন,আইয়ুব আলীর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মূলহুতাসহ গ্রেফতারকৃত আসামীদের দ্রæত ফাঁসি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

চট্রগ্রামের পুরনো মুখ নবীগঞ্জের কৃতি সন্তান পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণ পদ রায় দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারো চট্রগ্রামে গেছেন। তবে এবার এসি নয় এবার সেখানে গেছেন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে। তার এ পদোন্নতির খবরে জন্মস্থান নবীগঞ্জের সর্বমহলে আনন্দের বন্যা বইছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় চট্রগ্রাম  মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ইং সালের ৩১ আগষ্ট সিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। নতুন প্রজ্ঞাপনে চট্রগ্রামসহ চার মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে নতুন মুখ। গত বৃহস্পতিবার মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস(পুলিশ) ক্যাডারের  উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক(ডিআইজি) পদমর্যাদার কৃষ্ণ পদ রায়সহ ৬ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে সিএমপির বর্তমান পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। সিএমপিতে বদলিকৃত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হালিতলা গ্রামের বাসিন্দা। ওই গ্রামের প্রয়াত গোপাল চন্দ্র রায় ও রমা রাণী রায়ের প্রথম সন্তান কৃষ্ণ পদ রায়ের লক্ষ্য ছিলো সাংবাদিক হিসেবে জীবনে প্রতিষ্টিত হবেন। এবং লক্ষ্য পুরণের জন্য তিনি কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পাশের পর ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এর পর শুরু হয় তার কর্ম জীবন। জীবনের প্রথম দেশের প্রথম সারির ইংরেজী একটি দৈনিকে ষ্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন কাজ করার পর ১৯৯৫ইং সালে অনুষ্টিতব্য ১৫তম বিসিএস পরীক্ষায়তিনি অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে উর্ত্তীণ হয়ে যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে। সাংবাদিক থেকে কৃষ্ণ পদ রায় হয়ে যান পুিলশ কর্মকর্তা। তার প্রথম কর্ম জীবন শুরু হয় বগুড়ায়। সহকারী পুলিশ সুপার পদে সেখানে কিছু দিন কাজ করার পর বদলি হয়ে বিভাগীয় শহর চট্রগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার হিসেবে। সেখানে দীর্ঘ সময় কাঠে তার কর্ম জীবন। এর পর পদোন্নতি পেয়ে শেরপুর ও চাদপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন  করেন। পরে বদলি হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের ডেপুটি কমিশনার, ঢাকার ডিবি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার এবং সর্বশেষ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। এ দায়িত্ব পালনকালে পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি পদমর্যায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ক্রাইম ও অপারেশন পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২১ইং সালের ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সুনামের সহিত দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষ্ণ পদ রায় ২০১২ইং সালে প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পিপিএম এবং ২০১৫ইং সালে বাংলাদেশ পুলিশ পদক বিপিএম পদক প্রাপ্ত হন। পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে চৌকস এ কর্মকর্তা ২০০২ইং সাল থেকে ২০০৩ইং সালে কসবো. ২০০৬ইং সাল থেকে ২০০৭ইং সালে লাইবেরিয়া এবং ২০১২ইং সাল থেকে ২০১৩ইং সাল পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে কমিশনে অত্যান্ত সুনামের দায়িত্ব পালন করেন। নবীগঞ্জের এ কৃতি সন্তান কৃষ্ণ পদ রায় ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার পদোন্নতির খবরে নবীগঞ্জের সর্বমহলে আনন্দের বন্যা বইছে।

২৯ জুন সকাল ১১ টায় নবীগঞ্জ পৌরসভার কনফারেন্সে রুমে পৌরসভার মাসিক সাধারণ সভায় ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় মেয়র মহোদয়ের অনুমতিক্রমে পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শেখ মো জালাল উদ্দীন নবীগঞ্জ পৌরসভার ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের জন্য ৪২,৮৪,৮০,১২৯ টাকার খসড়া বাজেট উপস্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এতে সর্বমোট ৪২,৮৪,৮০,১২৯ টাকা আয়, ৪২,৬৮,৮৪,৭০০ টাকা ব্যয় এবং ১৫,৯৫,৪২৯ টাকা সার্বিক উদ্ধৃত্ত দেখানো হয়। বাজেটের সারসংক্ষেপ: (১) মোট রাজস্ব আয় ৫,৪৮,৮০,১২৯টাকা, (২) মোট উন্নয়ন আয় ৩৭,৩৬,০০,০০০ টাকা, এর মধ্যে সরকার প্রদত্ত উন্নয়ন সহায়তা (বিশেষ বরাদ্দসহ) মঞ্জুরী ১,৫০,০০,০০০ টাকা, সিলেট বিভাগ গ্রামীণ এ্যাকসেস সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ১০,০০,০০,০০০ টাকা ইউজিআইআইপি ৫০,০০,০০০ টাকা, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে ট্রাস্ট ফাণ্ডের অনুদান ৫০,০০,০০০ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ১০,০০,০০,০০০ টাকা, কোভিড-১৯ এর ক্ষতি জনিত প্রভাব মোকাবেলায় অনুদান ৫০,০০,০০০ টাকা, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ১০,০০,০০,০০০ টাকা, পৌর ভবন ৪,০০,০০,০০০ টাকা, অন্যান্য খাতে আয় ৩৬,০০,০০০ টাকা। সর্বমোট আয় ৪২,৮৪,৮০,১২৯ টাকা, এর মধ্যে রাজস্ব ব্যয় ৫,৪০,৬০,০০০ টাকা, উন্নয়ন ব্যয় ৩৭,২৮,২৪,৭০০ টাকা, সর্বমোট ব্যয় ৪২,৬৮,৮৪,৭০০ টাকা এবং সার্বিক উদ্ধৃত্ত ১৫,৯৫,৪২৯ টাকা। উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন নবীগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-০১ জায়েদ চৌধুরী, প্যানেল মেয়র-২ মো. আঃ সোবহান, প্যানেল মেয়র-০৩ ফারজানা মিলন পারুল, সংরক্ষিত কাউন্সিলর সৈয়দা নাসিমা বেগম ও পূর্ণিমা রানী দাশ, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল দাশ, ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কবির মিয়া, ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. লুৎফুর রহমান, ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফজল আহমদ চৌধুরী, ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন, ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নানু মিয়া, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. সহিদুল হক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা তপন কুমার চন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্যানেটারি ইন্সপেক্টর সুকেশ চক্রবর্ত্তী, কর আদায়কারী মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ, প্রধান সহকারী সরাজ মিয়া, সহকারী কর আদায়কারী পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী, সহকারী কর নির্ধারক ঊমা রানী বণিক, টিকাদান সুপারভাইজার এলেমান আহমেদ চৌধুরী সহ পৌরসভার কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় নবীগঞ্জ উপজেলার বিএনপির যুগ্ম  আহব্বায়ক বিশিষ্ট সমাজ সেবক আব্দুল বারিক  রনির নিজস্ব অর্থায়ন ও সার্বিক সহযোগিতায়  বন্যার্তদের মাঝে রান্না করা খাবার ও কাঁঠাল বিতরণ করা হয়। বুধবার দিনব্যাপী উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কালিমপুর ও মাধবপুরে আশ্রয় কেন্দ্রসহ এলাকার দুই শতাধিক বন্যায় প্লাবিত লোকজনের মাঝে রান্না করা খাবারের সাথে প্রত্যেক পরিবারে একটি করে মৌসুমী ফল কাঁঠাল বিতরণ করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে কাঁঠাল ও রান্না করা  খাবার বিতরণ করেন, নবীগঞ্জ-বাহুবলের সাবেক সংসদ সদস্য ও  বিএনপির কেন্দ্রীয় নিবার্হী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া।অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম  আহব্বায়ক আব্দুল বারিক রনি,বিএনপির নেতা  মুর্শেদ আহমদ,উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মনর উদ্দিন, পৌর যুবদলের আহব্বায়ক মোঃ আলমগীর মিয়া, ইউপি সদস্য আকুল মিয়া ইউপি সদস্য,  সভাপতি আফসর মিয়া, জগলুল পাশা সম্পাদক,  বিএনপি নেতা আঃ আহাদ,  ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ মনা, আব্দুল কাইয়ুম ,নানু মিয়া, নোমান মিয়া, সামিউল ইসলাম, রেজাউল করিম, আব্দুল মকিত, জামাল মিয়া,প্রমুখ। এসব বিতরণকালে নবীগঞ্জ-বাহুবলের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া বলেন, এলাকার প্রবাসী ও বিত্তবান লোকজনসহ আমরা সবাই যদি ব্যানায় কবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াই তাহলে তাদের কিছুটা কষ্ট দূর হবে।

নবীগঞ্জ পৌরসভায় বন্যায় কবলিত পৌরসভার ১৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে মাথাপিছু ২ শত টাকা করে ৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করেন নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমেদ চৌধুরী। গতকাল সোমবার দিনব্যাপী নবীগঞ্জ পৌরসভার কানাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,গয়াহরি প্রাথমিক বিদ্যালয়,রাজাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,নবীগঞ্জ সরকারি জে,কে মডেল হাই স্কুল, হীরা মিয়া গালস হাই স্কুল,চরগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,পূর্ব তিমিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  নহরপুর দাখিল মাদ্রাসা,শিবপাশা প্রাথমিক বিদ্যালয়,তিমিরপুর দারুল হিকমা মাদ্রাসা, গঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,নবীগঞ্জ সরকারি কলেজ,বঙ্গবন্ধু একাডেমিসহ ১৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে নগদ অর্থ বিতরণ করেন। পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমেদ চৌধুরী নগদ অর্থ বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত  ছিলেন  নবীগঞ্জ  পৌরসভার  প্যানেল মেয়র-১ জায়েদ  চৌধুরী, প্যানেল মেয়র-৩ ফারজানা  মিলন পারুল, কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ,জাকির হোসেন,ফজল আহমদ চৌধুরী, কবির মিয়া, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মিঠু, এটিএম সালাম, মোঃ আলমগীর  মিয়া, সায়েল আহমদ প্রিন্স,মোঃ হাসান চৌধুরী, সাগর মিয়া,পৌর  পরিষদের  প্রধান সহকারী সরাজ মিয়া, উপ-সহকারী অরুণ কুমার দাশ,স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সুকেশ চক্রবর্তী,সুপার ভাইজার এলেমান চৌধুরী, মুসা আহমদসহ পৌর পরিষদের কর্মকর্তা কমচারী বৃন্দ।নগদ অর্থ বিতরণকালে মেয়র বলেন, সরকারি ৮টন চালসহ পৌরসভার তহবিল থেকে নগদ অর্থসহ চাল, খাবার,রোগ প্রতিরোধের ঔষধসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি প্রবাসীসহ  শহরের ধনাট্য বিত্তবানদের  বানবাসী পানিবন্দি লোকজনের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular