October 5, 2022
Sunday, 11 September 2022 11:03

হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী

আলমগীর মিয়া.

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : দৈনিক নবীগঞ্জের ডাক।

আগামী আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আলহাজ্ব ডাঃ মোঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে গণভবনে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় জেলা পরিষদের দলীয় প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আমির হোসেন আমু, শেখ সেলিম, কাজী জাফরুল্লাহ, কর্নেল ফারুক খান, ড. আব্দুল রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, মাহবুব উল আলম হানিফ।
তফসিল অনুযায়ী-মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর। গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম ছিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডঃ মোঃ আব্দুল হামিদ এর আদেশক্রমে আলহাজ্ব ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। এর আগে ২০১১ সনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আলহাজ্ব ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে প্রথম হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। তখন তিনি ৫ বছর সততা ও নিষ্টার সাথে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে প্রজাতন্ত্রের আদেশ অনুযায়ী প্রশাসক পদ বিলুপ্ত করেন জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ, পৌর পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, মেয়র ও কাউন্সিলরগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সে অনুযায়ী ২০১৬ সনের ডিসেম্বর মাসে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আলহাজ্ব ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি সকলের সহযোগিতায় দক্ষতার সাথে জেলা পরিষদের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। গত ১৭ এপ্রিল জেলা পরিষদ ভেঙ্গে দেয়ার পর জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পাবার জন্য অনেকেই লবিং শুরু করেন। কিন্তু ১০ দিনের মাথায় পুনরায় ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরীকেই হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে জেলা পরিষদের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলায় শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন, মসজিদ, মন্দির, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে মেজর জেনারেল এম এ রব বীরউত্তম স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণ, ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এম এ রব বীরউত্তম স্মরনে হবিগঞ্জ জেলা সদরের প্রবেশ মুখে দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ, প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ আসন বিশিষ্ট জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম নির্মাণ, প্রায় ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ উন্নয়ন, সাড়ে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নবীগঞ্জের বাউসা ইউনিয়নের শাখা বরাক নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণ, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘নাট মন্দির’ এর উন্নয়ন, ১ কোটি টাকা ব্যয়ে শায়েস্তাগঞ্জে অবস্থিত রাধা কৃষ্ণ মন্দির আধুনিকায়ন, ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আলেয়া জাহির কলেজের একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ, ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কুতুবের চক ঈদগাহ উন্নয়ন, প্রায় ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার জরাজীর্ণ বাস ভবন উন্নয়ন, প্রায় সাড়ে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে লাখাই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের মসজিদের সামনের খালের উপর একটি ফুট ব্রীজ নির্মাণ, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাহুবল উপজেলার করাঙ্গী নদীর ধলিয়া ছড়ার উপর একটি ফুট ব্রীজ নির্মাণ, প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সার্কিট হাউজের পাশে জেলা পরিষদের মালিকানাধিন পুরোনো জড়াজীর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে ৪তলা বিশিষ্ট ‘আধুনিক সদর ডাক বাংলো’ নির্মাণ কাজ চলছে। ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজার রাস্তাটি আরসিসি করণ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ধরে রাখতে জেলা পরিষদ অফিস চত্ত্বরে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল নির্মাণ ও এর চতুর পার্শ্বে সৌন্দর্য বর্ধন, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ অফিস ভবনে মুজিব কর্ণার স্থাপন, ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এম রব গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে মুজিব গ্যালারী স্থাপন করা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিন, ব্রীজ, কালভার্ট, রাস্তার উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী মৌলভীবাজার সরকারী হাই স্কুল থেকে এসএসসি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইএসসি, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বে সাথে এমবিবিএস পাশ করেন। এর পর তিনি ঢাকা বারডেম থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ইংল্যান্ড থেকে ডিপ্লোমা ইন এনড্রোক্রাইনজি সমাপ্ত করেন। ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী ১৯৭৬ থেকে ৭৮ সন পর্যন্ত ছাত্রলীগ সিলেট মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ থেকে ৭৯ সাল পর্যন্ত সিলেট মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও ১৯৮০ সনে ইন্টার্ণি ডক্টারস এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ২ মেয়াদ হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী দীর্ঘ বছর হবিগঞ্জ জেলা বিএমএ, স্বাচিপ, হবিগঞ্জ জেলা ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে হবিগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাইমুদ্দিন এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য।

Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular